মোবাইল ফোনে প্রেমের সূত্র ধরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারীকে রামগঞ্জ থেকে সুধারামের আন্ডারচরে ডেকে এনে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
বর্তমানে ওই নারীকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পুলিশি নিরাপত্তার মাধ্যমে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় সুধারাম থানায় মামলার পর একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নোয়াখালী সদর উপজেলার সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নবীর হোসেন জানান, সুধারাম থানাধীন আন্ডারচর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের নুর ইসলামের ছেলে খোকন (২০) কয়েক মাস থেকে লক্ষ্মীপুর জেলার চর ফলকের রতনপুর গ্রামের মেয়ে বর্তমানে রামগঞ্জ পৌরসভার বাসিন্দার (৩৫) সাথে প্রেম করে আসছিলেন।
শনিবার খোকন বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নোয়াখালী পৌরসভার সোনাপুর আসতে বলেন ওই নারীকে। ভিকটিম সন্ধ্যা ৬টায় রামগঞ্জ থেকে জননী বাসযোগে সোনাপুর আসলে খোকন ও তার বন্ধু মিজান তাকে রাত ৯টায় আন্ডারচরের একটি সুপারি বাগান বাড়িতে নিয়ে যান।
সেখানে মিজান গিয়ে মো. শহিদ (৩৫), মো. সিরাজ (৩২), নুর ইসলাম (৩৫), মো. রশিদকে (২৮) নিয়ে আসেন। তারা দলবদ্ধভাবে ওই নারীকে ধর্ষণ করলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে জ্ঞান আসলে তাকে পুনরায় একের পর এক ধর্ষণ শুরু করলে তার আত্মচিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে এসে ভিকটিমকে উদ্ধার করেন। এ সময় অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।
এলাকার কয়েকজন ওই নারীকে থানায় প্রেরণ করেন।
নারীর শারীরিক অবস্থা খারাপ দেখে সুধারাম থানা পুলিশ তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। বর্তমানে তিনি জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের প্রধান ডা. সালাম ইসলামের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন।
হাসপাতালের ওয়ার্ডে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিনিয়র স্টাফ নার্স জানান, দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হওয়ায় তার ভেজেইনা যথেষ্ট ছিড়ে গেছে যার কারণে রক্তক্ষরণ বন্ধ হচ্ছে না। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খলিল উল্যাহ জানান, পুলিশ রিকুইজিসান দিলে তার মেডিকেল টেস্ট করা হবে।
হাসপাতালের বেডে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন ওই নারী (৩৫) কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তার এক ছেলে (৫) ও এক মেয়ে (৭) রয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর পর রামগঞ্জে বাসা ভাড়া করে থাকেন। তিনি লোকজনের বাসাবাড়িতে কাজ করে সন্তানদের মানুষ করার চেষ্টা করছিলেন।
খোকনের সাথে মোবাইলে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেম হয়। খোকন তাকে দুই সন্তানের পিতৃত্ব দেবে স্বীকার করে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আন্ডারচরে এনে তাকে ধর্ষণ করেছে।
এ ব্যাপারে তিনি নিজে বাদী হয়ে রবিবার রাতে সুধারাম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে খোকন, মিজান, শহিদ, সিরাজ, নুর ইসলাম ও রশিদকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।
নোয়াখালীর পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন জানান, রাতেই পুলিশ প্রধান আসামি খোকনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।