ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে না যাওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিজয় একাত্তর হলের এক ছাত্রকে ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে পিটিয়েছে কর্মীরা। এ সময় ওই ছাত্রকে হল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয় তারা।
মারধরের শিকার ওই ছাত্র জানান, হলের ছাত্রলীগ নেতা তাকে হুমকি দেন ‘প্রোগ্রামে যাবি নাকি হল ছাড়বি’।
অভিযোগে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে বিজয় একাত্তর হলের অতিথি কক্ষে ওই ছাত্রকে মারধরের ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার ছাত্রের নাম রানা আখন্দ। তিনি সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রথম বর্ষের ছাত্র।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জাতীয় জাদুঘরে ছাত্রলীগের একটি অনুষ্ঠান ছিল। ব্যক্তিগত কাজ থাকায় সেখানে যেতে পারেননি রানা আখন্দ। পরে ওই দিন রাতেই প্রথম বর্ষের ছাত্রদের অতিথি কক্ষে ডাকে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সেখানে কর্মসূচিতে না যাওয়ায় রানা আখন্দকে হাতে থাকা স্টাম্প দিয়ে মারধর করে ছাত্রলীগের রাব্বী আহম্মেদ।
জানা যায়, কর্মসূচিতে নিজের অনুসারীদের উপস্থিতি কম থাকায় ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথম বর্ষের সবাইকে অতিথি কক্ষে নিয়ে মারধরের নির্দেশ দেন হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ। হারুন ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের অনুসারী।
জানতে চাইলে ভুক্তভোগী রানা আখন্দ দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমার ব্যক্তিগত কাজ থাকায় অনুষ্ঠানে যেতে পারেনি। তাই রাতের বেলা গেস্টরুমে ডেকে স্টাম্প দিয়ে মারধর করা হয়।
অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা রাব্বী আহমেদের ব্যক্তিগত ফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি সোমবার সর্বশেষ গেস্টরুমে গিয়েছি। এমন মারধর হয়েছে কি না জানি না।
হল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি বিষয়ে তিনি বলেন, আমার এমন কোনো নির্দেশনা ছিল না। কেউ করে থাকলে আমি ব্যবস্থা নিব।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় দেশ রূপান্তরকে বলেন, এটা কোনোভাবে উচিত নয়। আমি খোঁজ নিচ্ছি। যদি সত্য হয় তাহলে ব্যবস্থা নেব।
আবাসিক ছাত্ররা অভিযোগে জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হলগুলোতে অতিথিদের সাময়িক বিশ্রামের জন্য গেস্টরুম আছে। তবে সেখানে রাতের বেলা ‘রাজনৈতিক শিষ্টা’চার শেখানোর নামে ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছাত্রদের গভীর রাত পর্যন্ত মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া যায়।
এ ছাড়া সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সাতটি নির্দেশনাবলি দেয় ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস এবং সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন।
সেখানে পাঁচ নম্বরে আবাসিক হলের গেস্টরুমে যেকোনো অসৌজন্যমূলক কর্মকাণ্ড হতে নেতাকর্মীদের বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।