ত্বকের অ্যাকানথোসিস নাইগ্রিক্যানস

ত্বকের নানা সমস্যার মধ্যে রং কালো হয়ে যাওয়া বা অ্যাকানথোসিস নাইগ্রিক্যানস একটি। অনেকেরই এ সমস্যা দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে কুঁচকির ত্বকে সংক্রমণ। যেমন : ক্যানডিডা সংক্রমণ এবং লসিকানালিতে পানি জমা হয়। স্থূল শরীরের ব্যক্তিদেরই বেশি এ সমস্যা দেখা যায়। নানা কারণে ঘাড়ের পেছনে কালো দাগ দেখা দেয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর নাম অ্যাকানথোসিস নাইগ্রিক্যানস। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ইনসুলিন হরমোনের অকার্যকারিতা। ওজনাধিক্যই এর প্রধান কারণ। এ ছাড়া অন্যান্য হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, বংশগত, বিভিন্ন ওষুধের কারণে বা পাকস্থলী বা ফুসফুসের ক্যানসারেও এমন হতে পারে।

লক্ষণ

ঘাড়ের সঙ্গে কনুই, হাঁটু, হাত-পায়ের আঙুলের ওপরের অংশ, বগল, রানের ভাঁজ ইত্যাদি স্থানও অস্বাভাবিক কালো বর্ণ ধারণ করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে চামড়ার ছোট ছোট দানা বা স্কিন ট্যাগ ঘাড়ে ও বগলে দেখা যায়। ঘাড়ে কালো দাগের সঙ্গে দ্রুত ওজন বেড়ে চলা, মেয়েদের মাসিকে গোলমাল ইত্যাদি সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। এ ছাড়া অ্যাডিসন রোগ (অ্যাডোনাল গ্রন্থির সমস্যা) মস্তিষ্কের মধ্যে পিটুইটারি গ্রন্থির রোগ, হরমোনের সমস্যা, হাইপোথাইরয়েডিজম এবং গর্ভনিরোধক বড়ি। ঘাড়ের এই কালো দাগ যাদের থাকে তাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি রোগের ঝুঁকি বেশি। ঝুঁকি কমাতে ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্যাভ্যাস জরুরি। প্রয়োজনে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করে তার চিকিৎসা করাতে হবে।

প্রতিকার

অনেক বেশি ভুল খাবার, বিশেষ করে স্টার্চ এবং চিনি খাওয়া, ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে পারে। অনেক সময়, নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত মানুষ এর অ্যাকানথোসিস নাইগ্রিক্যানস হতে পারে। পরিমিত খাবার খাওয়া অ্যাকানথোসিস নাইগ্রিক্যানস কমাতে সাহায্য করতে পারে। অ্যাকানথোসিস নাইগ্রিক্যানসের কিছু উন্নতি হতে পারে। ত্বকের অবস্থা উন্নত করার চিকিৎসাগুলোর মধ্যে রয়েছে জবঃরহ-অ, ২০ শতাংশ ইউরিয়া, আলফা হাইড্রক্সি এসিড, ভিটামিন ডি এবং স্যালিসিলিক এসিড। ওষুধ বন্ধ করা হলে, ড্রাগ দ্বারা সৃষ্ট অ্যাকানথোসিস নাইগ্রিক্যানস দূরে হয়ে যেতে পারে। যখন অ্যাকানথোসিস নাইগ্রিক্যানস স্থূলতা সম্পর্কিত হয়, ওজন অ্যাকানথোসিস নাইগ্রিক্যানস নিয়ন্ত্রণ প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। খাদ্য যা হ্রাসকৃত ইনসুলিনে অবদান রাখে। এ ছাড়া প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পারে। চর্ম ও হরমোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী কারণ দূর করা এবং যথাযথ ক্রিম বা অয়েন্টমেন্ট ব্যবহার করলে অনেকটাই সুফল মেলে।

অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে ডায়াবেটিস এবং ওষুধের মাধ্যমে হাইপারিনসুলিনামিয়া সংশোধন করা। স্থূলতার সঙ্গে সংযুক্ত অ্যাকানথোসিস নাইগ্রিক্যানস, ওজন হ্রাস করুন। টিউমার থাকলে এর চিকিৎসা করা। ওষুধ দ্বারা সৃষ্ট অ্যাকানথোসিস নাইগ্রিক্যানস, এর ওষুধ বন্ধ করা।