জবি ভিসির যুবলীগের চেয়ারম্যান হওয়ার আগ্রহে বিস্মিত মোশাররফ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান যুবলীগের চেয়ারম্যান হওয়ার আগ্রহ প্রকাশের খবরে বিস্মিত হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

তিনি বলেছেন, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এমন কথা বলতে পারেন না। এটা সমাজ পচনের অন্যতম উদাহরণ।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জিয়া মুক্তি পরিষদ আয়োজিত প্রতিবাদ সভাপতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

মোশাররফ হোসেন বলেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র ছিলাম। হলের ভিপি ছিলাম। তারপর ঢাবিতে শিক্ষকতা শুরু করেছি। বিভাগীয় চেয়ারম্যানও হয়েছি। ছাত্রজীবন থেকে শিক্ষকতা জীবন পর্যন্ত অনেক ভিসি দেখেছি। একটি রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠনের সভাপতির পদ দেওয়া হলে ভিসির পদ ছেড়ে দেবেন- এমন কথা কোনোও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বলতে পারেন না। আসলে এটা সমাজ পচনের অন্যতম উদাহরণ।

ঢাবির সাবেক এই অধ্যাপক বলেন, যে ভিসি ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীদের শাসন করবেন, তার চোখ রাঙানিতে ক্যাম্পাস প্রকম্পিত থাকবে, সে যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব নিতে চায়। ভিসি যুবলীগের সভাপতির পদ নিতে চায় কারণ, সেখানে হাজার হাজার কোটি টাকা পাবেন।

তিনি বলেন, ঈদের আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভিসি জাবি ছাত্রলীগ শাখার নেতাদের এক কোটি ৮০ লাখ টাকা ঈদ বকশিশ দিয়েছেন। তার কাছে কি টাকা তৈরির মেশিন আছে, নাকি গাছ আছে? বিষয়টি আরও দুর্ভাগ্যজনক।

ভারত সঙ্গে চুক্তির সমালোচনা করে বিএনপির এই নীতি নির্ধারক বলেন, দেশে জনগণের সরকার থাকলে ভারতের সঙ্গে এভাবে চুক্তি করতে পারত না। দুর্বল সরকার বলে তারা চুক্তি করেছে। ভারতের সঙ্গে আমরা সুসম্পর্ক, ভাই-ভাই হিসেবে পাশাপাশি থাকতে চাই সমতার ভিত্তিতে। এটাই আমাদের পররাষ্ট্রনীতি। তিস্তা চুক্তি নিয়ে কোনোও সমাধান নেই, অভিন্ন ৫৪ নদীতে ভারত বাঁধ দিয়েছে সে নিয়ে কথা নেই, ফেনি আমাদের নদী, সেটার পানি মানবিক কারণে ভারতকে দেওয়া হয়েছে। অথচ চুক্তির আগেই ভারত ফেনি নদীতে ৩৫টি পাম্পের মাধ্যমে অবৈধভাবে পানি তুলে নিচ্ছে।

মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করেছে। ৯-১০টি ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে গেছে। সরকারের লুটেরা ব্যবসায়ীরা ঋণ নিয়ে তা ফেরত দিচ্ছেন না। তাদেরকে আরও সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনে যারা আছেন, তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না।

তিনি বলেন, কারাবন্দী খালেদা জিয়ার জামিন তার প্রাপ্য অধিকার। কিন্তু তাকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। আমাদের অনেকে বলেছেন, আইনজীবীরা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারছেন না। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এখন খালেদা জিয়াকে জামিনে মুক্ত করতে হলে সবাইকে আন্দোলন সংগ্রামের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। ঘরের ভেতর বসে বক্তব্য দিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে না।

সংগঠনের সভাপতি তাজুল ইসলাম গাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নবী উল্লাহ নবী, ফরিদউদ্দিন প্রমুখ।