অপরাধের স্বরূপ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে: কাদের

অপরাধের স্বরূপ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আবরার হত্যা ইস্যুতে মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ঘটনার একদিনের মধ্যে অভিযুক্তদের ধরা হয়েছে। সংগঠন থেকেও তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। একটু ধৈর্য ধরুন বাকি সবই হবে। শেখ হাসিনা কঠোর, অপরাধীদের ছাড় দেয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও নেত্রীর মনোভাব জানে।

বুয়েটে ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে চলমান আন্দোলন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, কোথাও আন্দোলনের এতটুকু ঢেউও নেই। বিএনপি নানা সময়ে আন্দোলনের হুংকার দিয়ে আসছে। কিন্তু তাদের ডাকে জনগণ সাড়া দেয়নি। বুয়েটের যে ঘটনা ঘটেছে, আমরা সে বিষয়ে সব ব্যবস্থা নিচ্ছি। এ নিয়ে কোনো আন্দোলনের সুযোগ নেই।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বুয়েটের ভিসি ক্যাম্পাসে যাননি জানালে কাদের বলেন, অসুস্থতার কারণে বুয়েটের ভিসি ক্যাম্পাসে যেতে পারছেন না।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বুয়েটের ওই ঘটনায় আমরাও মর্মাহত। যে ছেলেটি মরেছে, সে মেধাবী। যারা মেরেছে, তারাও মেধাবী। এ রকম পাপাচারে মেধাবীরা জড়িত হলে ভাবনার উদ্রেক হয়। এটি দেশের জন্য ক্ষতিকর। আমরা অপরাধীকে ছাড় দেয়ার পক্ষে নই, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এখানে নেই।

এ সময় বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, নেতিবাচক রাজনীতির কারণে বিএনপি ক্রমাগত হারছে। রংপুরে তো তারা জয়ী হচ্ছে ভেবেছিল, কিন্তু এত জনপ্রিয় দল হলে তাদের এ অবস্থা কেন?

মন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের পাশাপাশি খারাপ দিকটাও আছে। খারাপ দিকের জন্য পুরো দেশের অর্জন ম্লান হয়ে যেতে পারে না। খারাপগুলো ওভারকাম করাটাই বড় বিষয়।

ছাত্রলীগের অপরাধ প্রবণতা নিয়ে সাবেক এ সভাপতি বলেন, ছাত্রলীগ ভালো কাজও করছে, সবই খারাপ কাজ করছে তা তো নয়। গুটি কয়েক কর্মী অপরাধ করলে গোটা ছাত্রলীগকে দোষারোপ করতে পারেন না। অপরাধ যে করে সে অপরাধীই, তার দলীয় পরিচয় মুখ্য নয়। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে কিনা সেটাই মুখ্য।

কাদের বলেন, বিএনপি তাদের আমলে দলীয় কোনো অপরাধীদের সাজা দিয়েছে এমন নজির নেই। আওয়ামী লীগ সেটা করছে। অপরাধ অপকর্ম হলেই সাংগঠনিকের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি আমরা।

তিনি বলেন, দলের পরিচয়ে যারা অপকর্মে লিপ্ত হয়, তখন আগাছা বা পরগাছা বলার সুযোগ নেই। যেহেতু তাকে গ্রহণ করেছি, অপরাধের ব্যবস্থাও নেব। এখানে নতুন কোনো চমক নাই বা চমক দেখাতে চাই না।

এ সময় মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, হারুন-অর-রশীদ, আমিনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামসহ আওয়ামী লীগ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।