পাকিস্তান সফরে গিয়ে আলোচিত হয়েছিলেন ব্রিটিশ রাজবধূ প্রিন্সেস ডায়ানা। দুই দশক পর ইসলামাবাদ গিয়ে একইভাবে চমক সৃষ্টি করলেন তার পুত্রবধূ কেট মিডলটন।
বিবিসি জানায়, সোমবার স্বামী প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে পাঁচ দিনের সফরে রাওয়ালপিন্ডিতে পৌঁছান কেট। সে দিন সন্ধ্যায় যখন তিনি বিমান থেকে নামলেন, তার পরনের সালোয়ার কামিজ মনে করিয়ে দিচ্ছিল তার শাশুড়ি ডায়ানাকেই।
১৯৯৭ সালে প্রিন্সেস ডায়ানা পাকিস্তান সফরে যেরকম পোশাক পরেছিলেন, সেই অনুসারেই নিজেকে সাজিয়েছেন কেট।
মঙ্গলবার পাকিস্তানের শিশু-কিশোর-তরুণদের সঙ্গে সারাটা দিন কাটান এই ব্রিটিশ রাজপরিবার দম্পতি। সেখানেও কেটকে দেখা গিয়েছে সালোয়ার কামিজে।
পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দাওয়াতে দুপুরের ভোজেও তাকে দেখা গিয়েছে শাশুড়ির মতো আকর্ষণীয় পোশাকে।
উপমহাদেশীয় ঐতিহ্যে সাজানো একটি অটোরিকশায় চড়ে উইলিয়াম-কেট দম্পতি যান ব্রিটিশ হাইকমিশনারের নৈশভোজে। বুধবার গিয়েছিলেন খাইবার পাখতুনখোয়ার চিত্রালে। সেখানে কেটকে দেওয়া হয় চিত্রালি টুপি, যা পরেছিলেন ডায়ানাও।
পাক ও ব্রিটিশ ডিজাইনাররা কেটের পোশাক ও তাকে সাজানোর দায়িত্বে ছিলেন। উইলিয়ামের বাবা যুবরাজ চার্লস এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রী ক্যামিলার সফরের ১৩ বছর পরে ফের ব্রিটিশ রাজপরিবারের কোনো দম্পতি পা রাখেন পাকিস্তানে।
উইলিয়াম-কেট যেসব জায়গা গিয়েছেন সবখানেই ছিল ডায়ানার ছাপ। দুই দশক আগে ইসলামাবাদ, লাহোর এবং চিত্রালের পার্বত্য এলাকায় গিয়েছিলেন ডায়ানা। ছেলে ও ছেলের বউকে দেখা গিয়েছে সেসব জায়গাতেই যাচ্ছেন।
স্ত্রী ডাচেস অব কেমব্রিজের সঙ্গে পোশাকের সামঞ্জস্য রেখে ডিউক অব কেমব্রিজ পড়েছেন আকর্ষণীয় শেরওয়ানি।
তবে কেটের ডিজাইনার মাহিন খান বলেন, ‘কেটের জন্য পোশাক ডিজাইন করতে নির্দিষ্ট কোনো ধরনের চিন্তা বা রঙের কথা আমি চিন্তা করিনি। খুব সাধারণ কিছু করতে হবে এটাই আমি মাথায় রেখেছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘আমি বুঝেছিলাম, তিনি এমন কিছু চান, যেটি একেবারেই সাধারণ এবং ক্ল্যাসিক জিনিস। কারণ তিনি সুরুচিপূর্ণতাকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।’
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন পোশাক ও স্টাইলের জন্য প্রশংসিত হয়েছেন। নীল সালোয়ার কামিজ পরা কেটের ছবিও ভাইরাল হয়।
দুই দশক আগে ডায়ানা যখন পাকিস্তান সফর করেন তখন ইমরান খান জনপ্রিয় ক্রিকেটার। বন্ধু ইমরান ও তার সেসময়ের স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথের আমন্ত্রণে লাহোরের ক্যানসার হাসপাতালও ঘুরে দেখেন ডায়ানা। এই সফরের তিন মাস পরেই রহস্যজনক দুর্ঘটনায় মারা যান আলোচিত এই ব্রিটিশ রাজবধূ।
মায়ের সফরের সূত্র ধরেই উইলিয়ামের সস্ত্রীক পাকিস্তানে আসা বলতে গেলে। তার পাঁচ দিনের এ সফরে গুণগত শিক্ষার গুরুত্ব, উচ্চশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং পেশাগত জায়গায় ভূমিকা রাখা সহ শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রচারণামূলক কাজ করবেন তারা।