আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যন্ত্রপাতি অকেজো, শূন্য পদ ৩৪

‘অকেজো’ আর ‘নেই’ দিয়ে চলছে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এখানে রোগীর চিকিৎসাসেবার জন্য প্রয়োজনীয় লোকবলের যেমন ঘাটতি আছে, তেমনি অতি জরুরি যন্ত্রপাতিও পড়ে আছে অকেজো হয়ে। কোনো কোনোটি চলছে ধুঁকে ধুঁকে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি নষ্ট দীর্ঘদিন ধরে। অকেজো হয়ে পড়ে আছে এক্স-রে ও ইসিজি মেশিন। প্যাথলজি বিভাগে নেই অ্যানালাইজার, অ্যানালাইটিকেল ব্যালেন্স, রেফ্রিজারেটর ও রোটেটর মেশিন। এ হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার (ওটি) থাকলেও নেই কোনো জনবল, যন্ত্রপাতিও। নেইয়ের তালিকায় আছে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একজন কর্মচারী বলেন, পাঁচ বছর ধরে এক্স-রে মেশিনটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে নেই অপারেটরও। এক্স-রে ও ইসিজি মেশিন সচল করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বহুবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন দেওয়ার জন্য জানানো হলেও সাড়া মেলেনি। হাসপাতালে আসা রোগী জয়নাব বেগম বলেন, হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন নষ্ট থাকায় ২০০ টাকা দিয়ে বাইরের ক্লিনিক থেকে এক্স-রে করতে হয়েছে।

৩১ শয্যার এ হাসপাতালটি ২০০৬ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তবে প্রতিদিন রোগী ভর্তি থাকে শতাধিক। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেয় তিন শতাধিক রোগী। কিন্তু সে অনুযায়ী জনবল পদায়ন করা হয়নি। বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসক কর্মকর্তার ৩২টি পদের মধ্যে ১৫টি, স্টাফ নার্সের ২২টির মধ্যে ৪টি, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ৭টির মধ্যে ৬টি ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ২২টি পদের মধ্যে ৯টি শূন্য। সবমিলিয়ে শূন্য পদের সংখ্যা ৩৪।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (আবাসিক) রিপন দত্ত বলেন, এ হাসপাতালে আনোয়ারা উপজেলা ছাড়াও আশপাশের উপজেলার রোগীরা এসে ভর্তি হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত শয্যা না থাকার কারণে হাসপাতালের মেঝেতেও অনেককে চিকিৎসা নিতে হয়। এছাড়া সার্জারিসহ বেশিরভাগ কনসালটেন্ট না থাকায় রোগীদের চিকিৎসা প্রদানে সমস্যা হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু জাহিদ মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন বলেন, হাসপাতালের এসব সমস্যার কথা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বহুবার চিঠি লেখা হলেও প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান ছিদ্দিকী বলেন, ওই হাসপাতালে ডিজিটাল এক্স-রে ও ইসিজি মেশিন বরাদ্দের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বলা হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় লোকবলের ঘাটতি শিগগির পূরণ করা হবে।