পুলিশের ওপর বোমা হামলা: আরও দুই জঙ্গি গ্রেপ্তার

রাজধানীতে পুলিশের ওপর বোমা হামলার ঘটনায় জড়িত আরও দুই জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিটিসি)।

গ্রেপ্তার দুই জঙ্গি হলো- মেহেদী হাসান তামিম ও আব্দুল্লাহ আজমির। এর মধ্যে তামিম গুলিস্তান ও সায়েন্স ল্যাবে পুলিশের ওপর বোমা হামলার ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিল। সে নিজে বোমা বহন করে ছুড়ে মারার কাজ করেছে। আজমির সরাসরি জড়িত না থাকলেও বোমা তৈরির সঙ্গে জড়িত ছিল।

সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়েছেন।

মনিরুল ইসলাম বলেন, গত ২৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের তক্কার মোড় এলাকার জঙ্গি আস্তানা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ফরিদ উদ্দিন রুমি ও তার ছোট ভাই জামাল উদ্দিন রফিক। এদের মধ্যে রফিক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি ছাড়াও আরও ৪ জনের জড়িত থাকার কথা বলেন। সেই ৪ জনের মধ্যে দুজন হলেন, তামিম ও আজমির। এরা দুজনই খুলনা ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) থেকে পাস করে বের হয়। এ দুজনের সাথে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া রফিকও কুয়েট থেকে পাস করে বের হয়।

মনিরুল ইসলাম বলেন, আইএস নামে যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সেটিও ৪ জন মিলে তৈরি করে। এর মধ্যে একজন হলেন, আজমির। আজমির একটি করপোরেট কোম্পানিতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছেন। সেখানে তিনি একটি ওয়াকিটকি ব্যবহার করেন। সেই ওয়াকিটকি নিয়েই ভিডিওতে ছিলেন আজমির। এই গ্রুপের মোট ৬ জন অনলাইনের মাধ্যমে র‌্যাডিকালাইজড হয়ে জঙ্গিবাদে জড়ায়। তারা আইএস এর সাথে কানেকটেড হওয়ার চেষ্টা করছিল। আইএস এর দৃষ্টি আকর্ষণ করাই ছিল পুলিশের ওপর হামলার উদ্দেশ্য।

তিনি জানান, তারা বিভিন্ন মতাদর্শের ব্যাপারে ব্যাপক ধারণা নেওয়ার পর নব্য জেএমবি জেনেই একটি গ্রুপ তৈরি করে। এক সময় তারা ৫ সদস্যের একটি সামরিক শাখা গঠন করে। সামরিক শাখার সদস্যদের মধ্যে তিনজন (রফিক, তামিম ও আজমির) গ্রেপ্তার হয়েছে। বাকি দুজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। 

এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, সেপ্টেম্বরে আরও একটি হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এজন্য নারায়ণগঞ্জে তারা দুটি আইইডি বোমা প্রস্তুত করছিল। একটি পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েছিল আরেকটি আংশিক প্রস্তুত ছিল। এরই মধ্যে সিটিটিসি তক্কার মোড়ে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া বোমা দুটি নিষ্ক্রিয় করা হয়। ফলে হামলার পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

সিটিটিসি সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে কুয়েট থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে বের হওয়ার পর অনলাইনে বিভিন্ন জঙ্গিবাদের বই পড়া শুরু করে তারা। ছাত্র থাকা অবস্থায় তারা বিভিন্ন মতাদর্শের বই পড়ে। আজমিরের গ্রামের বাড়ি ভোলাতে। আজমিরের নেতৃত্বে ২০১৮ সালে ভোলার একটি দুর্গম চরে বাড়ি ভাড়া করে প্রশিক্ষণ শুরু করে তারা। এর মধ্যে আজমির, তামিম, রফিক ও একজন পলাতক রয়েছে। এরপর তারা সিদ্ধান্ত নেয় যে, নব্য জেএমবির আইডিওলজি সবচেয়ে ভালো। ২০১৯ এর শুরুতে তারা সামরিক শাখা গঠন করে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জে একটি বাসা ভাড়া করা হয়। সেখানে অনলাইনের মাধ্যমে বোমা তৈরির বিভিন্ন উপায় বের করা হয়। তারা নিজেরাও একটি বোমা তৈরির ম্যানুয়াল তৈরি করে এবং সেটা ভিডিও করে রাখে। সেখানকার তৈরি বোমা দিয়েই রাজধানীর বেশ কয়েকটি স্থানে হামলা চালানো হয়।