খালেদা জিয়া আপোসহীন নেত্রী- এই উপাধি খারিজ করার চেষ্টা করে সরকার ধরা খেয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, খালেদা কোনও ধরনের আপোস, সরকারের সাথে সমঝোতা বা প্যারোলে মুক্তি নিবেন না। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তিনি মুক্তি লাভ করবেন।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে খালেদার মুক্তির দাবিতে জিয়া শিশু-কিশোর মেলা কেন্দ্রীয় সংসদ আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, দলের সংসদ সদস্যরা কারাবন্দি চেয়ারপারসনের মুক্তির জন্য দৌড়ঝাপ করেছিলেন। তারা নেত্রীর আপোষহীন উপাধি খারিজ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছেন। কারণ খালেদা জিয়া সরকারের অনুকম্পা নিয়ে মুক্তি নেবেন না। প্যারোলে মুক্তি নেবেন না।
তিনি সরকারকে হুশিয়ার করে বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যু জেলখানায় হলে তার দায় বহন করার ক্ষমতা আওয়ামী লীগ সরকারের নেই। প্রতিদিন কত মামলার রায় হয় কিন্তু খালেদা জিযার মামলার রায় হয় না। আদালত বিব্রতবোধ করেন। আজ যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন তারা একদিন এর পরিণতি ভোগ করবেন।
চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে গয়েশ্বর বলেন, যে দেশের প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিকে লালন করেন, প্রশ্রয় দেন সেই দেশে ছোটখাটো দুই-একটা টোকাই ধরে কিছু সময়ের জন্য চমক সৃষ্টি করা যেতে পারে। প্রকৃত অর্থে দুর্নীতির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা যায় না। আমরা মনে করি এই জনসমর্থনহীন সরকার দেশকে একটি দেউলিয়া রাষ্ট্রে পরিণত করছে। পরিস্থিতি থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর জন্য ছোটখাটো খুচরা নাটক করছে।
বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ব্যাংকে গচ্ছিত টাকার হিসাব অনুযায়ী দেশে ৭৬ হাজার কোটিপতি রয়েছে। পাঁচ বছর আগে যা ছিল ১৯ হাজার। আর যে পরিমাণে টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে সেই হিসেব করলে দেশে কোটিপতির সংখ্যা কত হবে তার ঠিক নেই। কোটিপতিদের তালিকা প্রকাশ করা হলে দেখা যাবে সবাই আওয়ামী লীগ করেন। আওয়ামী লীগ ছাড়া কেউ কোটিপতি হয়নি। সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হয়ে গেছে।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি জাহাঙ্গীর শিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কবি আবু সালেহসহ সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।