ক্যানসার রোগী কাশ্মীরি যুবক বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে জানে না পরিবার

জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর থেকে এখন পর্যন্ত  সাড়ে পাঁচ হাজার লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে আছেন শীর্ষ রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে অল্প আয়ের পেশাজীবী, এমনকি অল্প বয়সী শিশুও।

আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ক্যানসার আক্রান্ত এক কাশ্মীরি যুবকের গ্রেপ্তারের ঘটনাও।

৫ আগস্ট সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে বিজেপি সরকার। তার আগের দিন থেকে কঠোর নিরাপত্তা জারি করে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় কাশ্মীরকে।

পরদিন মধ্যরাতে নিরাপত্তার নামে গণগ্রেপ্তার অভিযানে আটক করা হয় ৩৩ বছর বয়সী পারভেজ আহমেদ পালাকে।

কুলগাম জেলার বাসিন্দা ক্যানসার আক্রান্ত এই যুবক বেঁচে আছেন কীনা মারা গেছেন সেই সম্পর্কে দুই মাসেও জানতে পারেনি তার পরিবার।

পারভেজের বাবা মুহাম্মদ আয়ুব পালা (৬০) বলেন, ‘ওই রাতে সেনা সদস্যরা ঘরে ঢুকে তাকে নিয়ে যায়। আমি তাদের পেছনে পেছনে গেলাম। তারা আমাকে লাথি মেরে তাকে গাড়ি তুলে ফেলে।’

মেডিকেল রেকর্ডে দেখা গেছে, ২০১৪ সালে পেপিলারি থাইরয়েড ক্যানসার ধরা পড়ে দুই শিশুর বাবা পারভেজের দেহে।  তার মেডিকেল রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, পারভেজের দেহে অপারেশনও করা হয়েছিল।

এই কাশ্মীরি পরিবার জানায়, তিনি চর্মরোগেও আক্রান্ত। এমনকি তার একটি হাত পক্ষাঘাতের কারণ অচল। সেও একটি চর্মরোগে আক্রান্ত এবং তার একটি হাতে পক্ষাঘাত রয়েছে।

পারভেজকে পাবলিক সেফটি অ্যাক্ট ( পিএসএ) আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

 সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৩৫০ জনকে কাশ্মীরের বাইরে উত্তরপ্রদেশের বেরোলির কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

পারভেজের বাবা বলেন, ‘১৭ আগস্ট উত্তরপ্রেদেশে তাকে দেখতে যাই। তার অসুস্থতার কথা বললেও কারাগার কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে আমাকে দেখা করতে দেয়নি। তার জন্য ওষুধ এবং জামা-কাপড় নিয়ে গিয়েছিলাম। তাকে সেসব দিতে না পেরে ভাঙা হৃদয় নিয়ে ফিরে আসতে হয়েছে আমাকে।’

আয়ুব পালা বলেন, ‘আমি জানি না সে বেঁচে আছে কীনা মরে গেছে। আমি অশিক্ষিত মানুষ, তাই পাশের গ্রামের এক শিক্ষিত লোককে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলাম। এ ছাড়া কাশ্মীর থেকে এত দূরে উত্তরপ্রদেশে যাওয়াও আমার জন্য অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার।’

তার মা শরিফা বলেন, ‘রাতে ঘুমানোর আগে তাকে দুইটি অয়েন্টমেন্ট গায়ে মাখতে হয়। আমরা জানি না সে কেমন আছে। তার জন্য প্রতিদিন আমাদের চোখের পানি ঝরছে।’

সরকারি এক কর্মকর্তার সূত্রে আল জাজিরা জানাচ্ছে, গত দুই মাসে সাড়ে ৫ হাজার কাশ্মীরিকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার জনকে পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়া হয়। আটককৃতদের মধ্যে ৩৫০ জনকে পিএসএ আইনের অধীনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের উত্তরপ্রদেশের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।