কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না মোহাম্মদ শরীফ। আর দিন চারেক পর শুরু জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল)। কিন্তু এবারের লিগে খেলা হবে না তার? ভাবতেও পারেন না। তবে ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন। কারণ, দীর্ঘদিন ঢাকা বিভাগের হয়ে খেলা এই মিডিয়াম পেসারকে এবার কোনো দলে রাখেননি নির্বাচকরা। আটটি দলই করা হয়ে গেছে। ঘোষণা বাকি। এই মুহ‚র্তে শরীফ কোথায় যাবেন?
ভিন্ন একটি বিভাগে খেলা যায় কি না সেই চেষ্টা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। বয়স এখন ৩৪ ছুঁই ছুঁই। শরীফ শেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন ২০০৭ সালে। ১০ টেস্ট ও ৯ ওয়ানডের ক্যারিয়ার। ১৩২টি ফার্স্টক্লাস ম্যাচে তার শিকার ৩৯৩ উইকেট। রান করেছেন ৩২২২। গেলবারের জাতীয় লিগের প্রথম ম্যাচে ইনজুরিতে পড়ায় বাকি ম্যাচ আর খেলা হয়নি। এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ব্রাদার্স ইউনিয়নের অধিনায়ক ছিলেন। প্রতিদ্ব›িদ্বতামূলক শেষ সেই টুর্নামেন্টে শরীফ ৯ ম্যাচে নিয়েছিলেন ১৪ উইকেট।
ঢাকার ১৪ সদস্যের দলে তিন মূল পেসার হলেন শাহাদাত হোসেন রাজীব, সালাউদ্দিন শাকিল ও সুমন খান। চতুর্থ পেসার হিসেবে রাখা হয়েছে তরুণ হৃদয় খানকে। সুমন-হৃদয়দের মতো নতুনদের জায়গা করে দিতে যে হৃদয় ভাঙছে শরীফের!
‘জাতীয় লিগে আমার উইকেট চারশ’র মতো। রান সাড়ে তিন হাজার প্রায়। তাহলে কোনদিক দিয়ে আমাকে বাদ দেওয়া যায়?’ গতকাল শরীফ দেশ রূপান্তরকে বেশ ক্ষোভের সঙ্গেই বললেন, ‘এখন তারা হয়তো বলছেন তরুণদের জন্য সুযোগ করে দিতে হবে। এটা সরাসরি আমাকে কেউ বলেনি। আমি শুনেছি। কিন্তু এটা তো আমাকে জানানো উচিত ছিল। তারা (নির্বাচকমণ্ডলী) যদি এভাবে করেন তাহলে ব্যাপারটা তো খারাপ।’
বিপ টেস্টে বেঁধে দেওয়া ন্যূনতম ১১ হয়নি। তবে কাছাকাছি ছিলেন। ১০.৭। সেখান থেকে ১১ স্পর্শ করা খুব সম্ভব। ক্ষুব্ধ শরীফ জোর দিয়ে বলছিলেন, ‘জীবনে কখনো পারফরম্যান্সের জন্য বাদ পড়ব না, ফিটনেসের জন্য বাদ পড়ব না। সম্মান নিয়ে খেলে যাব। কিন্তু আমি না বলার আগে তো তারা বলতে পারেন না।’ খুব স্বাভাবিকভাবে পরিস্থিতির কারণে কণ্ঠে চলে আসে হতাশা, ‘বরিশালের সম্ভবত পেস বোলার দরকার আছে। ওখানে হলে খেলব। কারণ খেলাটা দরকার। দেখি কী হয়।’ এর সঙ্গে স্বগতোক্তির মতো উচ্চারণ, ‘এই সময়ে এসে এমন অবস্থায় পড়াৃকী যে বলব। ভাষা নেই।’
শরীফের মতো ঝামেলায় পড়েছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুলও। টেস্ট ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান ঢাকা মেট্রোপলিটনের খেলোয়াড় ছিলেন নিষেধাজ্ঞা পেরিয়ে আসার পরও। কিন্তু তাকে এবার মেট্রোর দলে রাখা হয়নি। চ‚ড়ান্ত দল গড়ার আগেই ব্যাপারটা জেনে আশরাফুল উদ্যোগী হয়েছিলেন। এ দল, সে দল করে শেষ পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে সুযোগ হয়েছে। শরীফ বলছিলেন, কামরুল ইসলাম রাব্বি বরিশালের প্রধান পেসার। পেস লাইন আপে কিছুটা ঘাটতির কথা শুনেছেন। অন্য দলে সুযোগ নেই। কিন্তু ওখানেও একটা অনিশ্চয়তা তো থাকেই।
‘সুযোগ না পেলে আর কী করব বলুন? খেলব না তাহলে।’ মন খারাপ করা জবাব অভিজ্ঞ শরীফের। ১৮ বছরের ক্যারিয়ার পেরিয়ে কঠোর-কঠিন বাস্তবতার মুখে পরিশ্রমী ক্রিকেটার। প্রশ্ন হলো, ক্যারিয়ারের শেষটায় এসে আশরাফুল-শরীফদের এমন অবস্থায় কেন পড়তে হচ্ছে? সম্মান নিয়ে টানাটানি কেন? জবাবটা নির্বাচকদের কাছে।