এক অসাধারণ জীবন কাটিয়েছেন সত্যপ্রিয় মহাথের। একুশে পদক পাওয়া রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের ৫৫ বছরের অধ্যক্ষ। অনুবাদ করেছেন বিখ্যাত বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ। তার আরও কীর্তি বলেছেন ২০ বছরের সঙ্গী ভিক্ষু প্রজ্ঞানন্দ
৩ অক্টোবর, রাত তখন পৌনে ১টা। প্রথমে খবর এলো, গুরুদেবের অবস্থা সংকটময়। তার জীবন দানের জন্য আমরা রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারের ভিক্ষু-শ্রমণরা দ্রুত প্রার্থনায় বসতে যাচ্ছি। পাঁচ মিনিটের মাথায় খবর এলো–গুরুদেব আর নেই। মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। কাঁদতে কাঁদতে কিছুক্ষণ পরেই গুরুদেবের মৃত্যু সংবাদ দিয়ে ফেইসবুকে পোস্ট দিলাম, কিন্তু আমার হাত চলছিল না। তার যে এভাবে চলে যাওয়ার কথা ছিল না! যখন চিকিৎসা নিচ্ছেন, তখনো প্রতিনিয়ত তার শরীরের খবর নিয়েছি। সব সময়ই তো খবর পেয়েছি– তিনি দিনে দিনে ভালো হচ্ছেন। হঠাৎ কী এমন হলো গুরুদেবের? পরে জেনেছি– বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)’র সিসিউ (করোনারি কেয়ার ইউনিট)’তে থাকা অবস্থায় হৃদক্রিয়া (হার্ট অ্যাটাক) বন্ধ হয়ে গুরুদেবের মৃত্যু হয়েছে। বার্ধক্যজনিত কারণে শারীরিক অসুস্থতায় ১৫ সেপ্টেম্বর বরাবরের মতো দ্রুত ঢাকায় নিয়ে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হলো। পরে মারাত্মক শ্বাসকষ্ট দেখা দিল। ফলে ২১ সেপ্টেম্বর গুরুদেবকে সিসিউতে রেফার করা হলো। ধীরে ধীরে তিনি ভালো হতে লাগলেন। ফলে ২৮ সেপ্টেম্বর আবার কেবিনে নিয়ে আসা হলো। ৩ অক্টোবর আবার তার শরীর খুব খারাপ হলো। ফের সিসিউতে নিয়ে গেলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। সেখানেই প্রয়াণ করেছেন সত্যপ্রিয় মহাথের। আমাদের শোক, সারা রামুর মানুষের আহাজারিতে রাতেই তার মরদেহ নিয়ে রামুর উদ্দেশে রওনা দেওয়া হলো। পরদিন বিকাল ৩টায় তার মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স রামুতে পৌঁছাল। সেই দৃশ্য কোনোদিন ভুলবেন না সেখানে থাকা কোনো মানুষ। শেষবারের মতো এই বিরাট ব্যক্তিত্বকে এক পলক দেখতে রাস্তাগুলোতে জাতি, ধর্ম কোনো কিছুই না মেনেই অগণিত মানুষের ঢল নামল। এখনো প্রতিদিন কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারে তার শোকে কাতর স্বজন, অপরিচিতজনদের ভিড় লেগে আছে। তারপরও এখনো আফসোস হয়, গুরুদেবের মৃত্যুর পর তাকে নিয়ে আমাদের দিক থেকে একটা ভুল হয়ে গেছে। তার মরদেহ রাতে নিয়ে না এসে একদিন রাজধানী ঢাকায় রাখা উচিত ছিল। তাহলে ঢাকার অসংখ্য বৌদ্ধ ও গুণগ্রাহীরা তার শবদেহ দর্শন ও তাকে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা জানানোর শেষ সুযোগ পেতেন। পাশাপাশি সর্বজন শ্রদ্ধেয়, বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত এই স্বনামধন্য ব্যক্তি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাছ থেকে আরও অনেক বেশি মর্যাদা, শ্রদ্ধা লাভ করতে পারতেন। পরে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারেও তার মরদেহ কক্সবাজারের রামুতে নিয়ে আসা যেত। যারা গুরুদেবের সঙ্গে ছিলেন তারা মরদেহ নিয়ে আসার ক্ষেত্রে শোকে কাজটি এত দ্রুত করেছেন যে আমরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগও পাইনি। তারাও হয়তো বুঝে উঠতে পারেননি। তিনি আামাদের কাছে এলেন। ৯ অক্টোবর সারা দিনের নানা আনুষ্ঠানিকতায় ভিক্ষুর শবদেহ বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতি ও নীতি মেনে পেটিকাবদ্ধ করা হলো। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আমরা তার সহকর্মী, অনুসারীরা সত্যপ্রিয় মহাথেরর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পাদনের ইচ্ছা রাখছি। তিনি খুব ভালো মানুষ, বিখ্যাত ব্যক্তি ছিলেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুরুদেবকে ব্যক্তিগতভাবে জানতেন, চিনতেন। তিনি তাকে খুব সম্মান ও শ্রদ্ধা করতেন। হয়তো তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের দেখা করা হতে পারে।
২.
