আফগানিস্তানে গতকাল শনিবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০০১ সালে দেশটির শাসনক্ষমতা থেকে তালেবানরা উৎখাত হওয়ার পর এটা চতুর্থ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন দেশটির নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ, সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান রহমতুল্লাহ নাবিল। দেশটির গণতান্ত্রিক যাত্রায় শেষের দুই ব্যক্তির অবদান রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আফগানিস্তানের এই নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়েছে। যদিও দেশটির তালেবান গোষ্ঠীর একাংশ বিগত সরকারের মতো এবারও নির্বাচনের বিরোধিতা করেছে। প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অক্ষুণœ রাখতে নির্বাচনের ধারাবাহিকতা রাখতে চাইলেও দেশে দীর্ঘমেয়াদে শান্তি অব্যাহত রাখতে কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
২০১৪ সালে ঘানি প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তার জনসমর্থন ক্রমশ কমতে থাকে। ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের কম উপস্থিতির কারণে ঘানিই আবার নির্বাচিত হবেন এমনটা বোঝা যাচ্ছে। ফলে তালেবানদের সঙ্গে শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে আফগান প্রশাসনের একমাত্র প্রতিনিধি হচ্ছেন ঘানি। কিন্তু তালেবানরা ঘানির সঙ্গে কোনো প্রকার শান্তি আলোচনায় আগ্রহী নয়।
গত কয়েক মাসে ঘানিবিরোধীরা তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি দুর্নীতির অভিযোগ আনে। গত মে মাসে প্রেসিডেন্টের সাবেক উপদেষ্টা জেনারেল হাবিবুল্লাহ আহমদজাই ঘানি প্রশাসনের বিরুদ্ধে কিছু দুর্নীতির অভিযোগ আনেন। অতি সাম্প্রতিক কালে ফাঁস হওয়া এক নথিতে দেখা যায়, ঘানি তার ঘনিষ্ঠ এক অর্থনৈতিক উপদেষ্টাকে মাসে ৪১ হাজার ২৫০ ডলার বেতন দিয়েছেন। এ ছাড়া সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমিরুল্লাহ সালেহকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানোর অভিযোগেও অভিযুক্ত হন ঘানি।
ঘানিবিরোধীদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ থেমে নেই। বিরোধী প্রার্থী আবদুল্লাহ পাকিস্তানের কাছ থেকে ৩৯ মিলিয়ন ডলার নিয়েছেনÑ এমন একটি অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে যায়। পক্ষ-বিপক্ষের এই কাদা ছোড়াছুড়ির মধ্যে তালেবানদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কারণে। আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর তালেবানরা এই নির্বাচনকে ‘লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মদদপুষ্ট আফগান প্রশাসন দেশে গণতন্ত্র চায়। তালেবানরা আফগানিস্তানে আর কোনো বিদেশি শক্তির উপস্থিতি চাইছে না। এবারের নির্বাচনে ফের ঘানি জিতলেও দেশটির আদিবাসী নেতারা তাকে স্বীকৃতি দেবে না তা পরিষ্কার। এমন অবস্থায় আফগানিস্তান গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করবে নাকি শান্তির পক্ষে রক্ত ঝরাবে তাই প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।