বেতন-বোনাস না পেয়ে থানায় গৃহকর্মী!

গত এক বছর ধরে এক বাড়িতে কাজ করছেন। সামনে পূজো, তার আগে বেতন ও বোনাস না দিয়েই কাজ থেকে ছাড়িয়ে দিয়েছিলেন গৃহকর্তা। তাতেই ক্ষেপে গিয়ে গৃহকর্মী সোজা চলে যান থানায় অভিযোগ দিতে।

ভারতের ঢাকুরিয়ার পঞ্চাননতলার বাসিন্দা শান্তি চৌধুরী (৫৬)।

গত ৩০ বছর অন্যের বাড়ি বাসন মেজে, কাপড় কেচেই দিন কেটেছে তার। তাই এবার নিজের প্রাপ্য আদায় বুঝে নিতে গত ৬ সেপ্টেম্বর রবীন্দ্র সরোবর থানায় গিয়ে হাজির হন তিনি।

ওই গৃহকর্তার বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করে শান্তিদেবীর দাবি, তার প্রাপ্য থেকে তাকে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

তার অভিযোগ, প্রথম দিকে পুলিশ বিষয়টিকে বিশেষ আমল দেয়নি। কিন্তু ‘পশ্চিমবঙ্গ গৃহপরিচারিকা সমিতি’ শান্তিদেবীর পাশে দাঁড়ানোর পরে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এবার একটু নড়েচড়ে বসেছেন।

অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরে দিন কুড়ি কেটে গেলেও যখন অভিযুক্তকে ডেকে পাঠায়নি থানা, তখন গত ২৬ সেপ্টেম্বর সরাসরি ডিসি (দক্ষিণ-পশ্চিম) অজয় প্রসাদের কাছে অভিযোগ জমা দেন শান্তিদেবী ও সংগঠনের অন্য সদস্যেরা।

তাদের অভিযোগ, পূজোর আগে বোনাস যাতে দিতে না হয়, সে জন্য নানা অজুহাতে পরিচারিকাদের ছাড়িয়ে দেওয়া হয়। একই দিনে ফের অভিযোগপত্র জমা দেন রবীন্দ্র সরোবর থানায়।

এ ব্যাপারে ডিসি (দক্ষিণ-পশ্চিম) অজয় প্রসাদ বলেন, ‘গৃহকর্মীদের এই বিষয়গুলো মূলত ‘সিভিল ডিসপিউট।’ এখানে পুলিশের ভূমিকা সীমিত। তা-ও শান্তিদেবীর বিষয়টি থানাকে দেখতে বলা হয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে রবীন্দ্র সরোবর থানার এক আধিকারিক জানাচ্ছেন, গৃহকর্মীদের সঙ্গে মালিক পক্ষের মৌখিক চুক্তি হয়। তাই পুলিশ শুধু দু’পক্ষকে ডেকে মিটমাট করানোর চেষ্টা করতে পারে।

তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে মালিকপক্ষের সঙ্গে যতবারই যোগাযোগ করা হয়েছে, ততবার জানানো হয়েছে যে তিনি বাড়ি নেই। আমরাও এলাকার পূজোর ব্যবস্থা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। এবার বিষয়টি মেটানোর চেষ্টা করব।’