বাবা হরকুমার বড়ুয়া, মা প্রেমময়ী বড়ুয়ার তৃতীয় সন্তান বিধুভূষণ বড়ুয়া। কক্সবাজারের রামু উপজেলার ফতে খাঁরকুল ইউনিয়নের পশ্চিম মেরংলোয়া গ্রামে ১৯৩০ সালের ১০ জুন জন্ম নেন। শিশু ও কিশোরকাল পেরিয়ে সবে যৌবনে পা রেখেছেন। তারপরও এই দুনিয়ার ভোগ-বিলাস, যৌবনের মত্ততা, সংসারের শেকল কোনোকিছুই আটকাতে পারেনি তাকে। সেই সময়ের বিশুদ্ধ, আবাল্য ব্রহ্মচারী, ভারত উপমহাদেশের প্রখ্যাত বৌদ্ধভিক্ষু, ‘ষষ্ঠ সংগীতিকারক’, ‘ত্রিপিটক বিশোধক’, পণ্ডিত আর্যবংশ মহাথেরর আদর্শে ভরা ভিক্ষুজীবন বিধুভূষণের মন ও জীবনে ভীষণভাবে প্রভাব ফেলল। ফলে সংসারের মরীচিকার মতো মায়া, মোহগুলো পেছনে ফেলে তিনি গুরু আর্যবংশ মহাথেরর কাছে দীক্ষা নেওয়ার দৃঢ় সংকল্প করলেন। ১৯৫০ সালের একটি শুভক্ষণে বিধুভূষণ বড়ুয়া ‘প্রব্রজ্যা ধর্ম’তে দীক্ষিত হলেন। গুরু আর্যবংশ মহাথের তার গৃহী জীবনের নাম বদলে ধর্মীয় জীবনের নাম দিলেন ‘সত্যপ্রিয় শ্রামণ’। সত্যপ্রিয় শ্রামণের তখন ১৯ বছর ৫ মাস বয়স মাত্র।
৩.
তখন ১৯৫৪ সাল। ভিক্ষুধর্মে দীক্ষিত হওয়ার মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে নতুন দীক্ষিত সত্যপ্রিয় ভিক্ষু উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষালাভের জন্য সেই সময়ের ব্রহ্মদেশ (এখন মিয়ানমার) গেলেন। বিখ্যাত রেঙ্গুন শহরের জম্বুদ্বীপ মহাবিহারে থাকার ব্যবস্থা হলো তার। ধর্মদূত পালি কলেজে ভর্তি হলেন। দীর্ঘ টানা ১০ বছর ত্রিপিটক সাহিত্য ও ধ্যান-সমাধি অনুশীলন করলেন তিনি। পরে ১৯৬৪ সালে মাতৃভূমি পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে এলেন তিনি। সেই থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ভিক্ষু সত্যপ্রিয় রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারের অধ্যক্ষ ছিলেন।
৪.
