ইরানের আলোচিত জেনারেল সোলেইমানিকে ‘হত্যাচেষ্টা নস্যাৎ’

ইরানের কুদস বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যাচেষ্টা নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা প্রধান।

জেনারেল সোলেইমানিকে গুপ্তহত্যার জন্য ইহুদি ও আরবদের পাঠানো একটি দলকে আটক করা হয়েছে বলে জানান গোয়েন্দা প্রধান হোসেইন তায়েব।

তার বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানায়, এই ইরানি কমান্ডারকে হত্যার জন্য ‘হিব্রু ও আরব’ গোয়েন্দাদের ভাড়া করা সন্ত্রাসীদের একটি দল ফাতেমিয়্যের সময় দেশটিতে প্রবেশ করে।

হোসেইন তায়েব বলেন, গুপ্তঘাতকদের দলটি হোসেইনিয়ার (শিয়াদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানস্থল) নিকট সোলেইমানির বাবার মালিকানাধীন একটি বাড়ি কিনতে চেয়েছিল। ওই বাড়ি থেকে তারা হোসেইনিয়া পর্যন্ত সুড়ঙ্গ খোঁড়ার পরিকল্পনা করে। সোলেইমানি শোক অনুষ্ঠানে সেখানে প্রবেশ করা মাত্র ৩৫০ থেকে ৫০০ কেজি বিস্ফোরক দিয়ে ওই এলাকা উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে তারা।

তিনি আরও বলেন, শত্রুরা গত কয়েক বছর ধরে এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিল। কিন্তু আল্লাহর সাহায্যে কোনো কিছু করার আগেই আইআরজিসি তাদের টুঁটি চেপে ধরতে সমর্থ হয়।

আইআরজিসি গোয়েন্দা প্রধান বলেন, যখন প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য তাদেরকে পার্শ্ববর্তী দেশে নেওয়া হয়, তখনো তাদের নজরদারিতে রাখে আইআরজিসি।

তিনি আরও বলেন, “শত্রুরা তাদের এই ষড়যন্ত্র সম্পর্কে ভালোভাবেই ওয়াকিবহাল ছিল। এমনকি ‘দুর্বৃত্ত’ ইহুদি মন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিছুক্ষণ আগে ঘোষণা দিয়েছে যে, ইসরায়েলি সরকার মেজর জেনারেল সোলেইমানিকে হত্যা করতে যাচ্ছে।”

কুদস বাহিনীকে আইআরজিসির বিদেশি শাখা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেশের বাইরে এই বাহিনী তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে থাকে। ইরাক ও সিরিয়া ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এই বাহিনীর সমীহ জাগানো উপস্থিতি রয়েছে বলে মনে করা হয়। কুদস বাহিনীকে এই উচ্চতায় পৌঁছানোর জন্য সোলেইমানিকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়।