শ্রীলঙ্কায় ‘এ’ দলের হয়ে লিস্ট ক্রিকেটে শেষ ইনিংসটা ম্যাচ জেতানো সেঞ্চুরি। লঙ্কা জয় করে দেশে এসেই সাইফ হাসান খেলতে নেমেছেন জাতীয় ক্রিকেট লিগে। দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচের প্রথম দিন ১২০ রান নিয়ে অসুস্থতার কারণে মাঠ ছেড়েছিলেন। গতকাল দ্বিতীয় দিন মাঠে নেমে ঢাকা বিভাগের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান ডাবল সেঞ্চুরি করলেন। ২২০ রানে থাকলেন অপরাজিত। প্রথম স্তরের ম্যাচে প্রতিপক্ষ রংপুর বিভাগের ওপর তাতে রানের পাহাড় চাপিয়ে দিয়েছে ঢাকা।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ঢাকা ৮ উইকেটে ৫৫৬ তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছে। ২ উইকেটে ৭১ রানে দিন শেষ করা রংপুর পিছিয়ে ৪৮৫ রানে। সাইফেরটি এবারের মৌসুমের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি। প্রথমটি প্রথম রাউন্ডে করেছিলেন ইমরুল কায়েস। গতকাল নার্ভাস নাইন্টিজে ঢুকে আউট হয়েছেন খুলনার ব্যাটসম্যান। সেঞ্চুরি থেকে ৭ রান দূরে থেকে আউট হওয়ার আক্ষেপ ইমরুলের। এদিন সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়ে বঞ্চিত হওয়ার কষ্ট মিলেছে চট্টগ্রামের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনেরও। ৯১ রানে আউট হয়েছেন। তার সতীর্থ ইয়াসির রাব্বি করেছেন ৭০। বোলিংয়ে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্সটি আবু হায়দার রনির। ঢাকা মেট্রোর পেসার ৫৫ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন সিলেটের বিপক্ষে।
প্রথম স্তরের অন্য ম্যাচে খুলনায় দ্বিতীয় দিন শেষে চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী বিভাগের চেয়ে ৩৪ রানে পিছিয়ে খুলনা। রাজশাহীর ২৬১ রানের জবাবে ৬ উইকেটে ২২৭ তাদের। দ্বিতীয় স্তরে বগুড়ায় সিলেটের বিপক্ষে ঢাকা মেট্রো ৬৪ রানে পিছিয়ে। প্রথম ইনিংসে ২৪৬ রান করা মেট্রো সিলেটকে ৩১৯ রানে অল আউট করে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৯ রানে দিন শেষ করেছে। দ্বিতীয় স্তরের অন্য ম্যাচে ফতুল্লায় চট্টগ্রামের বিপক্ষে ২৫২ রানে পিছিয়ে বরিশাল। চট্টগ্রাম প্রথম ইনিংসে করে ৩৫৬ রান। জবাবে বরিশাল ৪ উইকেটে ১০৪ রান নিয়ে দিন শেষ করেছে।
তবে সব ছাপিয়ে এদিন সাইফের ডাবল সেঞ্চুরি। ২০ বছর বয়সী ডানহাতি ব্যাটসম্যান জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়ছেন নিয়মিত। ৩৫ ম্যাচের ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে চারটি সেঞ্চুরির দুটিকে ‘ডাবল’-এ রূপ দিলেন সাইফ। ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিটা করেছিলেন ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় লিগেই। সেটা ছিল ২০৪ রানের ইনিংস। এবারেরটি ৩২৯ বলে ১৯ চার ও ৪ ছক্কায় অপরাজিত ২২০। ৮ ঘণ্টা ১৩ মিনিট উইকেটে থেকে এই অর্জন।
৪ উইকেটে ৩১৪ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করেছিল ঢাকা। নাইটওয়াচম্যান সুমন খান আউট হলে আবার মাঠে নেমে আগের মতো তেজোদীপ্ত সাইফের খেলা। ১৪৫ বলে সেঞ্চুরি করা সাইফ ডাবল সেঞ্চুরি করেন ৩১৯ বলে চা বিরতির খানিক বাদেই। ৭৫ বলে ৬১ রানের ইনিংস খেলা অধিনায়ক নাদিফ চৌধুরীর সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ১০০, অষ্টম উইকেটে জয়রাজ শেখের (২৬) সঙ্গে ৫০ এবং নবম উইকেটে নাজমুল ইসলামের (১৮*) সঙ্গে ৫৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন সাইফ। এরপর রংপুর যে ৭১ রান করেছে তার ৫১ প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা লিটন দাশের।
খুলনার এনামুল হক বিজয় প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে করেছেন ৩৪। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে তিন নম্বরে খেলতে নামলেও ইমরুলকে ওপেনারের ভ‚মিকাই পালন করতে হয়েছে। কারণ, সৌম্য সরকার নিজের খেলা পঞ্চম বলে শফিউল ইসলামকে উইকেট দিয়ে এসেছেন। আরও পরে তুষার ইমরানকে (৪৩) নিয়ে এগিয়েছেন ইমরুল। ১৯০ বলে ৯৩ রান করা ইমরুল শেষে দলের ১৬৭ রানের সময় রান আউট হয়ে সেঞ্চুরি বঞ্চিত হয়ে ফিরলেন। শফিউল ইসলাম ও তাইজুল এখন পর্যন্ত দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।
ঢাকা মেট্রোর বিপক্ষে সিলেটের ৩১৯ রানের ইনিংসে আছে চারটি ফিফটি। ওপেনার তৌফিক খান (৬১), মিডল অর্ডারের জাকির হাসান (৭১), অলক কাপালি (৫৪) আর উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান জাকের আলি (৭১)। কিন্তু এই ইনিংসে নাম আসছে আবু হায়দারের। বাঁহাতি পেসার ফার্স্ট ক্লাসে দ্বিতীয়বার ৫ উইকেট নিয়েছেন। বোলিং ফিগার ১৬.৫-৪-৫৫-৫। দুই ওপেনার তার শিকার। এরপর শহিদুল ইসলামের আছে ৩ উইকেট। ৮, ৯ ও ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান আবু হায়দারের শিকার।
৪ উইকেটে ২৬১ রানে দিন শুরু করে ৩৫৬ রানে শেষ হয়েছে চট্টগ্রামের প্রথম ইনিংস। ইয়াসির রাব্বি, অঙ্কন ও মাসুম খান (৫০) রান করলেন। তবে এদের মধ্যে দুঃখ বেশি অঙ্কনের। প্রথম সেঞ্চুরিটা খুব কাছে এসে চলে গেল। ১৫৮ বলে ৮ চার ও ২ ছক্কায় ৯১ তার।