১৮ কিলামিটার পুরু পলি জমে সৃষ্টি বাংলাদেশের!

প্রায় ১৮ কিলোমিটার উচ্চতার পলি জমে জমে তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ নামক ব-দ্বীপ। 

বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে সমুদ্রপৃষ্ঠের পাথরের উপর জমা হওয়া পলিমাটির আস্তরের ওপর। প্রায় ২২ মিলিয়ন বছর আগে সমুদ্রপৃষ্ঠ তৈরি হয়েছে ব্যাসাল্ট পাথর দিয়ে। 

অন্য দেশগুলো মহাদেশীয় শক্ত মাটি বা ‘কন্টিনেন্টাল ক্রাস্ট’ এর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। কন্টিনেন্টাল ক্রাস্টের গ্রানাইট কাঠামো তৈরি হতে সময় নিয়েছে কয়েক বিলিয়ন বছর!   

ভারতের হায়দ্রাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় উঠে এসেছে এসব তথ্য। 

তারা জানায়, মহাদেশগুলো দাঁড়িয়ে আছে টেকটোনিক প্লেট বা মহাদেশীয় প্লেটের ওপর। গ্রানাইট পাথরের কারণে এরা বেশ শক্তপোক্ত অবস্থানে আছে। কিন্তু সম্প্রতি উত্তর বাংলার মধ্যপাড়ায় একটি খনি খনন করার সময় এক সমস্যা দেখা দেয়। কূপ খনন করার জন্য ড্রিল করা শুরু করলেও ১৮ কিলোমিটার পলিমাটির জন্য তলার পাথর পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।  

হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের জাতীয় সমুদ্রবিদ্যা ইন্সটিটিউটের প্রধান কে শ্রিনিবাস জানান, ১৮ কিলোমিটার পলির স্তর ভেদ করে খনন করা সমস্যাজনক। মহাদেশীয় পাথরগুলো ১৮ কিলোমিটার উঁচু পলিমাটির ভার সইতে পারে না। এভাবে পলি জমতে জমতে একসময় পাহাড়ের মতো বাড়তে থাকবে এবং এর ভারে নিচের দিকে দেবে যাবে।

গবেষক এম ইসমাইল, কে শ্রীনিবাস এবং ডি সাহা বলেন, গঙ্গা এবং ব্রহ্মপুত্র নদীর বয়ে আনা পলি জমে জমে ১৮ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছেছে। আর এই পাললিক আস্তরের ওপর গড়ে উঠেছে বাংলা। অর্থাৎ ভারতের কলকাতার পূর্ব অংশ আর পুরো বাংলাদেশ।    

তারা বলেন, ভূতাত্ত্বিক জরিপ থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে, আজ থেকে ২৩ মিলিয়ন বছর আগে বঙ্গভূমি ছিল মহাসমুদ্রের তলদেশে।   

হায়দ্রাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূসমুদ্র ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিষয়ের অধ্যাপক কে এস কৃষ্ণ বলেন, অধিকাংশ মহাদেশই সমুদ্র থেকে পুরানো। তাই বাংলাদেশ যদি ভারতীয় উপমহাদেশের অংশ হতো, তবে এতে অনেক পুরানো আর বিশাল পাথর থাকার কথা। কিন্তু চিত্রটা আদতেই সেরকম নয়। সুতরাং বলা যায়, বাংলাদেশ তৈরি হয়েছে পাললিক স্তরের উপর।     

সাম্প্রতিক ভূতাত্ত্বিক গবেষণা বলছে, আজ থেকে ২৩ মিলিয়ন বছর আগে সমুদ্রের নিচেই ছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অধিকাংশ অংশের নিচেই নেই বাস্তব কোনো মহাদেশীয় প্লেট ক্রাস্ট। মানে অনেকটা অস্থায়ী মহাসাগরীয় স্তরের উপর দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ। 

গবেষণার প্রতিবেদনটি বলছে, আজ থেকে ৩০০ বছর আগেও পৃথিবীর মহাদেশগুলো সব একত্রে ছিল। এই সুপারকন্টিনেন্টের নাম ছিল প্যানজিয়া। এরপর ২০০ মিলিয়ন বছর আগে প্যানজিয়ার প্লেটগুলো ভাঙতে শুরু করে। আস্তে আস্তে ওপরের দিকের প্লেটগুলো উত্তরের দিকে সরে যায় তারা একত্রে হয় ইউরেশিয়া আর এর নিচের প্লেটগুলো দক্ষিণে সরে যায়, এর নাম হয় গন্ডোয়ানাল্যান্ড। ভারতীয় উপমহাদেশ এই গন্ডোয়ানা প্লেটেই অবস্থিত।  

গবেষণা জানায়, এরপর ১৫০-১২০ মিলিয়ন বছর আগে দক্ষিণের গন্ডোয়ানা থেকে ভারতীয় প্লেট সরে যেতে থাকে উত্তরের দিকে। সরতে সরতে একসময় ৫৫ মিলিয়ন বছর আগে সে ইউরেশিয়া প্লেটকে ধাক্কা দেয়। ভারত উপমহাদেশ আর ইউরেশিয়ার সংঘর্ষে সৃষ্টি হয় হিমালয় পর্বতশ্রেণী। এই সংঘর্ষ থেকেই মূলত ভূমিকম্প হয়।

এতে বলা হয়, ভারত দক্ষিণ থেকে সরে গিয়ে উত্তরে গেলে দক্ষিণে মহাসমুদ্র উন্মুক্ত হয়। এটাই হলো ভারত মহাসাগর। বঙ্গোপসাগর সেই ভারত মহাসাগরেরই অংশ।