অ্যানফিল্ডে সাত গোলের থ্রিলার

ঘরের মাঠে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে হারতে হারতে শেষ পর্যন্ত ৪-৩ গোলে জিতেছে চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল। অথচ অ্যানফিল্ডে প্রথমার্ধের ৩৬ মিনিটের মধ্যে অস্ট্রিয়ান ক্লাব সালসবুর্গের বিপক্ষে ৩-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ইয়ুর্গেন ক্লপের দল। এরপরই ছন্দপতন। দারুণ প্রাণশক্তি নিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় সালসবুর্গ। দ্বিতীয়ার্ধের ৬০ মিনিটের মধ্যে তারা সমতায় ফেরে। শেষ পর্যন্ত ৬৯ মিনিটে মোহামেদ সালাহর গোলে ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে অলরেডরা।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শুরুটা ভালো হয়নি শিরোপাধারীদের। প্রথম ম্যাচে তারা ইতালিয়ান ক্লাব নাপোলির কাছে ২-০ গোলে হেরে যায়। বুধবার আরও একবার বাজে অবস্থার মুখোমুখি হচ্ছিল তারা। শেষ পর্যন্ত লজ্জার হাত থেকে বাঁচিয়েছেন সালাহ। অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের অসাধারণ রেকর্ডও তাদের পক্ষে গেছে। ২০১৭ সালের এপ্রিলের পর থেকে ঘরের মাঠে প্রিমিয়ার লিগ এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোনো ম্যাচেই হারেনি লিভারপুল। বুধবার সালসবুর্গের কাছে হারলে কেলেঙ্কারি হয়ে যেত। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বেলজিয়ামের গেঙ্ককে ৬-২ গোলে হারিয়েছিল সালসব্যুর্গ।

বুধবারের কষ্টার্জিত জয় থেকে শিক্ষা নিতে চান ম্যানেজার ক্লপ, ‘আমরা দরজা পুরোপুরি খোলা রেখেছিলাম, তারা সুযোগটা কাজে লাগিয়েছে। দরজা দিয়ে ঢুকে গোল করেছে। প্রথম যে গোলটা তারা করেছে, তাতে খুব সহজেই আমরা বলের দখল হারিয়েছিলাম। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় গোলটাতেও তাই হায়েছে । ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার সময় প্রতি-আক্রমণে যাওয়ার তেমন মানে হয় না। তবে আজ (বুধবার) সেটাই হয়েছে।’ আরও যোগ করেন ক্লপ, ‘এই ম্যাচে আমরা খুব গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পেয়েছি। ম্যাচের পর শিক্ষা নেওয়ার চেয়ে ম্যাচের সময় শিক্ষা নিতেই আমি বেশি পছন্দ করি। কেননা আমরা যদি ৪-৩ গোলে হেরে যেতাম, সেক্ষেত্রেও একই শিক্ষা পেতাম। কিন্তু এখন আমরা জিতেছি, তিনটি পয়েন্ট পেয়েছি এবং একই সঙ্গে কিছু শিখতেও পেরেছি।’

প্রথমার্ধের ৯ মিনিটে লিভারপুলের প্রথম গোল করেন সাদিও মানে। ২৫ মিনিটে অ্যান্ডি রবার্টসন দ্বিতীয় এবং ৩৬ মিনিটে সালাহ করেন তৃতীয় গোল। এর তিন মিনিট পর হুয়াং হি-চিন ব্যবধান ৩-১-এ নামিয়ে আনেন। দ্বিতীয়ার্ধের ১৫ মিনিটের মধ্যে সালসবুর্গের হুয়াং হি-চান, টাকুমি মিনামিনো ও ফালিং হল্যান্ড তিন গোল করে খেলায় সমতা ফেরান। তবে ৬৯ মিনিটে সালাহ আবার রক্ষা করেন লিভারপুলকে।