হঠাৎ ‘হস্তিশাবকের’ হামলায় তছনছ ১৩০ বছরের সাজানো ‘বাগান’। মাত্র চার বছরের এই শাবক বন ছেড়ে লোকালয়ে নেমেই কী তুলকালামটাই না করল রবিবার! শেখ কামাল ক্লাব কাপে এক বিস্ময় হয়ে হাজির ফুটবলে অনগ্রসর লাওসের দল ইয়ং এলিফ্যান্ট এফসি। রবিবার এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে ভারতের প্রাচীনতম মোহনবাগানকে ২-১ গোলে হারিয়ে বড় এক চমকই দিয়েছে তারা। অথচ এই দলে খেলেন লাওসের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। দলটিতে নেই কোনো ভিনদেশি ফুটবলার। আর মোহনবাগান খেলেছে পাঁচ স্প্যানিশ নিয়ে। শক্তিমত্তায় এগিয়ে থাকা প্রবল প্রতিপক্ষকে থমকে দিয়ে ‘এ’ গ্রুপের লড়াইটা জমিয়ে দিয়েছে এলিফ্যান্ট এফসি।
সপ্তাহ খানেক আগে চার বছর আগে জন্ম নেওয়া এই ক্লাবটির কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন সিঙ্গাপুরের সালভারাস ভেনগাদাসালাম। স্বল্প সময়েই শিষ্যদের মধ্যে দেখেছেন ভালো কিছু করার অদম্য স্পৃহা। আন্তর্জাতিক আঙিনায় অভিষেক আসরেই তাদের নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখছেন সালভারাস। তার শিষ্যরাও যেন তাদের সেরাটা ঢেলে দিতে পুরোদস্তুর প্রস্তুত। অভিষেকের সূচনা যদি হয় জয় দিয়ে, তবে এ দল আরও বড় স্বপ্ন দেখতেই পারে। ‘আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী যতটুকু পারি যাওয়ার চেষ্টা করবা’Ñ আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এভাবেই বলছিলেন এই কোচ। শিষ্যদের এমন লড়াকু খেলায় নিজেও বিস্মিত, ‘এই দলটার বেশিরভাগই কলেজ ও হাইস্কুল পড়–য়া। ১৮ বছরের খেলোয়াড়ই বেশি। গত বয়স ২০। তবে এদের মধ্যে লড়িয়ে মানসিকতা দেখেছি। এরা ঐক্যবদ্ধ। এক সঙ্গে আক্রমণে ওঠে। আবার রক্ষণ সামলায়ও একসঙ্গে। একে অপরকে সাহায্য করে। বলতে পারেন এটাই এদের বিশেষত্ব।’
মোহনবাগানের অভিজ্ঞ স্প্যানিশ কোচ হোসে আন্তোনিও’র কৌশলকে ভুল প্রমাণ করে এলিফ্যান্ট প্রতিপক্ষের রক্ষণে ভীতি ছড়িয়েছে বারবার। শেষ মুহূর্তে বাগানকে পেনাল্টির সুযোগ নষ্টের মাশুল গুনতে হয় পরের মুহূর্তের গোল হজমে। এদের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতার বিষয়টি বুঝে গেছেন এলিফ্যান্ট কোচ সালভারাস, ‘আসার আগে মোহনবাগানের কিছু ভিডিও দেখেছিলাম। আর এই দলটির আগের কোচের কাছ থেকে পাওয়া কিছু তথ্য থেকে যেটা বুঝেছি এরা ক্লাবে একসঙ্গে থাকে একটি বাড়ির পরিবেশে। যা তাদের কাছাকাছি করেছে ভীষণভাবে। বাগানকে নিয়ে আমাদের পরিকল্পনাই ছিল নিজের রক্ষণ সামলে আক্রমণে ওঠার। আমার নির্দেশনা ছেলেরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে এখন বড় কিছুর স্বপ্নই দেখছে।’
কোচ জানালেন পেছন থেকে এই তরুণদের স্বপ্ন দেখান ক্লাবটির প্রেসিডেন্ট জেসন লিম, ‘তিনি অন্যরকম মানুষ। নিজের অবস্থান ভুলে ছেলেদের সঙ্গে মিশে গেছেন বন্ধুর মতো। বেঞ্চে বসে থেকে ছেলেদের সাহস দেন; যা তাদের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করে।’ সালভারাস আরও জানালেন, ‘লাওসের ঘরোয়া ফুটবলে বড় ভূমিকা ফেডারেশনের। তারা ক্লাবগুলোকে অনেক সহযোগিতা করে। তবে প্রতিটি ক্লাবেরই নিজস্ব মাঠ ও জিমনেশিয়াম রয়েছে। যেগুলো এশিয়ান মানের। দেশটির ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট জাতীয় দলের উন্নয়নে সম্প্রতি কিছু বিদেশি কোচকে নিয়ে এসেছেন। যারা বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করছেন। আমি মনে করি বাগানের বিপক্ষে এই জয় লাওসের সার্বিক ফুটবলের জন্য একটা ভালো বার্তা নিয়ে হাজির হবে।’
চট্টগ্রামে পা রাখার আগে তো এই ইয়ং এলিফ্যান্ট চেয়েছিলই নিজেদের প্রমাণ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির ফুটবল বিজ্ঞাপনে রূপ নিতে। সাজানো বাগান তছনছ করে শাবক থেকে মস্ত হাতি হওয়ার পথে ভালোভাবেই এগুচ্ছে দলটি।