টাকা দিয়েও খোঁজ মেলেনি নিখোঁজ বাউল সুভাষ রোজারিওর

পাবনার চাটমোহর উপজেলা থেকে পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ সুভাষ রোজারিও (৪০) নামের এক বাউল শিল্পীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় চাটমোহর থানায় সাধারণ ডায়েরি হলেও সীমানা জটিলতার অজুহাতে পাবনা কিংবা নাটোর জেলার সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা না নিয়ে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ পরিবারের।

নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল চামটা গ্রামের বোর্নী সম্প্রদায়ভুক্ত লুকাস রোজারিওর ছেলে সুভাষ ‘খ্যাপা বাউল’ হিসেবে পরিচিত। লালন সাধক সুভাষকে উদ্ধারে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আতঙ্কিত স্থানীয় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়।

নিখোঁজ সুভাষের ভাই লুইস রোজারিও জানান, আমাদের সম্প্রদায়ের প্রাক্তন এই সেমিনারিয়ান সুভাষ রোজারিও জাগতিক ভাবনা ছেড়ে দীর্ঘদিন ধরে বেছে নিয়েছেন বাউল জীবন। লালনের বাণী ছড়িয়ে দিতে গান করেন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, মঞ্চ ও টেলিভিশনে। জনপ্রিয় এই লোক সংগীত শিল্পী ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে নাটোরের জোনাইল গ্রাম থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে পাবনার চাটমোহর রেল স্টেশন থেকে নিখোঁজ হন।

নিখোঁজের পর সুভাষের মোবাইল ও একাধিক অপরিচিত নম্বর থেকে বেশ কয়েকবার মুক্তিপণ চাওয়া হয় বলে জানান পরিবারে লোকজন। লুইস রোজারিও জানান, নিখোঁজের একদিন পর একটি অপরিচিত মোবাইল ফোন নম্বর থেকে কল করে জানানো হয়- সুভাষকে অপহরণ করা হয়েছে এবং তার মুক্তির জন্য ৯০ হাজার টাকা দিতে হবে। আমরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তাদের নম্বরে টাকাও দিয়েছি। কিন্তু চার দিন পরেও আমার ভাইয়ের কোনো সন্ধান পাচ্ছি না। ফোন নম্বরগুলোও বন্ধ।

তিনি আরও জানান, গত শনিবার সন্ধ্যায় সুভাষকে পাওয়া গেছে জানিয়ে দিনাজপুর রেলওয়ে পুলিশের এস আই রিপন বড়ুয়ার সাথে যোগাযোগের জন্য একটি ফোন নম্বর দেন চাটমোহর থানার ওসি শেখ মো. নাসীর উদ্দিন। কথিত এস আই রিপন সুভাষ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় রয়েছে জানিয়ে চিকিৎসার জন্য পরিবারের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৪০০০ টাকাও নেয়। পরে রিপন বড়ুয়া কিংবা সুভাষ কাউকেই হাসপাতালে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজের সহপাঠী ও জোনাইল ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মহসীন আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই সুভাষ আধ্যাত্মিক জীবন বেছে নিয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার দিনেও আমাদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে গেছেন। তার কোন শত্রু নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় মিশন স্কুলের শিক্ষক হিউবার্ড রোজারিও, সহপাঠী আলফুজ্জামান, মহসিন আলী, জমির উদ্দিনও একই কথা বলেন। তারা যেকোনো মূল্যে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেতে সরকারের উচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মো. নাসীর উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি আমার থানা এলাকায় নয়, তাই মামলাটি বরাইগ্রাম থানায় করার জন্য তাদের পরামর্শ দিয়েছি। ভুলে চাটমোহর থানায় সাধারণ ডায়েরি নেয়া হয়েছে, তবে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। দিনাজপুর রেলওয়ে পুলিশের এস আই রিপন বড়ুয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ওই নামে সেখানে কোন পুলিশ সদস্য নেই।

এদিকে বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিলীপ কুমার দাস বলেন, মামলা হবে সেই থানায়, যে থানা এলাকা ঘটনাস্থল। সে ক্ষেত্রে মামলাটি চাটমোহর থানাতেই হওয়ার কথা। আমি এ বিষয়ে আমার পুলিশ সুপার স্যারকে পাবনার স্যারের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাব।

পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।