বন্ধ হয়ে গেল রাজমণি সিনেমা হল

ঢাকার কাকরাইল এলাকা সিনেমা পাড়া বলেই পরিচিত। কাকরাইল মোড় সংলগ্ন ভূঁইয়া ম্যানশন-সহ বেশ কিছু বিল্ডিংয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে একাধিক প্রযোজনা ও পরিবেশনা সংস্থার অফিস। পাশেই রাজমণি সিনেমা হল। এই সিনেমা হলের ফ্লোরেই  রাজিয়া সিনেমা হলও। রাজমণিতে ভালো মানের সিনেমা চালালেও রাজিয়াতে চালানো হতো পুরোনো সিনেমা। এই দুটি সিনেমা হলে প্রদর্শিত হয়েছে অসংখ্য চলচ্চিত্র। সিনেমা পাড়ার পাশে হওয়ায় নায়ক-নায়িকারাও এই সিনেমা হলে ঘুরে আসতেন দর্শকদের রেসপন্স দেখার জন্য। অথচ ৩৬ বছর ধরে সিনেমার সুখ দুঃখের সঙ্গী এই সিনেমা হলটি বন্ধ হয়ে গেল। গত শুক্রবারে বন্ধ হয়ে গেছে ‘রাজমণি’। আর রাজিয়া এই সপ্তাহেই বন্ধ করে দেওয়া হবে।

জানা যায়, এই সিনেমা হলের বিল্ডিংটি ভেঙে নির্মাণ করা হবে বহুতল ভবন। শুক্রবার থেকে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য ভবনটি ভাঙার কাজও শুরু হয়ে গেছে। এ কারণে বন্ধ করা হয়েছে সিনেমা হল দুটিও।

সিনেমা হলের মালিক আহসানউল্লাহ মণি জানান, ইতিমধ্যেই রাজমণি হল থেকে মেশিন এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম খুলে ফেলা হয়েছে। রাজমণি সিনেমা হল ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা হবে বাণিজ্যিক ভবন।

খবর রটেছিল রাজমণি ভবন ভেঙে সিনেপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। কিন্তু আহসান উল্লাহ মণি জানিয়েছেন সেখানে সিনেপ্লেক্স কিংবা আধুনিক থিয়েটার নির্মাণের পরিকল্পনা তাদের নেই।

সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শুধু রাজমণি সিনেমা হল নয়। একে একে দেশের সব সিনেমা হলই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ভালো কনটেন্টের অভাবেই সিনেমা হল বন্ধ হচ্ছে। কারণ এখন যে মানের সিনেমা নির্মাণ করা হচ্ছে তা চালিয়ে লাভ তো দূরের কথা কর্মচারীদের বেতনের টাকাও উঠে না। ক্রমাগত লোকসানের মধ্যে আছে দেশের প্রতিটি সিনেমা। আমরা বহুবারই হল বাঁচানোর জন্য চেষ্টা করেছি। সরকারের কাছেও ধরনা দিয়েছি। কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, ১৯৮৩ সালে চালু করা হয় রাজমণি সিনেমা হল। নব্বই দশকে হলটি রমরমা ব্যবসা করে। হলের মালিক আহসান উল্লাহ মণি সিনেমাও প্রযোজনা করেছেন। ‘ভালোবাসার তাজমহল’ তার প্রযোজিত চলচ্চিত্র।