২০২২ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের লড়াইয়ে দুটি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। দুটি ম্যাচেই হার, তবুও দলের আবহ ভিন্ন। আফগানিস্তান ও কাতারের ম্যাচ দুটি দিয়েই আত্মবিশ্বাস পাচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল দল। তা নিয়ে মঙ্গলবার ভারতের মাঠে ভারতের বিপক্ষে ভালো করার রসদও খুঁজছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার ম্যাচ খেলে শুক্রবারই কলকাতা পৌঁছে যায় জেমি ডে’র দল। টিম হোটেলে উঠে সেদিন বিশ্রামেই ছিলেন তারা। তবে এক ফাঁকে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কোচ জেমি ডে ও অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া জানান দুই ম্যাচ হারলেও আসন্ন ম্যাচটি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তারা। ‘ই’ গ্রুপে ভারত ও বাংলাদেশ সমান দুটি করে ম্যাচ খেলেছে। বাংলাদেশের পয়েন্ট শূন্য আর কাতারের সঙ্গে ড্র থেকে ভারতের সংগ্রহে ১ পয়েন্ট।
বৃহস্পতিবার এএফসি অঞ্চলের বাছাইপর্বের দিনে সবচেয়ে ব্যতিক্রম ছিল বাংলাদেশ। এই অঞ্চলের অন্য ম্যাচগুলোয় শক্তিশালী প্রতিপক্ষরা দুর্বল প্রতিদ্বন্দ্বীদের জালে গোল উৎসব করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ বর্তমান এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন কাতারের বিপক্ষে লড়েছে সমান তালে। এমনকি কাতারকে হারানোর সুযোগও পেয়েছিল স্বাগতিকরা। অল্পের জন্য হারের লজ্জা থেকে বেঁচে যায় সফরকারী কাতার। মোট তিনটি গোলের সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ। সেগুলো কাজে লাগালে ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারত। এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন হলেও কাতারের সঙ্গে এমন লড়াই কোচ-অধিনায়ককে ভারতের সঙ্গে ম্যাচে বিশেষ কিছুর স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
তাই মঙ্গলবার কলকাতার যুবভারতী স্টেডিয়ামে সাহস নিয়ে নামবে বাংলাদেশ। এক সময়ে সাফ অঞ্চলের দুই প্রতিবেশী ফুটবলে প্রায় একই শক্তির ছিল। ভারত এই সময়ে অনেকটা এগিয়ে গেছে। তবুও জেমি ডে আস্থা রাখছেন শিষ্যদের বর্তমান পারফরম্যান্সে, ‘ভারত কিন্তু আমাদের চেয়ে মাত্র এক পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে। আমাদের দুর্বল ভাবলে ওরা ভুল করবে। কাতার ম্যাচের আগে আমরা ভুটানের সঙ্গে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি, দুটিতে জিতেছিও। ভারতের সঙ্গে আমরা সমান তালে পাল্লা দেব।’
ভেন্যু বাংলাদেশ থেকে খুব কাছেই। তারপরও আগে ভাগে কলকাতা আসার ব্যাপারে জেমি জানিয়েছেন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতেই আগেভাগে আসা। শুক্রবার পৌঁছে শনিবার সকালে যুব ভারতীর অনুশীলন পিচে নেমেছিল জামালরা। কলকাতায় বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ যে কঠিন হবে তা জানেন জেমি। তার জন্য কলকাতা সফর এই প্রথম হলেও বাংলাদেশ দলের জন্য কলকাতার ফুটবল অঙ্গন পরিচিত। সেখানে ফুটবল নিয়ে উত্তেজনার কথা শিষ্যদের কাছে শুনেছেন বাংলাদেশ কোচ। প্রতিপক্ষ দর্শকদের সামনে লড়তে দলের কোনো সমস্যা হবে না বলে জানালেন। কারণ কাতারের বিপক্ষে কঠিন ম্যাচ দিয়ে চ্যালেঞ্জ নেওয়ার আত্মবিশ্বাস এসে গেছে দলের, ‘শুনেছি কলকাতায় সকলেই ফুটবল নিয়ে উত্তেজনা রাখে। অনেক দর্শক ভারতকে সমর্থন করবে। কিন্তু এটা কোনো সমস্যা না। আমরা ছন্দে আছি। কাতার শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তাদের সঙ্গে ২ গোলে হারলেও দল লড়েছে। এটা ভারতের বিপক্ষে আমাদের সাহস জোগাচ্ছে। জোর দিয়ে বলতে পারি, এই বাংলাদেশকে হারানো সহজ হবে না। ভারত সব বিভাগেই আমাদের চেয়ে শক্তিশালী। ওদের উন্নতি চোখে পড়ার মতো। তবে আমরাও এগিয়েছি।’
বাছাইপর্বে কাতারের বিপক্ষে ভালো করায় আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়াও। তাই দ্বিতীয় পর্বে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন জোরেশোরেই। জানালেন কাতারের বিপক্ষে সুযোগগুলো কাজে লাগালে জিততেও পারতেন, ‘ওই ম্যাচটা আমরা জিততেও পারতাম। কিন্তু সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলাম না। নিজেই দুটো সহজ সুযোগ মিস করেছি। ওরা কয়েকটি আক্রমণ তো গোললাইনের সামনে থেকে ফিরিয়েছে। আসলে আমাদের ভাগ্য সঙ্গে ছিল না। তবে সব ম্যাচে এটা হবে না। ভারত অবশ্যই এগিয়ে ৫৫-৪৫ ব্যবধানে। হোম কন্ডিশন ও সমর্থনও ওরা পাবে। এই ম্যাচটি আসলেই দুই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যারাই জিতবে দ্বিতীয় পর্বের সুযোগ তাদের সামনে খুলে যাবে। তাই, সব ভুলে এই ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছি।’ তবে কোচের মতো ভারতকেই আসন্ন ম্যাচের জন্য এগিয়ে রাখছেন জামাল, ‘এর আগে দুবার আমি ভারতের বিপক্ষে খেলেছি। প্রথমবার ১-১ ও দ্বিতীয়বার ২-২ এ ম্যাচ শেষ হয়। ওই দুই ম্যাচে গোল করেছিলেন সুনীল (ছেত্রী)। সে যে কোনো দলের জন্যই বিপদ। এছাড়া উদান্ত সিং ও বলবন্ত সিংদের নিয়ে গড়া ফরোয়ার্ড লাইন দারুণ শক্তিশালী। এই আক্রমণ ভাগের জন্য ভারত ফেভারিট হয়ে নামবে।’