ফোনালাপের নথি চায় ৩ কমিটি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন তদন্ত প্রক্রিয়া বেশ জোরেশোরে চালাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপসংক্রান্ত নথিপত্র চেয়ে গত শুক্রবার হোয়াইট হাউজ বরাবর সমন জারি করেছে প্রতিনিধি পরিষদের তিনটি কমিটি।

গত শুক্রবারের চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের পররাষ্ট্র, গোয়েন্দা ও ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যানরা ১৮ অক্টোবরের মধ্যে ওই নথিপত্র দিতে সময় বেঁধে দিয়েছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের কাছ থেকে ওই নথিপত্র পাওয়ার আশা করছে ডেমোক্র্যাটরা। যদিও হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি স্টেফানি গ্রিশাম বলেছেন, ডেমোক্র্যাটদের এমন চাপেও ‘কোনো কিছুই বদলাবে না’।

হাউজ ওভারসাইটের চেয়ারম্যান এলিজাহ কামিংসের জারি করা সমনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পে ফোনালাপ ছাড়াও সে দেশকে দেওয়া অর্থসহায়তা-সংক্রান্ত নথি চেয়েও অনুরোধ করা হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, হাউজ ডেমোক্র্যাটরা এবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নতুন আঙ্গিকে তদন্ত করতে যাচ্ছে।

জেলেনস্কির সঙ্গে গত ২৫ জুলাইয়ের ফোনালাপে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার ছেলে হান্টারের দুর্নীতি তদন্তে চাপ দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের করা এক নথিতে বিষয়টি জায়গা পেয়েছে বলে জানা যায়। ফোনালাপের কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প ইউক্রেনের ৪০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা আটকে দিয়েছিলেন। বাইডেন ও তার ছেলের বিরুদ্ধে তদন্তের ব্যাপারে জেলেনস্কির সঙ্গে দর-কষাকষির অংশ হিসেবেই ট্রাম্প এমনটা করেছিলেন বলে দাবি সমালোচকদের।

২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে জনমত জরিপে বাইডেন অনেকখানি এগিয়ে আছেন। সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতেই ট্রাম্প ওই পথ বেছে নিয়েছিলেন বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্যক্তিস্বার্থে বিদেশি একটি রাষ্ট্রকে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের পথ করে দিয়েছেন বলেও ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করছেন।

প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ ডেমোক্র্যাটরা ভোট দিয়ে ট্রাম্পের অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করলেও সিনেটের শুনানি ও ভোটে তা আটকে যেতে পারে। ট্রাম্পকে সরাতে হলে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশের অনুমোদন লাগবে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচ্চকক্ষে ট্রাম্প-সমর্থকের পাল্লা ভারী হওয়ায় অভিশংসন প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে বলেও মনে করা হচ্ছে।

সমন অনুযায়ী হোয়াইট হাউজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ২৫ জুলাইয়ের ফোনালাপের তথ্য না দিলে তাও ‘কংগ্রেসের কার্যক্রমে বাধা’ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে সতর্ক করেছে কংগ্রসনাল কমিটি। আর এমনটা হলে তাও ‘অভিশংসনযোগ্য অপরাধ’ হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের ওই তিন কমিটির সদস্যরা।

মাইক পেন্সের মুখপাত্র কেটি ওয়াল্ডম্যান সিএনএনকে বলেন, ‘এই সমনকে কোনো জরুরি অনুরোধ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। এটা কিছু করতে না পারা ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে আরেকটি চেষ্টা, যার মাধ্যমে তারা অভিশংসন করতে চাইছেন। তাদের চেষ্টা আমাদের লক্ষ্যচ্যুত করতে পারবে না। ট্রাম্প প্রশাসন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও সেনাশক্তি বৃদ্ধির কাজ চালিয়ে যাবে।’

হোয়াইট হাউজের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ট্রাম্প-জেলেনস্কির ওই ফোনালাপ গোপন করতে চেয়েছিলেন, এক হুইসেলব্লোয়ারের এমন অভিযোগের সূত্র ধরেই কংগ্রেসনাল কমিটিগুলো প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের তদন্তে নামে।