ডেঙ্গু রোগে মৃত্যুর ১৯ বছর আগের রেকর্ড ছুঁয়েছে এ বছর। বৃহস্পতিবার ডেঙ্গুতে আরও ১২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর ফলে এ বছর ডেঙ্গুতে সরকারি হিসাবে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৯৩ জন। এর আগে এক বছরে সর্বোচ্চ মৃত্যু ছিল ২০০০ সালে ৯৩ জন।
অধিদপ্তরের কাছে এ বছর ডেঙ্গু সন্দেহে ২৪২ জনের মৃত্যুর তথ্য এসেছে। এদের মধ্যে অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) ১৫১টি মৃত্যুর তথ্য পর্যালোচনা করে ৯৩ জনের ডেঙ্গুতে মৃত্যু নিশ্চিত করেছে।
মৃত্যু হওয়া ৯৩ জনের মধ্যে এপ্রিলে ২ জন, জুনে ৬ জন, জুলাইয়ে ৩৪ জন, আগস্টে ৪৭ জন, সেপ্টেম্বরে ৪ জন মারা গেছে। এ ছাড়াও ডেঙ্গুতে এক শিশুসহ আরও দুজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছেন দেশ রূপান্তরের প্রতিনিধিরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রথম ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয় ১৯৯৯ সালে। তবে ওই সময়ে কত রোগী আক্রান্ত হয়েছিল বা কতজন মারা গিয়েছিল তার হিসাব সংরক্ষিত নেই প্রতিষ্ঠানটির কাছে। তবে ২০০০ সালে ৫ হাজার ৫৫১ রোগী ভর্তি হয়েছিল। এদের মধ্যে ৯৩ জনের ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের আগে এটাই ছিল এক বছরের সর্বোচ্চ মৃত্যু।
এ ছাড়া ২০০০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে এক বছরে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ছিল গত বছর ১০ হাজার ১৪৮ জন। কিন্তু এ বছরের জুলাইয়ে এই রেকর্ড ভেঙে যায়। ওই মাসেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ১৬ হাজার ২৫৩ জন। বিগত ১৯ বছরে হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগী ছিল ৫০ হাজার ১৭৬ জন, যা চলতি বছরের আগস্টের মোট রোগীর চেয়েও কম। আগস্টে সারা দেশে ভর্তি রোগী ছিল ৫২ হাজার ৬৩৬ জন। এ ছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৩৮ জন, ফেব্রম্নয়ারিতে ১৮ জন, মার্চে ১৭ জন, এপ্রিলে ৫৮ জন, মে মাসে ১৯৩ জন, জুনে ১ হাজার ৮৮৪ জন, সেপ্টেম্বরে ১৬ হাজার ৮৫৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল।
অধিদপ্তর জানায়, দুদিন কমার পর গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আবারও বেড়েছে নতুন ডেঙ্গু রোগী। ওই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩১৬ জন ভর্তি হয়েছেন।
এদের মধ্যে রাজধানীতে ৯১ জন এবং রাজধানীর বাইরে ২২৫ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর সারা দেশে ৯১ হাজার ১১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮৯ হাজার ৫৭৯ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১ হাজার ২৯৪ জন, যা বিগত ৩ মাসের মধ্যে সর্বনিমœ।
এদের মধ্যে রাজধানীতে ভর্তি আছেন ৪৫২ জন এবং রাজধানীর বাইরে ৮৪২ জন।
আমাদের খুলনার নিজস্ব প্রতিবেদক জানিয়েছেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাছুরা বেগম (২৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার হাবিবুল্লাহর স্ত্রী।
এ নিয়ে খুলনা শহরে চিকিৎসাধীন ২০ ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হলো। আর গত ৫ দিনে ৮ নারী ডেঙ্গুতে মারা গেল। এদের মধ্যে ৬ জনই খুলনা বিভাগের।
আমাদের চাঁদপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আব্দুল কাদের (১৩) নামের ডেঙ্গু আক্রান্ত এক শিশু মারা গেছে। কাদের চাঁদপুর শহরের জামতলা রোড এলাকার আমিন গাজীর ছেলে। একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কাজ করত কাদের।