স্থায়ীভাবে দারিদ্র্য কমাতে হলে বৈষম্য দূর করতে হবে উল্লেখ করে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন,‘ বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার কমেছে, কিন্তু বৈষম্য বেড়েছে।’ তিনি বলেন,‘ যে গরিব সে আরো গরিব হচ্ছে, আর যার অবস্থা ভালো সে আরো উন্নত ও অগ্রসর হচ্ছে। ’
বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অক্সফাম আয়োজিত বাংলাদেশে যেখানে বৈষম্য সম্পর্কিত এক জাতীয় সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বৈষম্য কেবল বাংলাদেশের সমস্যা নয়, এটি এখন বিশ্বজনীন সমস্যা।
তিনি বলেন, সরকার এ সমস্যা দূর করার চেষ্টা করছে। সরকার সোশ্যাল সেফটিনেট (সামাজিক নিরাপত্তাবলয়) বাড়ানোর জন্য কাজ করছে। যা বেড়েছে, তা যথেষ্ট নয়। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে গুরুত্ব দিয়েই সব কাজ করা হচ্ছে। বিভিন্ন আইনেরও সংস্কার হচ্ছে। কিন্তু দুটি বিষয়ে অনিয়ম দর্শনে পরিণত হয়েছে। এক- আমলাতন্ত্র, দুই- ভূমিগত সমস্যা। এগুলো দিনে দিনে এতটাই বেড়েছে যে, ঠেকিয়ে রাখা কঠিন।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম দেশে অর্থনৈতিক বৈষম্য প্রসঙ্গে বলেন, যারা ঋণখেলাপি হচ্ছেন তারাই লাভবান হচ্ছেন। ঋণ খেলাপি হলে তারা ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ৯ শতাংশ সুদ দিচ্ছেন। আর যারা নিয়মিত দেন তাদের দিতে হচ্ছে ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ।
ঋণখেলাপিদের বিচারের আওতায় আনা হলে দেশে আয়ের এ বৈষম্য কমানো সম্ভব হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির সঙ্গে বৈষম্য বৃদ্ধির একটি সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আয়ের বৈষম্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনের বিষয়টি অনেকাংশেই রাজনৈতিক বিষয়। রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি চাইলে এ বৈষম্য মেটানো সহজ। দারিদ্র্য বিমোচন না হলে ‘সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট’ (টেকসই উন্নয়ন) হবে না। বাংলাদেশ এখন উন্নতির দিকে যাচ্ছে। খেয়াল রাখতে হবে, এ ধারা যেন নিচের দিকে না নামে।
অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ বলেন, দেশে কর আয়ের ৭০ শতাংশ আসে পরোক্ষ আয় থেকে। কিন্তু ৫০ শতাংশেরও বেশি কর আয় প্রত্যক্ষ আয় থেকে আসা উচিত। ঘুষ, দুর্নীতি, কাজ না করে আয়, কৃষকদের মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব হলে বাংলাদেশে জিডিপির হার ১০ শতাংশ হতে পারত।
আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন সাদেকা হালিমা, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মুহম্মদ আব্দুল মজিদ প্রমুখ।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।