ব্যাংকের শাখা নেই, ভোগান্তি ১০ হাজার শিক্ষার্থীর

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) রাষ্ট্রায়ত্ত বা বাণিজ্যিক ব্যাংকের কোনো শাখা না থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার দ্বিতীয় তলায় জনতা ব্যাংকের একটি অস্থায়ী বুথ দিয়ে চালানো হচ্ছে ভর্তি ও ফরম ফিলাপের কার্যক্রম। কিন্তু সেখানেও পর্যাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। আর এই ভোগান্তির কারণ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৯ বছরেও ক্যাম্পাসে ব্যাংকের কোনো শাখা স্থাপন হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দক্ষিণ ফটকসংলগ্ন নিচতলার ডান দিকের একটি কক্ষে জনতা ব্যাংক লালবাগ শাখার অস্থায়ী একটি বুথ দিয়ে ভর্তি ও ফরম ফিলাপের কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। কিছুদিন আগে ওই বুথটিতে দায়িত্বরত জাহিদ নামে এক কর্মকর্তার সঙ্গে টাকা জমা দেওয়া নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়ায় লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখে বুথটি প্রশাসনিক ভবন থেকে ক্যাফেটেরিয়ায় স্থানান্তর করা হয়। তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্যাম্পাসে ব্যাংকের একটি স্থায়ী শাখা স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জনতা ব্যাংকের লালবাগ শাখার মাত্র দুই জন কর্মকর্তা ক্যাম্পাসের ব্যাংক বুথটি পরিচালনা করেন। এই দুই কর্মকর্তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি বিভাগের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর ভর্তি ও ফরম পূরণের ফি গ্রহণ ও রসিদ প্রদান করেন। ফলে বুথের সামনে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় পর ফি জমা দিতে হয়। প্রায় প্রতিদিনই সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ব্যাংক বুথটির সামনে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ লাইন ও জটলা চোখে পড়ে। এমনকি ব্যাংক বুথে ভর্তি ও ফরম পূরণের টাকা জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত ৩ অক্টোবর দুই দল শিক্ষার্থীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন গুরুতরসহ ৬ জন আহত হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানায়, একই দিনে একাধিক বিভাগের ফরম ফিলাপ ও ভর্তির তারিখ থাকার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আরমান নামে এক  শিক্ষার্থী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বুথের লাইনে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে গিয়ে আমাদের অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমাদের সময়ের কোনো দাম নেই। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ভিসি স্যার প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছড়িয়ে যাচ্ছেন। অথচ উনার দায়িত্বকালের দুই বছরেও ক্যাম্পাসে ব্যাংকের একটা শাখা খুলতে পারেননি। কেবল প্রতিশ্রুতি দিয়েই গেছেন।’

আরেক শিক্ষার্থী হুজ্জাতুল ইসলাম আলিফ বলেন, ‘দুই জন কর্মকর্তা সবার ফি গ্রহণ করছেন। এতে সময় বেশি লাগছে। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এখানে কর্মকর্তার সংখ্যা বেশি থাকলে অল্প সময়েই কাজ হয়ে যেত।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থী লাভলী আক্তার বলেন, ‘ফি জমা দিতে এসে প্রতিবারই ভোগান্তির শিকার হতে হয়। দুপুর দেড়টার মধ্যে ব্যাংক বুথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সব শিক্ষার্থী এই সময়ে ভিড় জমায়। ক্যাম্পাসে ব্যাংকের স্থায়ী শাখা থাকলে বা বুথ বেশি থাকলে আমাদের এই ভোগান্তির শিকার হতে হতো না।’

শিক্ষার্থীদের এই দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ক্যাম্পাসে ব্যাংকের শাখা স্থাপন আমাদের অগ্রাধিকার তালিকায় আছে। ইতিমধ্যে একটি সরকারি ব্যাংক ও বেশ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।’