তার দেশে ফেরার বছর কয়েক পর স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলো। তখন প্রাণের ভয়ে রামু ও সারা দেশের অনেক বৌদ্ধ মিয়ানমারে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে সত্যপ্রিয় মহাথের সেই নিশ্চিত সুযোগ থাকার পরও স্বদেশ ও স্বজাতি ছেড়ে যাননি। তিনি এই বিহারেই থেকে গিয়েছেন। মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে রামু ও আশপাশের হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ জাতি, ধর্ম কোনো বাছবিচার না করে যাকেই পেরেছেন নিজের বিহারে আশ্রয় দিয়ে তাদের জীবন বাঁচিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারে আশ্রয় দিয়েছেন সত্যপ্রিয় ভিক্ষু। তার এই কাজের খবর পেয়ে পাকিস্তানি সেনারা ঠিকই বিহারে এসেছিল। পাকবাহিনীর সুঠাম এবং দীর্ঘদেহী সেনারা কীভাবে তর্জন-গর্জন করে তাকে ধমকিয়েছেন, তাদের সঙ্গে তিনি কীভাবে মুখে মুখে সমানতালে তর্ক করেছেন, যুক্তি দিয়েছেন– সেসব ভয়ংকর স্মৃতি, মৃত্যুর হাতছানির কথা বহুবার তিনি আমাদের বলেছেন। শুধুমাত্র সত্যপ্রিয় মহাথেরর সাহস ও বিচক্ষণতায় পাকসেনারা এই বিরাট বিহার ও বিহারে আশ্রয় নেওয়া কারও কোনো ক্ষতি করতে পারেনি।
৫.
ভগবান গৌতম বুদ্ধের মহা পরিনির্বাণ লাভের পর একে একে ছয়টি সংঘায়ন বা সংগীতি অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ সংঘায়ন হয় মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী ‘উনু’র সব ধরনের সহযোগিতায় রেঙ্গুনের কাছে বিশ্বশান্তি প্যাগোডার পাশে ‘মহা পাষাণ গুহায়’। ১৯৫৪ সালের ১৭ মে দুপুরে শুরু হয়ে সংঘায়ন টানা দুই বছর স্থায়ী হয়। ১৯৫৬ সালের ২৪ মে শুভ বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে তা শেষ হয়। এটিই ‘ষষ্ঠ সংগীতি’। এই সংঘায়নে পণ্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথেরর গুরু বিনয়াচার্য আর্যবংশ মহাথের ছিলেন বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা একমাত্র বাঙালি বৌদ্ধ ভিক্ষু। গুরুর কারণে সত্যপ্রিয় মহাথেরও সেই সংঘায়নে অংশ নেওয়ার দুর্লভ সুযোগ পেয়েছিলেন। গুরুর মতোই তাকে মেনে সত্যপ্রিয় মহাথের নম্রতা, বিনয়কে আশ্রয় করে চারিত্রিক দৃঢ়তাকে জীবনের অবলম্বন করে ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়েছেন। নিজের মেধা, প্রজ্ঞা, জ্ঞান-গরিমা, নীতি-আদর্শ গুণে বাংলাদেশের পুরো বৌদ্ধ সমাজে নিজেকে, এই গুণগুলোকে ছড়িয়ে দিতে তার বেশি সময় লাগেনি। ততদিনে পুরো বৌদ্ধ সমাজও জেনে গেছেন, নম্রতা, বিনয়ের বলয়ে ঘেরা বিশুদ্ধ এক ব্রহ্মচারী সত্যপ্রিয় মহাথের। আগের মতোই আগামী দিনেও বৌদ্ধ সমাজ তাদের ধর্মগ্রন্থ ত্রিপিটক শাস্ত্রে অসাধারণ পাণ্ডিত্য ও সুললিত কণ্ঠে জ্ঞানগর্ভ ধর্মীয় নির্দেশনা দান করে দেশের এ প্রান্ত থেকে ঐ প্রান্তে নিরন্তর ছুটে চলা সত্যপ্রিয় মহাথেরর নাম নেবেন পরম শ্রদ্ধায়।
৬.
১৪ মার্চ ২০০৩ সাল। ত্রিপিটক শাস্ত্রে অসাধারণ পাণ্ডিত্য ও শাসন-সদ্ধর্মের প্রচার এবং প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় মিয়ানমার সরকার সত্যপ্রিয় মহাথেরকে রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় মর্যাদায় সর্বোচ্চ সম্মানের সঙ্গে ‘অগ্গমহাসদ্ধর্মজ্যোতিকাধ্বজ’ (অগ্রমহাসদ্ধর্মজ্যোতিপতাকা) উপাধি দেন। এ ধর্মীয় উপাধি হলেও পদক গ্রহণ করতে গিয়ে তিনি মিয়ানমারে রাষ্ট্রীয় সফরে নিজের দেশ বাংলাদেশের পতাকাই উড়িয়েছিলেন। সেদিন পৃথিবীর নানান রাষ্ট্র থেকে আসা আর সবাইকে অবাক করে দিয়েছিলেন একমাত্র বাংলাদেশি এই বৌদ্ধভিক্ষু। ২০০৬ সালের ১৩ নভেম্বর বাংলাদেশি বৌদ্ধভিক্ষুদের সর্বোচ্চ সাংঘিক ধর্মীয় সংগঠন বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। সিঙ্গাপুর, জাপান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, ভুটান, নেপাল, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ডের জেনেভাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ও রাজধানীতে তিনি আন্তর্জাতিক ধর্মীয় সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। বেশ কটি সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি ছিলেন।
৭.
