৪-১-৪-১। বাংলাদেশ জেমি ডে’র সবচেয়ে কার্যকরী ফরমেশন এটা। গত দেড় বছরে বাংলাদেশ ফুটবল সম্পর্কে জানার পর ৩৯ বছরের এই কোচ বেছে নিয়েছেন এই ফরম্যাটকে। সোজা কথায় প্রথমে নিজেদের রক্ষণ অক্ষত রাখো, এরপর প্রতি আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ো প্রতিপক্ষের রক্ষণে। এখন পর্যন্ত এই কৌশলে ৯০ শতাংশ সফল জেমি ডে। বাকি ১০ শতাংশ সফলতা তখনই আসবে যখন প্রতি আক্রমণে পাওয়া সুযোগগুলো ঠিকঠাক কাজে লাগাবেন জেমির আক্রমণভাগের ফুটবলাররা। রাতারাতি তো আর সব মন্দকে পাল্টে ফেলা সম্ভব নয়। তাই চাই সময়। সেই সময়টাই ভারতের সঙ্গে ১-১ ড্রয়ের পর চাইলেন এই ইংলিশ ভদ্রলোক।
‘আমার ছেলেরা দুর্দান্ত একটা ম্যাচ খেলেছে। কিন্তু ভাগ্য আমাদের পক্ষে ছিল না। লিড নেওয়ার পরও সুযোগ ছিল ব্যবধান বাড়ানোর। জীবন (নাবীব নেওয়াজ) তো একটা গোল পেতেই পারত। আসলে হুট করেই সব কিছু ঠিক হবে না। সময় প্রয়োজন। ছেলেদের মধ্যে এই আত্মবিশ্বাস জন্মেছে যে তারা এখন যে কারও বিপক্ষেই খেলতে পারে নির্ভয়ে। সবার মাঝে এই বিশ্বাসটা ফেরানো ছিল আমার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।’ ম্যাচ শেষে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে না বললেও গতকাল কোচ বলেই ফেললেন একটা নিশ্চিত পেনাল্টি থেকে বাংলাদেশকে বঞ্চিত করেছেন সিরিয়ান রেফারি। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই বল নিয়ে ক্ষিপ্রগতিতে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম। লক্ষ্যে শট নেওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে তাকে ট্যাকলে ফেলে দেন ভারতের এক ডিফেন্ডার। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে সেটি চোখ এড়িয়ে যায় রেফারির। কোচ বললেন, ‘শুরুতে পেনাল্টিটা আমাদের প্রাপ্যই ছিল। লিড নেওয়ার পরও যে সুযোগগুলো আমরা পেয়েছিলাম, তা থেকে আর একটা গোল হয়ে গেলেই রেজাল্টটা অন্যরকম হতো। তিন পয়েন্ট না পাওয়ায় খারাপ লাগছে। তবে ছেলেদের কমিটমেন্ট দেখে আমি সত্যি অবাক হয়েছি। রাতে একটা ভালো ঘুমও হয়েছে।’ ১৪ নভেম্বর ওমানের বিপক্ষে তাদের মাঠে খেলবে বাংলাদেশ। কাতার-ভারতকে কাঁপানোর পর এখন আর অন্য কাউকে প্রবল প্রতিপক্ষ মনে হচ্ছে না বাংলাদেশের সামনে। কোচও পরের ম্যাচে শিষ্যদের একই রূপে দেখতে চান, ‘এখন আমাদের সব চিন্তাভাবনা ওমানের বিপক্ষে পরের ম্যাচ নিয়ে। সেই ম্যাচে এই ম্যাচের পারফরম্যান্সটা ধরে রাখতে চাই।’
চোটের কারণে দলের দুজন কার্যকর মিডফিল্ডার মাশুক মিয়া জনি এবং আতিকুর রহমান ফাহাদ নেই। তাদের অনুপস্থিতিতে কাউন্টার অ্যাটাকনির্ভর কৌশল নেওয়ার বিকল্পও ছিল না জেমি ডে’র। আর এই ফরমেশনে জেমির অন্যতম আস্থার নাম দলের অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া। রক্ষণ আর আক্রমণভাগের যোগসূত্র ঘটানোর দায়িত্বটা বেশ ভালোভাবেই পালন করছেন এই হোল্ডিং মিডফিল্ডার। তার ফ্রি-কিকেই সাদ উদ্দিন হেড করে এগিয়ে নিয়েছিলেন দলকে। ভারতকে হারানোর সুযোগটা নষ্ট হওয়ায় আক্ষেপটা তাই যাচ্ছেই না অধিনায়কের, ‘সত্যি বলতে সারা রাত ভালো ঘুম হয়নি। শুধু আফসোস হচ্ছে এই ভেবে, কী সুযোগটাই না আমরা হারিয়েছি।’ ৮৮ মিনিটে ভারতের আদিল খানের হেডে সমতা হয়। সে সময় আদিলকে মার্কিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন বদলি উইঙ্গার রবিউল হাসান। আদিলের গোলের খানিকটা দায় সতীর্থকে দিয়েছেন জামাল, ‘ওই সময় আদিলকে মার্কিংয়ের দায়িত্ব ছিল রবিউলের। সেটা সে ঠিকভাবে করলে ও হেডটা করতে পারত না।’ আফসোস শেষে অবশ্য দলের প্রত্যেকের নিবেদনের কথাটা বলতে ভুলেননি জামাল। সেই সঙ্গে বলেছেন কতটা মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছেন তারা মঙ্গলবার রাতে, ‘এই ম্যাচে ভীষণ মনোসংযোগ ছিল আমাদের। সবাই সর্বোচ্চটা দিয়েছে। এত বেশি স্ট্যামিনা ক্ষয় হয়েছে, ম্যাচ শেষে তাই কেউ নড়তেই পারছিলাম না।’
জামালের ফ্রি-কিকটা ভারতের গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং ফ্লাইট মিস করে ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে তাতে একটু উড়ে গিয়ে মাথা ছোঁয়াতে হয় সাদ উদ্দিনকে। দুরূহ কোণ থেকে তার হেডটা যখন জালে প্রবেশ করল, সেই মুহূর্তটা যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না এই ফরোয়ার্ডের, ‘আমার আত্মবিশ্বাস ছিল সুযোগ পেলে কাজে লাগানোর। জামালের ফ্রি-কিকে সেটা পেয়েও গেলাম। তারপর দেখি বল জালে চলে গেছে। এমন গোলের পর কার না ভালো লাগে। তার ওপর প্রতিপক্ষ দলটা যদি হয় ভারত। এই অনুভূতি বলে বোঝানো কঠিন।’ পাঁচ দিনের মধ্যে দুটি ভালো ম্যাচ খেলে ফেলার পর স্বভাবতই প্রত্যাশা বেড়ে গেছে জামালদের ঘিরে। ওমানের বিপক্ষেও লাল-সবুজরা জ্বলে উঠবে এটাই এখন সবার চাওয়া।