মুশফিকের আক্ষেপ, সানির গর্ব

ভারত সফরের আগে আত্মবিশ্বাসটা আরও বাড়িয়ে নিতে রান করার বিকল্প নেই। জাতীয় দলের ওপেনার তামিম ইকবাল আগের দিন মাত্র ৩০ করেছেন। এদিন তার ওপেনিং পার্টনার সাদমান ইসলাম ৬ করেই আউট। মাহমুদউল্লাহ এখনো ব্যাটিংয়ের অপেক্ষায়। তবে এবারের জাতীয় লিগের প্রথম রাউন্ডেই ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ মুশফিকুর রহিমকে হাতছানি দিয়ে ডাকছিল সেঞ্চুরি। রাজশাহীর ব্যাটসম্যান অবশ্য ৭৫ রানে আউট হয়ে আক্ষেপে পুড়লেন।

ওটা ফতুল্লায় প্রথম স্তরের ঢাকা বিভাগ ও রাজশাহী বিভাগের মধ্যকার খেলার খবর। যেখানে মুশফিকের আগে পার্টনারের অভাবে ঢাকার তাইবুর রহমান ৮৮ রানে ছিলেন অপরাজিত। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্রথম দিন কোনো উইকেট না পাওয়া বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত সানি দ্বিতীয় দিনে দুর্ধর্ষ। চট্টগ্রাম বিভাগের বাকি থাকা ৭ উইকেটের ৬টি নিয়েছেন ঢাকা মেট্রোর বোলার। বাদ দেননি সেঞ্চুরির সুবাস পাওয়া তাসামুল হককে। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে তাসামুল বোল্ড হয়েছেন ৯০ রান করে। এটি দ্বিতীয় স্তরের খেলা।

এবারের লিগে প্রথম দিন বৃষ্টির হানা চারটি ম্যাচেই কমবেশি পড়েছিল। দুটি ম্যাচ মাঠে গড়ায়নি। গতকাল অবশ্য সব ভেন্যুতে খেলা হলো। তাও কমবেশি।

মিরপুরে মেট্রো বেশ ভালো অবস্থানে। ৩ উইকেটে ১৪৭ রান নিয়ে দিন শুরু করেছিল চট্টগ্রাম। একপ্রান্ত ধরে রাখা তাসামুলের সঙ্গে মাহিদুল ইসলাম আকন (৩০) পঞ্চম উইকেটে ৬৭ রানের জুটি গড়েছেন। ষষ্ঠ উইকেটে মাসুম খান (২৭) তাসামুলের সঙ্গে ৫৭ রানের পার্টনারশিপ দিলেন। কিন্তু দিনের প্রথম উইকেট বাদে সব নিয়ে নেওয়ার নেশায় ছোটা সানি এরপর আর কোনো জুটি গড়তে দেননি। শেষ ৫ উইকেট ১৫ রানের মধ্যে হারিয়েছে চট্টগ্রাম। তাসামুল ২৪৯ বলে ৭ চারে ৯০ রান করে আউট হলে ২৯০ রানে শেষ হয় চট্টগ্রামের ইনিংস।

চট্টগ্রামের ৫ বোলারের হয়েছে অভিষেক। সাদমান শুরুতে আউট। আরেকটি উইকেট পড়ে দ্রুত। এরপর অবশ্য শামসুর রহমান (অপরাজিত ২৬) ও অধিনায়ক মার্শাল আইয়ুব (অপরাজিত ২১) বিপদ ঘটতে দেননি। ২ উইকেটে ৬৬ রানে দল দিন শেষ করেছে। মেট্রো পিছিয়ে ২২৪ রানে।

ফতুল্লায় ঢাকা বিভাগ চ্যাম্পিয়ন রাজশাহীর বিপক্ষে ৭ উইকেটে ১৪৩ রানে দিন শুরু করে ২৪০ রানে প্রথম ইনিংসে অল আউট। জবাবে মুশফিকের ৭৫ ও অধিনায়ক জহুরুল ইসলামের অপরাজিত ৫৭ রানে ভর করে ৬ উইকেটে ১৭৩ রানে দিন শেষ করেছে রাজশাহী। ৬৭ রানে পিছিয়ে তারা। ভালো লড়াই চলছে ওখানে। জহুরুলের সঙ্গে সাব্বির ১০ রানে অপরাজিত।

এই ম্যাচে ঢাকার তাইবুর রহমান ১২৩ বলে ৮৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। মেরেছেন ৯টি চার ও ১টি ছক্কা। রাজশাহীর বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম ৪টি, পেসার শফিউল ইসলাম ৩টি আর ফরহাদ রেজা ২টি উইকেট নিয়েছেন। ঢাকার তরুণ পেসার দ্রুত ৩ উইকেট নিয়ে রাজশাহীকে ১৪ রানে ৩ উইকেট হারানো দল বানিয়ে দেন। ঢাকা লিগ থেকেই রান করা জহুরুলের সঙ্গে মুশফিক ১২১ রানের জুটি গড়ে বিপদ সামলান। দলের ভিতও গড়েন। ফিফটির মধ্যেই দুই ছক্কা হাঁকানো মুশফিক শট খেলছিলেন খুব। তার ১১৬ বলের ইনিংসে ছিল ৭ চার ও ৩ ছক্কা। স্পিনার শুভাগত হোমের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন মুশফিক।

খুলনায় প্রথম স্তরে খুলনা ও রংপুর বিভাগের ম্যাচের প্রথম দিনের খেলা একদমই হয়নি। দ্বিতীয় দিন হলো ৭২ ওভার। রংপুর ৫ উইকেটে ১৬৯ রান নিয়ে

তৃতীয় দিনে পা রেখেছে। পেসার আল-আমিন হোসেন ও বাঁহাতি অভিজ্ঞ স্পিনার আবদুর রাজ্জাকের বোলিংয়ে শুরুতে চাপে পড়েছিল রংপুর। অভিজ্ঞ নাঈম ইসলাম ৪৮ রান করে শুরুতে সামলেছেন। ২ রানে আউট হয়েছেন অধিনায়ক নাসির হোসেন। তানবীর হায়দার ৪০ ও সোহরাওয়ার্দী শুভ ৩১ রানে অপরাজিত থেকে দলের হাল ধরে আছেন। আল-আমিন ২টি ও রাজ্জাক ২টি উইকেট নিয়েছেন।

রাজশাহীতে দ্বিতীয় স্তরের সিলেট-বরিশাল বিভাগের ম্যাচের প্রথম দিন ভেসে যায় বৃষ্টিতে। দ্বিতীয় দিন দুপুর ৩টায় শুরু হয় খেলা। ৩ উইকেটে ৬৮ রান সিলেটের।