এই ভিক্ষু লেখালেখিতেও পিছিয়ে ছিলেন না। বেশকটি মূল্যবান ধর্মীয় গ্রন্থ লিখেছেন। তার সর্বশেষ অনুবাদ করা বই–বিনয় পিটকের অন্তর্গত ‘চুল্লবর্গ’। তিনিই প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেছেন। ২০০৩ সালে প্রয়াত সাধনানন্দ মহাথের (বন ভান্তে)’র উদ্যোগে রাঙ্গামাটি রাজবন বিহার থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এরপর প্রকাশিত হয়েছে ২০০৮ সালে। প্রকাশের চার বছরের মধ্যে ২০১২ সালে রামু সহিংসতার আগুনে তার ও আমাদের কাছে রাখা সব বই পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। ২০১৩ সালে তাইওয়ান থেকে গুরুত্ব বিবেচনা করে বইটি আবার প্রকাশ করা হয়েছে। এখন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বৌদ্ধধর্মের উচ্চতর শিক্ষায় প্রয়োজনীয় গ্রন্থ হিসেবে পড়া হয়। এই বইটির অনুবাদক-লেখক হিসেবে ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বৌদ্ধ ধর্মীয় সংগঠন তাকে শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করেছে।
৮.
সত্যপ্রিয় মহাথের দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা পুরো বৌদ্ধ সমাজে অতি পরিচিত ও নন্দিত নাম। তারপরও তিনি বাংলাদেশের জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে; সরকারের শীর্ষ মহলের নজরে আসেন ২০১২ সালের রামু সহিংসতার পর। ঘটনাটির পর সারা বিশ্ববাসী দেখেছে, সর্বস্বান্ত হয়ে যাওয়া সত্যপ্রিয় মহাথের কতটা ধৈর্য, মৈত্রী এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনায় ভয়ংকর সেসব পরিস্থিতির মোকাবেলা করেছেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আগের মতোই রেখে আতঙ্কিত, ভয়ার্ত, ক্ষতিগ্রস্তদের তিনি সেই দুঃসময়ে অভয় দিয়েছিলেন। ভীষণ ঘটনাটি যে তার কোমল মনের ভেতরে দাগ কাটেনি তা নয়, কিন্তু তিনি যে অভিভাবক ছিলেন। তিনি দুমড়ে-মুচড়ে গেলে সবাই ভেঙে পড়বেন জানতেন। তিনি পুরো পরিস্থিতি সামাল দিলেও এরপর থেকে অসুস্থ হয়ে গিয়েছেন। ২০১২ সালের পর থেকেই গুরুদেবকে দফায় দফায় হাসপাতালে নিতে হয়েছে। তখন থেকে সত্যপ্রিয় মহাথের প্রধানমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কারণে বারবার উন্নত চিকিৎসা পেয়েছেন। তারা গুরুদেবের খোঁজখবর রাখতেন। রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী শেখ হাসিনা গুরুদেবকে সবসময় তার উপযুক্ত মর্যাদা ও সম্মান দিয়েছেন।
৯.
গুরুদেবের একটা আশ্চর্য গুণ ছিল তিনি কখনো কুল, অঞ্চল, গুরু-শিষ্য, সম্প্রদায় বিচার করে কাউকে মূল্যায়ন করতেন না। সবাইকে নিমিষেই আপন করে নিতেন। আজীবন টাকা-পয়সা স্পর্শ থেকে বিরত থেকেছেন। নম্রতা ও বিনয় ছিল তার জীবন।
ভিক্ষু প্রজ্ঞানন্দ : রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারের সহকারী পরিচালক ও কক্সবাজার জেলা বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি।