ভারতের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের দাবিতে আচার্যকে রাবি শিক্ষার্থীদের খোলা চিঠি

বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বরাবর একটি খোলা চিঠিতে ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত অসম চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা।

এদিকে, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যার বিচার দাবিতে রবিবার চতুর্থ দিনের মতো ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে রাবি শিক্ষার্থীরা। সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ‘সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। 

কর্মসূচি থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বরাবর একটি খোলা চিঠি পেশ করেন। চিঠিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ, দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে। সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রলীগ কর্তৃক বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যাকাণ্ড ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির ‘জয় হিন্দ’ বক্তব্য এবং প্রো-ভিসির শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত অবৈধ আর্থিক লেনদেনের ফোনালাপ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চলমান সন্ত্রাস ও দুর্নীতির নগ্ন চিত্র তুলে ধরেছে’।

চিঠিতে শিক্ষার্থীরা কয়েকটি দাবির কথা উল্লেখ করেন। উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো- আবরারের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, বিভিন্ন সময়ে সংগঠিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী হত্যা ও নির্যাতনের বিচার করা, দুর্নীতিগ্রস্ত-জালিয়াত-সন্ত্রাসী তোষণকারী ভিসি, প্রো-ভিসি’র অপসারণ এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা, সন্ত্রাস ও দখলদারিমুক্ত গণতান্ত্রিক শিক্ষাঙ্গন নিশ্চিতে দ্রুত রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা, আবাসিক হলে ছাত্রলীগের সিট বাণিজ্য, পলিটিক্যাল ব্লক ও ছাত্র নির্যাতন বন্ধ করা, প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীদের সিটের ব্যবস্থা করা, গবেষণা খাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দসহ মেধার মূল্যায়নের ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিতে ১৯৭৩ এর অধ্যাদেশ যুগোপযোগী করা, ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত অসম চুক্তিগুলো বাতিল করা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিদম শাহরিয়ারের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন মহব্বত হোসেন মিলন, রঞ্জু হাসান, শাকিল আহমেদ, মো. ইসরাফিল প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি শুরু হয়েছে। শুধু আবরারই নয়, এর আগেও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এসব ঘটনার বিচার আমরা দেখতে পাইনি। এভাবে আর কত আবরারকে প্রাণ দিলে আমরা বিচার পাব।

বক্তারা আরও বলেন, আবরার হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রতীয়মান হয় যে দেশের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও আমাদের নিরাপত্তা নেই। এ সময় বক্তারা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এ ঘটনার বিচার কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানান।