দুই চ্যাম্পিয়নের ম্যাচ দিয়ে আজ মাঠে গড়াচ্ছে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপের তৃতীয় সংস্করণ। চট্টগ্রাম আবাহনী এই আসরের প্রথম সংস্করণের শিরোপাধারী আর মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টস এফসি জিতেছে গত আসরের শিরোপা। ‘এ’ গ্রুপের এই ম্যাচটি চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায়।
তার আগে বন্দরনগরীতে তৃতীয় সংস্করণ সুন্দরভাবে আয়োজনের প্রস্তুতিতে কম বেগ পেতে হয়েছে আয়োজক চট্টগ্রাম আবাহনীকে। প্রতিষ্ঠাতা এবং বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে শেখ কামালের নামে এ আসরের নামকরণ করা হয়েছে বলেই এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক আবেগ। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ভাইয়ের নামে আসরটির মান নিয়ে যাতে প্রশ্ন না ওঠে তাই ২০১৫ সাল থেকেই বড্ড সতর্ক ছিল আয়োজকরা। রাজধানীর বাইরের একটি ক্লাবের উদ্যোগে এই আসরে তাই দেখা গেছে এশিয়া অঞ্চলে বিভিন্ন দেশের ক্লাবগুলোকে। গত এক দশকে সাফ অঞ্চলে ক্লাবগুলোকে নিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে না পারায় কম সমালোচনার মুখে পড়তে হয়নি সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনকে। অথচ বন্দরনগরীর ক্লাবটি ঠিকই দক্ষিণ এশিয়া ছাড়িয়ে চোখ রেখেছে গোটা এশিয়ায়। তাই তো এই আসরে খেলে গেছে দক্ষিণ কোরিয়া, আফগানিস্তানের বিভিন্ন ক্লাবও। আর দক্ষিণ এশিয়ার দলগুলো তো আছেই। এ বছর এই আসরে খেলতে এসেছে আসিয়ান অঞ্চলের দুই দেশ মালয়েশিয়া ও লাওসের দুটি ক্লাব। এছাড়া ভারত থেকে এসেছে মোট তিনটি ক্লাব আর মালদ্বীপ থেকে গতবারের চ্যাম্পিয়ন টিসি স্পোর্টস এফসি। এর সঙ্গে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস এবং স্বাগতিক হিসেবে চট্টগ্রাম আবাহনী তো থাকছেই। দু’দিন আগ পর্যন্ত এই আসরের অন্যতম দল হিসেবে ছিল ঘরোয়া ফুটবলের সবচেয়ে সফল দল ঢাকা আবাহনী। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দল গঠন করা সম্ভব হয়নি বলে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে তারা। আয়োজকরা অবশ্য শেষ মুহূর্তের এই বিপদ দ্রæতই কাটিয়েছে ভারতের আই লিগের দল গোকুলাম কেরালা এফসিকে চ‚ড়ান্ত করার মধ্য দিয়ে।
তবে স্থানীয় দল কমে যাওয়ায় এই আসরে বিদেশিদের আধিপত্য থাকার সম্ভাবনা বেশি। তাছাড়া আবাহনী সরে যাওয়ায় জাতীয় দলের ৮ তারকাকে দেখা যাবে না এই টুর্নামেন্টে। যদিও এএফসি কাপে চোখ রেখে শক্তিশালী দল গড়া বসুন্ধরা কিংস এই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েই প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি সারার সুযোগ পাবে। চট্টগ্রাম আবাহনীও ধারে কিছু খেলোয়াড় এনে শক্তি বাড়িয়ে চেষ্টা করবে দ্বিতীয়বারের মতো ঘরের ট্রফি ঘরেই রেখে দিতে।
আগেরবার ভারত থেকে কলকাতা মোহামেডান খেলে গেলেও এবার পুরনো ওই শহরের অন্যতম ফুটবল শক্তি মোহনবাগানের অন্তর্ভুক্তি স্বভাবতই জৌলুস বাড়াচ্ছে আসরের। এর সঙ্গে আই লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সিটি এফসিরও চোখ থাকবে শিরোপায়। মালয়েশিয়া থেকে আসা তেরেঙ্গানু এফসি দেশটির শীর্ষ লিগের তৃতীয় দল। আর এই দলটিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এক সময় ঢাকার মাঠ কাঁপানো ইংলিশ প্লেমেকার লি টাক। ২০১৬ সালে ঢাকা আবাহনীকে পঞ্চম লিগ শিরোপা এনে দিতে বড় ভ‚মিকা রেখেছিলেন টাক। তার খেলার একটা অনুসারীও এদেশে তৈরি হয়ে গিয়েছিল সে সময়। লি টাকের আগমনে হয়তো সেই ভক্তরাও চোখ রাখবে জমকালো এই আসরে। এছাড়া লাওস থেকে আসা ইয়ং এলিফ্যান্ট এফসিও খেলে সে দেশের শীর্ষ লিগে।
সপ্তাহখানেক আগে টুর্নামেন্টের গ্রæপিং হয়েছে ঢাকাতে। এরপর বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে হয়েছে ট্রফি প্রদর্শনী ও দলগুলোর আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন। এখন মাঠের লড়াইয়ের অপেক্ষা। ‘এ’ গ্রæপে টিসি স্পোর্টস আর চট্টগ্রাম আবাহনী ছাড়াও আছে মোহনবাগান ও ইয়ং এলিফ্যান্ট। ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে বসুন্ধরা কিংস, চেন্নাই সিটি এফসি, তেরেঙ্গানু এফসি এবং গোকুলাম কেরালা এফসি। দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দল ২৭ ও ২৮ অক্টোবর দুটি সেমিফাইনালে খেলবে। আর ৩০ অক্টোবর হবে আসরের ফাইনাল। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ বাবদ প্রতিটি দল পাচ্ছে ১০ হাজার মার্কিন ডলার। আর চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫০ হাজার ডলার ও রানার্সআপ দল পাবে ২৫ হাজার ডলার।
ঢাকা আবাহনী শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ালেও আয়োজকদের বিশ্বাস এই আসরের আলো কোনোভাবেই কমছে না। প্রধান সমন্বয়ক তরফদার রুহুল আমিন বলেন, ‘দলগুলোর মান এবং প্রতিদ্বতার দিক থেকে দেখবেন এটা আগের দুবারকেও ছাড়িয়ে যাবে। ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা এবং এদেশের আধুনিক ফুটবলের জনক শেখ কামালের স্মৃতির উদ্দেশ্যে আমরা এই টুর্নামেন্ট করছি। তাই এর মান নিয়ে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়ার পক্ষে নই আমরা। আবাহনী থাকলে ভালো হতো। কিন্তু তাদের নিজেদের সমস্যার কারণেই তারা সরে দাঁড়িয়েছে। আমরা তাদের বিকল্প হিসেবে সেই মানেরই একটি দল এনেছি।’