ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরের মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে প্রতিদিন বাড়ছে দুর্ঘটনার সংখ্যা। হতাহত হচ্ছে বহু মানুষ। চলতি বছর ২ আগস্ট ঠাকুরগাঁও-ঢাকা মহাসড়কের খোচাবাড়ি নামক স্থানে নৈশ কোচ ও মিনিবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১১ যাত্রী প্রাণ হারান। একই মাসে অন্য পাঁচ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান আরও নয়জন। আর চলতি মাসে ইতিমধ্যে মারা গেছেন তিনজন। এ নিয়ে এ বছরের এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৩৩ জন।
ঠাকুরগাঁও জেলা মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে গত চার বছরে প্রাণ হারিয়েছেন ৭৭ জন। এর মধ্যে ২০১৫ সালে ২৮, ২০১৬ সালে ২৪, ২০১৭ সালে ১২ ও ২০১৮ সালে ১৩ জন নিহত হন। এর বিপরীতে নিয়মিত মামলা হয়েছে ২৭টি আর ইউডি মামলা হয়েছে ৪৮টি। এ নিয়ে ২০১৫ থেকে ’১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাণ হারালেন ১১০ জন। ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার কার্যালয় ও হাসপাতাল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে।
সড়কে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও সড়ক বিভাগ যৌথভাবে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরের মহাসড়কগুলোর ১৯টি স্পটে ত্রুটি বের করে। এর মধ্যে ওই স্পটগুলোতে সড়কের দুপাশে জঙ্গল ও গাছ কাটা, সড়কের ধারে গাছের গুঁড়ি ও বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণ করা, সড়কে বাঁক কমানো, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় গাড়ি গতি কমানোর সিগন্যাল দেওয়া, মহাসড়কে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো প্রবণতা কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এছাড়াও অদক্ষ গাড়িচালকের দক্ষতা বাড়ানো, বিশ্রাম ছাড়া দূরপাল্লার গাড়ি না চালানোর ওপর প্রস্তাবনা আনে।
ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান মনির মহাসড়কের ঠাকুরগাঁওয়ের অংশে পুলিশের চাঁদাবাজির কথা অস্বীকার করে বলেছেন, মোটর শ্রমিকের বিরুদ্ধে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ আছে। সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধের পাশাপাশি ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তি বাড়ানো প্রয়োজন।
ঠাকুরগাঁও সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মনসুরুল আজিজ বলেন, চালক ও পথচারীরা ট্রাফিক আইন মেনে চললেই অনেকাংশ দুর্ঘটনা কমে আসবে।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কেএম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মহাসড়কে দুর্ঘটনার প্রবণতা বাড়ছে। এজন্য বেশকিছু কারণ উদঘাটন করা হয়েছে। চালকের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়ন্ত্রিতভাবে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক আইন মেনে চলাসহ ঠাকুরগাঁওয়ের ৩১ কিলোমিটার মহাসড়কে দুর্ঘটনাপ্রবণ ১৯টি স্পটের সমস্যা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।