সহপাঠীর চিকিৎসায় সহায়তা না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

নেত্রকোনা আঞ্জুমান সরকারি আদর্শ স্কুলের এক শিক্ষার্থীর চিকিৎসার জন্য চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে সড়কে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্কুল সূত্রে জানা গেছে, স্কুলের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর চিকিৎসার জন্য দুদিন ধরে চাঁদা ওঠাচ্ছে স্বজন ও সহপাঠীরা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মিলে কিছু টাকা তুলে গত বুধবার ওই শিক্ষার্থীর বাবার হাতে দেন প্রধান শিক্ষক।

কিন্তু স্কুলের ফান্ড থেকে ১ লাখ টাকা দাবি ও বাইরে থেকে টাকা তোলার জন্য প্রত্যয়নপত্র চাইলে স্কুলের নিয়মবহির্ভ‚তভাবে তা দেওয়া যাবে না বলে জানানো হয়। এতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করে। তারা স্কুলের সামনের সড়কে গাড়ি আটকে স্কুলের গেটে তালা লাগিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও প্রশাসন গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শেষে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্কুল কর্তৃপক্ষ আবেদন করে টাকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়।

শিক্ষার্থী সোয়াদ বলে, ‘আমরা যখন টাকা চাইছি আমাদের তারা স্কুল থেকে বের করে দেয়। পরে আমরা বিক্ষোভ করেছি। আমরা ভালোভাবে বলেছি স্কুলের ফান্ডেই অনেক টাকা আছে। প্রায় ১০ বছর ধরে এ পর্যন্ত কোনো টাকা কাউকে দিতে হয়নি। তাহলে টাকাগুলো কোথায় গেল। আমরা সেখান থেকে টাকা চেয়েছি। আমরা তো রাজপথ ছাড়া কোনো উপায় দেখি না।’

এ ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আকলিমা খাতুন বলেন, দুদিন ধরে স্কুলে ডে-মর্নিং শিফট থেকে বাচ্চারা চাঁদা নিচ্ছে। আমাদের শিক্ষকদের কাছ থেকেও কিছু তুলে দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার সেই টাকাগুলো একত্র করে আমি ওই শিক্ষার্থীর বাবার হাতে তুলে দিয়েছি। স্কুলের ফান্ড থেকেও ১০ হাজার টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু তারা ১ লাখ টাকা দাবি করেছে। এখন এত টাকা তো আমি একা দিতে পারব না। নিয়মকানুন আছে। সেগুলো মেইনটেন করে দিতে হবে। এর মাঝে সিক্সের দুটো ছেলে তিন দিন আগে রাস্তায় চাঁদা তোলা নিয়ে ঝামেলা করেছে। তাদের কথা শুনছিলাম ওদের অভিভাবকদের ডেকে।

এর মধ্যে ছেলেরা এসে প্রত্যয়নপত্র চাইছে বাইরে থেকে টাকা তুলতে। কিন্তু সেটা তো এই সরকারি স্কুল থেকে দেওয়া যায় না। স্কুলের ভেতর থেকে নিয়েছে, আমরাও দিয়েছি। কিন্তু বাইরেরটা আমি কেমন করে দিই। এটা না করাতেই তারা স্কুলের সব শিক্ষার্থীকে ডেকে বের করে ফেলে।