জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ভাষণ বেশ সাড়া ফেললেও প্রতিবেশী ভারত এর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
পাক প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে উঠে আসে আফগানিস্তান যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার অন টেরর, ইসলামোফোবিয়া, কাশ্মীর প্রসঙ্গ।
কাশ্মীর নিয়ে বলতে গিয়ে ভারতের কড়া সমালোচনাও করেন তিনি। তবে এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় ভারত।
আনন্দবাজার জানায়, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফার্স্ট সেক্রেটারি বিদিশা মৈত্র বলেন, “এটা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক যে, পাক প্রধানমন্ত্রী গোটা বিশ্বকে আড়াআড়িভাবে ভাগ করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আমরা-ওরা, ধনী-গরিব, উত্তর-দক্ষিণ, উন্নত-উন্নয়নশীল এবং মুসলিম-অন্যান্য। তার এই ভাষণ প্ররোচনামূলক, সেই সঙ্গে ঘৃণায় ভরা।”
পাশাপাশি তিনি এও অভিযোগ করেন, জাতিসংঘের মঞ্চকে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছেন ইমরান। যে ধরনের শব্দ ইমরান প্রয়োগ করেছেন, তার মধ্য দিয়েই তার মধ্যযুগীয় মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে। যা একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে একেবারেই অনভিপ্রেত।
কংগ্রেস নেতার বক্তব্যের উদাহরণ দিয়ে ইমরান তার বক্তব্যে দাবি করেন, “ভারতে আরএসএস ক্যাম্পে জঙ্গি তৈরি হয়। এই জঙ্গিরাই গুজরাটে ২০০০ জনকে হত্যা করেছিল। ঘরছাড়া হয়েছিল দেড় লাখ মুসলিম”
এ প্রসঙ্গে ইমরানকে কটাক্ষ করে বিদিশা বলেন, “জাতিসংঘের তালিকাভুক্ত ১৩০ জন জঙ্গি যে তাদের দেশে নেই, পাকিস্তান এটা অস্বীকার করতে পারবে? ওসামা বিন লাদেনকে যারা আশ্রয় দেয়, তাদের মুখে এই দাবি মানায় না।”
ইমরান তার বক্তব্যে ভারতের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। কাশ্মীরের প্রসঙ্গ তুলে আন্তর্জাতিক মঞ্চের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করেন। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ভারতের এই কূটনৈতিক জানান, যে দেশে সংখ্যালঘুদের অবস্থা শোচনীয়, তারা যেন ভারতকে মানবাধিকারের পাঠ পড়াতে না আসে।