জাহারা মিতু। মডেল ও উপস্থাপিকা হিসেবে জনপ্রিয় তিনি। বদিউল আলম খোকন পরিচালিত ‘আগুন’ সিনেমার মাধ্যমে তার অভিষেক ঘটছে সিনেমায়। এই সিনেমায় শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করছেন তিনি। দেশ রূপান্তরের মুখোমুখি হয়ে জাহারা মিতু জানালেন সিনেমায় প্রথম অভিনয়ের গল্প…
যেভাবে শুরু…
প্রোডাকশন হাউসের পক্ষ থেকে খোরশেদ নামের একজন আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। পরে শাকিব খান ও বদিউল আলম খোকনের নাম শুনে রাজি হয়ে যাই। এরপরে সাইনিং হলো। সেদিন পরিচালক ও প্রযোজক ছিলেন। এরপর তো মহরত। অলরেডি শুটিংও শেষ। শুধু চারটি গানের শুটিং বাকি আছে।
শুটিং কোথায় করলেন?
শুটিং হয়েছে ঢাকায় এফডিসিতে, গাজীপুর আর কক্সবাজারে সিনেমাটির শুটিং হয়েছে। আমি অংশ নিতে পেরেছি ঢাকা আর কক্সবাজারের শুটিংয়ে।
প্রথম সিনেমায় কাজ করার অভিজ্ঞতা…
আমি ক্যামেরার সামনে তো আর নতুন না। আগেও কাজ করেছি। কিন্তু ফিল্ম বা বড় পর্দা একটা ব্যাপার। আমার পরিকল্পনা ছিল আরও দুই বছর পরে সিনেমায় কাজ করার। কিন্তু হুট করেই এত বড় একটা সুযোগ এলো। সবাই মিলে আমাকে ডাকল। এ জন্য একটা প্রেশার ছিল- যারা আমাকে ডেকে কাজ দিয়েছেন তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারব কিনা। সে জন্য আমার ভেতর একটা নার্ভাসনেস কাজ করেছে। ক্যামেরার সামনে নয়, বড় পর্দার কথা ভেবে অনেক নার্ভাস ছিলাম।
শাকিব খানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
অনেক ভালো। উনি বুঝতেই দেন নাই যে আমি এত বড় একটা সুপারস্টারের সঙ্গে কাজ করছি। এটা বুঝতে দিলে হয়তো কাজটা আমার মতো আমি করতে পারতাম না। শাকিব খান অনেক বড় মাপের মানুষ। উনি যে কত বড় মাপের মানুষ তা ওনার সঙ্গে কাজ না করলে বুঝতে পারতাম না।
কাজের ক্ষেত্রে শাকিব খান কি কোনো পরামর্শ দিয়েছেন?
বেসিক্যালি পরামর্শ বলব না, বলব যে কাজের পরিবেশটাই তিনি এমন করে দিয়েছেন যে আমি যেন মনে করি তিনি যেমন একজন আর্টিস্ট আমিও তেমনি একজন আর্টিস্ট। এই ধারণাটাই আমার ভেতর সঞ্চার করে দিয়েছিলেন। আমার সঙ্গে শাকিব ভাইয়ের প্রথম দেখা হয় মহরতের দিন। এর আগে কখনোই ওনার সঙ্গে দেখা হয়নি। তো মহরতের দিন যখন মঞ্চে আমাকে ডাকল, তখন আমি নার্ভাস ফিল করছিলাম। যদিও আমি মঞ্চে বা মাইক্রোফোনে কথা বলতে অভ্যস্ত কিন্তু তারপরও আমি সেদিন নার্ভাস ফিল করছিলাম। আমি যখন মঞ্চে উঠছিলাম। তখন বলছিলাম যে, ভাইয়া ভয় লাগছে। উনি বললেন যে একদমই ভয় পাবে না। আমরা তোমার সঙ্গে আছি। ওনার এই কথাটাই কিন্তু আমার শক্তি ছিল। ফলে কাজের পরিবেশ কিন্তু উনিই তৈরি করে দিলেন। আমার মনে হয় একজন বড় তারকার এভাবে নতুনদের স্বাগত জানানোর বিষয়টা সত্যিই একটা বড় ব্যাপার।
কাজ করতে গিয়ে কোনো সমস্যা হয়েছিল কি?
না। কোনো সমস্যা ফেস করিনি। সাইনিংয়ের দিন প্রযোজক আমাকে বলেছিলেন কোনো সমস্যা হলে যেন তাকে বড় ভাই হিসেবে জানাই। তো শুটিংয়ে বদিউল আলম খোকন ভাই আমার সবকিছু এমনভাবে দেখভাল করেছেন যে আমি অভিযোগ করার কোনো সুযোগই পাইনি। আর সিনেমায় নতুন হিসেবে কোনো প্রবলেম ফেস করতেও তারা দেননি। স্মোথলি কাজ করতে পেরেছি। খোকন ভাই খুবই ভালো মানুষ। যারা তার অধস্তন আছেন তারাও আমাকে সাহায্য করেছেন। তারাও আমাকে এমনভাবে সাপোর্ট করেছেন যে অভিযোগ করার মতো কিছু পাই নাই।
পরিচালকের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞা…
খোকন ভাইয়ের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা অনেক ভালো। এই মুহূর্তে ইন্ডাস্ট্রিতে যে দুয়েকজন সিনিয়র পরিচালক কাজ করছেন তাদের মধ্যে তিনি একজন। উনি অনেকটা সাপোর্টিভ। একজন পরিচালকের যতটা সাপোর্টিভ হওয়া দরকার ততটাই তিনি। আর সত্যি কথা কি উনাকে নিয়ে বা কাউকে নিয়ে তুলনামূলক মন্তব্য করাটা আমার বোকামি হবে। কারণ আমি তো কেবল কাজ শুরু করলাম। ফলে তুলনা করার মতো অভিজ্ঞতাও আমার হয়নি।
নতুন কোনো সিনেমার প্রস্তাব কি এসেছে?
নতুন সিনেমার অফার তো আসছেই। সত্যি কথা বলতে আমার যেহেতু ইচ্ছেই ছিল না এই মুহূর্তেই সিনেমায় কাজ করব। তো আমি একটু ধীরে সুস্থে এগোতে চাই। একটা ফিল্ম করার জন্য যে প্রিপারেশন দরকার, অভিনয় নিয়ে যে ভাবনা দরকার বা চরিত্র করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার ব্যাপার আছে। কিন্তু এসব না নিয়েই কাজ শুরু করেছিলাম। আমার লাইফে খুব তাড়াহুড়া করে সিনেমাটা হয়ে গেছে। এখন পরের সিনেমাগুলো একটু ভেবে চিন্তে প্রস্তুতি নিয়েই করব। আমার হাতে যে প্রস্তাবগুলো এসেছে ভেবে দেখলাম সেগুলো করা ঠিক হবে না। কারণ আমি চাচ্ছি ‘আগুন’ সিনেমাটা আগে রিলিজ হোক। আর রিলিজের আগে যদি সিনেমা করিই তাহলে একটু ভালো বাজেটের সিনেমা, ভালো প্রোডাকশনে কাজ করতে চাই। মানুষ যাতে মনে করেন যে আমি ভালো মানের সিনেমাতেই কাজ করি। ফলে আমি যে লেভেলটা প্রত্যাশা করি সেই লেভেলটা পেলেই আমি সিনেমা করব।