আসছে ফুটবল মৌসুম সামনে রেখে দলবদল শুরু হয়েছে অক্টোবরের প্রথম দিন থেকে। যদিও সামনের মৌসুমের ঘরোয়া তিনটি শিরোপায় চোখ রাখা দলগুলো আগেভাগেই ঘর গোছাতে শুরু করেছিল। গতকাল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস তিনজন ফুটবলারকে আনুষ্ঠানিকভাবে সই করিয়েছে। গত মৌসুমে দলটির হয়ে খেলা গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো এবং ফরোয়ার্ড মাহবুবুর রহমান সুফিলের সঙ্গে দলটিতে নাম লিখিয়েছেন গত মৌসুমে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের হয়ে খেলা ডিফেন্ডার ইয়াসিন খান। ক্লাব কর্তারা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিন তাদের বাকি ফুটবলারদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর করবেন।
শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রে শেষ দুটি মৌসুম কাটিয়ে এবার কিংসে যোগ দিতে পেরে খুশি ইয়াসিন খান। আগের দিন জাতীয় দলের জার্সিতে জোড়া গোল করেছেন। আর গতকাল আকর্ষণীয় এক চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেন। যদিও পারিশ্রমিক কোনো পক্ষই প্রকাশ করছে না। তবে কথা বলে যা বোঝা গেল তাতে ইয়াসিন এবার নিজের ক্যারিয়ারের সেরা পারিশ্রমিকটাই পাচ্ছেন, ‘এই মুহ‚র্তে এই ক্লাবটিকে একদম পরিপূর্ণ মনে হয়েছে আমার। সতীর্থদের মুখে শুনেছি কিংসের পেশাদারত্বের গল্প। তাই এখানে এসেছি এবং এএফসি কাপের মিশনে সফল হওয়ার চেষ্টা করব।’
বসুন্ধরা কিংসে খেলা এখন অনেকের কাছে বড় প্রাপ্তি। এমনিতে লোভনীয় পারিশ্রমিক তো একটি ব্যাপার, তার ওপর ক্লাবটির পেশাদারত্ব এবং অবকাঠামো দারুণভাবে টানছে পেশাদার ফুটবলারদের। ইয়াসিন বলেন, ‘কিংস যে সেরা দল সেটা তারা প্রথমবার এসেই প্রমাণ করেছে। এখন তাই এই ক্লাবের প্রস্তাবের জন্য অনেকেই অপেক্ষা করে। আমি ভাগ্যবান তারা আমাকে এখানে খেলার সুযোগ করে দিচ্ছে।’
কিংস সভাপতি ইমরুল হাসান দল গঠনে নিজেদের লক্ষ্য খোলসা করেছেন। মূলত এএফসি কাপের জোনাল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার টার্গেট নিয়ে গতবারের চেয়ে শক্তিশালী দল গড়তে চাইছেন তারা। ‘গতবারের ১২ জন খেলোয়াড়কে এবার রেখে দিচ্ছি আমরা। এর মধ্যে ইনজুরির কারণে সম্প্রতি অস্ত্রোপচার হওয়া মিডফিল্ডার মাসুক মিয়াও আছেন। যদিও এই মৌসুমে তার খেলা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে, তারপরও আমাদের আগেই প্রতিশ্রæতি ছিল তাদের দলে ভেড়ানোর। তাই তাকে প্রতিশ্রæত পারিশ্রমিক দিয়েই রাখছি’Ñ বলেছেন ইমরুল।
এর বাইরে গতকাল স্বাক্ষর করা জিকো এবং সুফিল ছাড়াও কিংসে পুরনোদের মধ্যে থেকে যাচ্ছেন গোলরক্ষক মিতুল হাসান এবং মাকসুদুর রহমান মোস্তাক, ডিফেন্ডার নুরুল নাঈম ফয়সাল, সুশান্ত ত্রিপুরা, উইঙ্গার মোহাম্মদ ইব্রাহিম, মিডফিল্ডার ইমন বাবু, আলমগীর কবির রানা, ফরোয়ার্ড তৌহিদুল আলম সবুজ এবং মতিন মিয়া। এছাড়া আবাহনী থেকে ডিফেন্ডার তপু বর্মণ এবং মিডফিল্ডার আতিকুর রহমান ফাহাদকে নেওয়া নিশ্চিত করেছে দলটি। এ দুজনই চোটের কারণে আবাহনীর হয়ে গত মৌসুমে বেশ কিছু ম্যাচ খেলতে পারেননি।
বিদেশি নিয়োগেও এবার আরও অর্থ ঢালতে চাইছে কিংস। কোস্টারিকার বিশ্বকাপ তারকা দানিয়েল কলিনদ্রেসকে এর মধ্যেই নিশ্চিত করেছে তারা। এছাড়া লেবানন থেকে উড়িয়ে আনা হয়েছে জাতীয় দলের এক ডিফেন্ডারকে। ইমরুল বলেন, ‘গতবার রক্ষণভাগে আমরা বেশ সমস্যায় পড়েছিলাম। এবার তাই ডিফেন্সে জোর দেওয়া হচ্ছে।।’ তিনি আরও জানান, ‘আসলে এএফসি কাপের জোনাল ফাইনাল জিতে মূল ফাইনালে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য। সে কারণে গতবারের চেয়ে শক্তিশালী দল গড়তে চাই।’
কিংস অবশ্য বর্ষীয়ান ডিফেন্ডার নাসিরউদ্দিন চৌধুরী, মিডফিল্ডার হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাসের মতো কয়েকজনকে ছেড়ে দিয়েছে গত মৌসুমে ভালো করতে না পারায়।