উত্তরবঙ্গের বাতিঘর খ্যাত বেগম রোকেয়া ১১বছর পেরিয়ে ১২বছরে পা রেখেছে আজ। নানা সংকট ও সমস্যা থেকে উত্তরণের পাশাপাশি নতুন স্বপ্ন ও আশা জাগিয়ে চলছে উত্তরবঙ্গের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়টি।
উত্তরবঙ্গের মানুষের বহু আন্দোলন ও সংগ্রামের ফসল বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০০৮ সালের ১২ই অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয়। আবাসন সংকট, লাইব্রেরি, ক্লাসরুম আর শিক্ষক সংকটকে সাথে নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও জ্ঞান আহরণ ও বিতরণে পিছিয়ে নেই এই প্রতিষ্ঠানটি। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর শিক্ষার পাশাপাশি এমফিল ও পিএইচডি কোর্স চালু করেছে।
এমফিল ও পিএইচডি কোর্সে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। প্রাতিষ্ঠানিক গতিশীলতা ও সুনাম বৃদ্ধির ফলে ইতোমধ্যে এমফিল কোর্সে ভারত চীন সহ বিভিন্ন দেশের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আবেদন করেছে।
গবেষণায় এগিয়ে যাওয়া ও বিশ্বমানের গবেষক তৈরির লক্ষ্যে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর কাজ।
এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র তাবিউর রহমান প্রধান জানান, শিক্ষকদের প্রধান কাজ গবেষক তৈরি করা এবং শিক্ষার্থীদের প্রধান কাজ ভালো মানের গবেষক হওয়া। আমরা আশা করি, ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউট বিশ্বমানের গবেষক তৈরীতে কাজ করবে এবং আমাদের সুনাম দেশ বিদেশে ছড়িয়ে পড়বে।
বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মত এখানে চালু করা হয়েছে ক্যাম্পাস রেডিও। ক্যাম্পাস রেডিও চালুর মাধ্যমে নানাবিধ সমস্যা তুলে ধরার পাশাপাশি সাংবাদিকতা ও মিডিয়ায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যেই শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির মিলন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। শিক্ষা কার্যক্রমকে সেশনজট মুক্ত করার অনেকগুলো পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন অনুষদ চালুকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জার্নাল বাংলা এবং ইংরেজি ভাষায় ইতোমধ্যেই প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন পরিবহন সুবিধা চালু করা হয়েছে। সবকিছু মিলে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে অঞ্চল ও দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া আমাদের মূল লক্ষ্য।’