যশোরের শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখন নিজেই রোগী। চিকিৎসক স্বল্পতা, যন্ত্রপাতি অপ্রতুল, অপরিচ্ছন্নতা, রোগীদের ওষুধ সরবরাহ থেকে বঞ্চিতসহ নানা সংকটে জর্জরিত শার্শা উপজেলার নাভারণে অবস্থিত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি।
জানা যায়, শার্শার ১১টি ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ১৯৬২ সালে নির্মিত হাসপাতালটি এখন শার্শা ও ঝিকরগাছা উপজেলার মানুষের একমাত্র নির্ভরতার জায়গা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কোনো সুযোগ-সুবিধাই বাড়েনি এ হাসপাতালে। লোকবল, যন্ত্রপাতি, চিকিৎসাসামগ্রীসহ সবকিছু এখনো পুরনো ধাঁচের। হাসপাতালে প্রতিদিন তিন শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। গড়ে পাঁচ থেকে আটজন রোগী ভর্তি হন।
তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে মেডিকেল কর্মকর্তার পদসংখ্যা ২২টি থাকলেও খাতা-কলমে আছেন চারজন। কিন্তু কর্মরত পাওয়া যায় মাত্র তিনজনকে। বাকি একজন প্রায় সব সময় থাকেন ছুটিতে। ২০১৫ সালের ৩ মার্চ থেকে হাসপাতালটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখানে কোনো জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বহির্বিভাগে টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও চিকিৎসক না থাকায় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।
হাসপাতালটির একমাত্র এক্স-রে মেশিন প্রায় সময় থাকে নষ্ট। মাঝেমধ্যে ঠিক হলেও থাকে না ফিল্ম। অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকায় দরিদ্র রোগীদের বাধ্য হয়ে ৩৬ কিলোমিটার দূরে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয়। হাসপাতালে প্যাথলজি বিভাগ থাকা সত্ত্বেও কমিশনের আশায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের বাইরের ক্লিনিকে পাঠানো হয়। ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার মান দিন দিন নিম্নমানের হয়ে পড়ছে।
সেবাপ্রত্যাশী নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, এখানকার রোগীরা হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ পান না। জরুরি বিভাগে সাধারণ চিকিৎসা দেওয়া, রোগীদের অতি নিম্নমানের খাবার ও নোংরা বিছানা পরিবেশন করা হয়। শৌচাগারগুলোর অবস্থা আরও শোচনীয়। সার্জারি রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও অপারেশন থিয়েটার ও যন্ত্রপাতির সংখ্যা বাড়েনি। হাসপাতালে নেই কোনো ডেন্টাল, গাইনি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ।
স্থানীয়দের অভিযোগে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৮টায় অফিস শুরুর নিয়ম থাকলেও ডাক্তার আসেন সাড়ে ১০টায়। উপজেলার একমাত্র এই সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে রোগীরা সকাল ৮টার সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও ১০টার আগে বহির্বিভাগে টিকিট দেওয়া হয় না। অনেক সময় টিকিট সংগ্রহ করেও চিকিৎসকের দেখা পান না রোগীরা। বাধ্য হয়ে পাশের বেসরকারি হাসপাতালই তাদের ভরসা।
হাসপাতালটির আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. এনাম উদ্দিন বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে আমার ডিউটি করার কথা না। ডাক্তার স্বল্পতার কারণে আমাকেই দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। আমরা বাড়তি যেটুকু করি তা রোগীদের অনুরোধে করি।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. অশোক কুমার সাহা বলেন, ‘হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় খাতা-কলমে উন্নীত হলেও প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানো হয়নি। জনগণের চাহিদামতো সেবা দিতে পারছি না শুধু ডাক্তার ও অন্যান্য জনবলের অভাবে।’