ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফেলে যাওয়া মেয়ে নবজাতকটির দায়িত্ব নিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনস্থ আজিমপুর ছোটমনি নিবাস।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর নবজাতক সারাকে হাসপাতালের ওয়ার্ডে ফেলে রেখে চলে যান তার মা ও স্বজনরা।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে আজিমপুর ছোটমনি নিবাসের তত্ত্বাবধায়ক জুবলী বেগম রানুর কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর শিশুটিকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ছোটমনি নিবাসে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ১৩ তারিখ সিজারের মাধ্যমে এই হাসপাতালের গাইনি বিভাগে জন্ম নেয় শিশুটি। এরপর তার মা নাহারসহ শিশুটিকে ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডে রাখা হয়। পর দিন ১৪ সেপ্টেম্বর ওই ওয়ার্ডে শিশুটিকে ফেলে রেখে চলে যান মা নাহার।
এরপর শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। কয়েকদিন পরে শিশুটির মা নাহার হাসপাতালে এসে যোগাযোগ করলেও তিনি শিশুটিকে নিয়ে যেতে অনীহা প্রকাশ করেন এবং কাউকে দত্তক দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেন। তবুও মায়ের ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তিনি বলেন, ‘এতোদিন শিশুটি এই হাসপাতালের এনআইসিইউ'তে চিকিৎসাধীন ছিলো। এখন সে পুরোপুরি সুস্থ হওয়ায় তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন ছোটমনি নিবাসে হস্তান্তর করা হলো।
ছোটমনি নিবাসের তত্ত্বাবধায়ক জুবলী বেগম রানু বলেন, ‘সরকারি ভরণপোষণেই এখন থেকে শিশুটি ছোটমনি নিবাসে বড় হবে। অন্য সব শিশুদের মতই তাকেও লালনপালন করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মুসলিম আইনে দত্তক দেওয়ার কোনো বিধান নেই। যদি কোনো ব্যক্তি শিশুটির বৈধ অভিভাবক হতে চায় তাহলে তাকে অবশ্যই আদালতের স্মরণাপন্ন হতে হবে। আদালত যদি সিদ্ধান্ত নেয় তাহলেই কেউ শিশুটির অভিভাবক হতে পারবে।