ভারত ফেভারিট তবে আমরা নার্ভাস নই

১৫ অক্টোবর কলকাতার যুবভারতী স্টেডিয়ামে ইগর স্তিমাচের ভারতের সামনে জেমি ডে’র বাংলাদেশ। শক্তিশালী কাতারকে রুখে দেওয়ার পর সুনীল ছেত্রীদের নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন ভারতীয় সমর্থকরা। অন্যদিকে কাতারের কাছে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ হেরেছে। ২০২২ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে দুই প্রতিবেশী দেশের প্রথম লড়াইটা ১৫ তারিখ, ভারতের মাটিতে। আগে সুনীল-গুরপ্রিতদের নিয়ে চিন্তার কথা জানালেন বাংলাদেশের ইংরেজ কোচ জেমি ডে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ ফুটবলের উন্নতির রোডম্যাপও জানিয়েছেন আনন্দবাজারে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে। সেই সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ দেশ রূপান্তরের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো

ক্রীড়াজগতে চলতি বছরটা বেশ ভালোই কেটেছে আপনার দেশের। ইংল্যান্ডের দুরন্ত সব পারফরম্যান্স নিশ্চয় আপনাকেও বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনকারী পর্বে ভালো করার জন্য মোটিভেট করছে।

জেমি : ইংল্যান্ডের জন্য বছরটা সত্যিই দারুণ। তবে সত্যি কথা বলতে কি, ক্রীড়াক্ষেত্রে ইংল্যান্ডের দুরন্ত পারফরম্যান্স থেকে আমরা অনুপ্রাণিত হচ্ছি না। অন্যদিকে না তাকিয়ে নিজেদের পারফরম্যান্স থেকেই আমরা প্রেরণা খুঁজছি। আর বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে ভালো করার জন্য ফুটবলারদের বাড়তি কোনো মোটিভেশনের দরকার আছে বলে আমার মনে হয় না। দেশকে প্রতিনিধিত্ব করাই বিরাট বড় একটা ব্যাপার।

ভারতের বিরুদ্ধে আসন্ন ম্যাচটাকে আপনি কীভাবে দেখছেন? শক্তির দিক থেকে প্রায় সমান সমান দুটো দল একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে, না কি ভারত এগিয়ে থেকে শুরু করছে ম্যাচটায়?

জেমি : কাতারের বিরুদ্ধে ভারত দুর্দান্ত খেললেও ওমানের কাছে কিন্তু ওরা হেরে গিয়েছিল। আফগানিস্তান, কাতারের কাছে আমরা হেরে গেলেও সেই ম্যাচগুলোই আমাদের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। পয়েন্টের দিক থেকে বিচার করলে আমরা ভারতের থেকে মাত্র এক পয়েন্টে পিছিয়ে। ১৫ তারিখ আমার ছেলেরা কিন্তু ভারতের সঙ্গে লড়বে। তবে এটা ঠিক, ম্যাচে ফেভারিট হিসেবেই নামছে ভারত।

আপনার দলের ক্যাপ্টেন জামাল ভুঁইয়ার ফুটবল হাতেখড়ি ডেনমার্কে। এশিয়ার কঠিন কোনো লিগে যদি বাংলাদেশের ছেলেরা খেলেন, তাহলে তো সার্বিকভাবে দলটাও শক্তিশালী হয়।

জেমি : আমার দলের সব ফুটবলারই বাংলাদেশের। বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্লাবেই তারা ফুটবল খেলে। তবে আমি বিশ্বাস করি, ইউরোপ বা এশিয়ার বড় বড় লিগে খেললে, কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলে, ফুটবলাররা সব দিক থেকেই লাভবান হয়। ওদের খেলাতেও উন্নতি ঘটে। বিদেশের লিগে খেলার অভিজ্ঞতা অবশ্য রয়েছে জামালের। তার প্রতিফলন ঘটে ওর খেলায়।

অনেকেই বলছেন, ভারতীয় ফুটবলের উন্নতির পেছনে রয়েছে আইএসএল। কিন্তু আইএসএলে বাংলাদেশের কোনো ফুটবলারকে খেলতে দেখা যাচ্ছে না। আপনার দলের ছেলেরা যদি আইএসএলে খেলতেন, তাহলে তো তারাও লাভবান হতেন।

জেমি : গত কয়েক বছরে ভারতীয় ফুটবলের উন্নতিতে আইএসএল বড় ভূমিকা নিয়েছে। সেটা ওদের খেলা দেখলেই বোঝা যায়। অভিজ্ঞ বিদেশি ফুটবলারের সঙ্গে ড্রেসিংরুম শেয়ার করলে ওদের থেকে অনেক কিছু শেখার, জানার সুযোগ পাওয়া যায়। আমার দলেও অনেক প্রতিভাবান প্লেয়ার রয়েছে। ওরা যদি ইউরোপ বা এশিয়ার বিভিন্ন লিগে খেলার সুযোগ পায়, তাহলে তা বাংলাদেশ ফুটবলের উন্নতিতেই সাহায্য করবে বলে আমার মনে হয়।

বাংলাদেশের ফুটবল মৌসুম শেষ হয়ে গেছে। অন্যদিকে ভারতের ফুটবল মৌসুম সবে শুরু হয়েছে। এটা কি কোনোভাবে প্রভাব ফেলতে পারে ১৫ তারিখ?

জেমি : আমার মনে হয় না। সুনীলরা (ছেত্রী) কিন্তু এখনো একটাও লিগের ম্যাচ খেলেনি। অন্যদিকে বাংলাদেশে ফুটবল মৌসুম মাত্র কয়েক দিন আগে শেষ হয়েছে। লিগ শেষের পর থেকেই আমরা বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের কোনো সমস্যা হবে না। তার উপরে কাতারের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে খেলে ওঠার পরই ভারতের বিরুদ্ধে আমরা নামছি। আমার ছেলেরা খেলার মধ্যেই রয়েছে।

কলকাতার দর্শকদের সামনে খেলতে নামার আগে কি নার্ভাস লাগছে?

জেমি : কলকাতায় দারুণ একটা অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে চলেছি আমরা। এ রকম একটা ম্যাচের দিকেই তো তাকিয়ে থাকে ফুটবলাররা। আমার দলের বেশিরভাগ ফুটবলারই অল্পবয়সী। এই ধরনের ম্যাচ ওদের উন্নতিতে সাহায্য করবে বলেই আমার ধারণা। আমরা একেবারেই নার্ভাস নই।

সুনীলের জন্য নিশ্চয় বিশেষ কোনো পরিকল্পনা রয়েছে আপনার। সুনীলকে থামানোর জন্য কি জামাল ভুঁইয়াকে ব্যবহার করবেন?

জেমি : সুনীল বড় ফুটবলার। ওর উপরে অবশ্যই বিশেষ নজর থাকবে। জামাল আমার দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জামাল দারুণ পারফর্ম করছে। তবে সুনীল, উদান্তাদের থামাতে শুধু জামাল নয়, গোটা দলটাকেই একত্রিত হয়ে লড়তে হবে।

বাংলাদেশের জাতীয় দলকে কোচিং করানোর দায়িত্ব নিলেন কেন?

জেমি : যেকোনো দেশের ফুটবল দলকে নিয়ে কাজ করার সুযোগ সব সময় পাওয়া যায় না। বাংলাদেশ দলে প্রচুর প্রতিভাবান ফুটবলার রয়েছে। তবুও দলটা ভালো ফল করতে পারছিল না। দলের ভাগ্য ফেরানোর এই কঠিন চ্যালেঞ্জটাই আমাকে কোচের দায়িত্ব নিতে উৎসাহিত করেছে।

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেটের তুলনায় বাংলাদেশের ফুটবল সেভাবে এগোতে পারেনি। বাংলাদেশ ফুটবলের সমস্যাটা ঠিক কোন জায়গায়?

জেমি : বাংলাদেশের ক্রিকেট এবং ফুটবলের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো অর্থের। ক্রিকেটের সঙ্গে বড় বড় স্পনসর যুক্ত থাকায় পরিকাঠামোর উন্নতির জন্য সমস্যা হয় না। দুর্ভাগ্যবশত ফুটবলে ক্রিকেটের মতো স্পনসর নেই। অর্থের অভাবে আমরা চাইলেও সময়মতো কোনো পরিবর্তন ফুটবলে আনতে পারি না। এই কারণেই বাংলাদেশের ফুটবল ক্রিকেটের থেকে পিছিয়ে পড়ছে।