যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২৭ মিনিটে যাত্রা শুরু করে কিউএফ৭৮৭৯। এরপর ১৬ হাজার ২শ’ কিলোমিটার পথ বিরতিহীন পাড়ি দিয়ে সিডনি পৌঁছায় অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪৩ মিনিটে।
কোয়ানটাসের উড়োজাহাজটির সব মিলিয়ে সময় লেগেছে সোয়া ১৯ ঘণ্টার মতো। তবে বাণিজ্যিকভাবে চালু হলে বাড়তি ওজনের কারণে ২০ ঘণ্টার মতো সময় লাগবে।
আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে জানা যায়, এর মাধ্যমে বিরতিহীনভাবে দীর্ঘতম উড়ার কৃতিত্বে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসকে পেছনে ফেলে দিল কোয়ানটাস।
উড়োজাহাজটি ছিল আনকোরা বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার। ৪০ জন যাত্রী, ১০ জন বিমানকর্মী এবং ৪ জন চালক-সহ পরীক্ষামূলকভাবেই উড়াল দেয়।
কোয়ানটাস কর্তৃপক্ষ জানান, এই বিরতিহীন রুট চালু হলে যাত্রীদের অনেকটা সময় বাঁচবে। তবে আকাশে এতটা পথ পাড়ি দিতে যাত্রীদের ক্ষেত্রেও যেমন বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। সে সব সমস্যা ও সমাধানই খতিয়ে দেখতেই এই পরীক্ষামূলক ফ্লাইটটি চালানো হয়।
১৫টি টাইম জোনের ওপর দিয়ে উড়েছে বিমানটি। ফলে ‘জেট-ল্যাগ’ একটা বড় সমস্যা। এর প্রভাব খানিকটা কমাতে প্রথম ৬ ঘণ্টা যাত্রীদের ঘুমাতে দেওয়া হয়নি।
পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে বেছে নেওয়া হয় সংস্থাটির বেশ কয়েকজন পুরোনো যাত্রী, অফ-ডিউটি কর্মচারী, গবেষক ও সাংবাদিককে। ওজন বেশি হলে আরও সময় লাগতে পারে- এই আশঙ্কায় যাত্রী সংখ্যা সীমিত রাখা হয়। সবাইকে বিজনেস ক্লাসে বসানো হয়। উড়োজাহাজের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাধারণ আসনের জায়গাতে তাদের কিছুটা সময় কাটাতে বলা হয়েছিল।
নিউইয়র্ক থেকে আকাশে ওড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেবিনের আলো, খাবার ও খাবারের তালিকাও সিডনি টাইম জোন অনুযায়ী সাজিয়ে ফেলা হয়। নিউইয়র্কে যখন রাত ১১টা ১৫ মিনিট তখনই ‘লাঞ্চ’ দেওয়া হয় যাত্রীদের। ভোর সোয়া ৪টা নাগাদ দেওয়া হয় ডিনার। শারীরিক সুবিধার কথা মাথায় রেখে মেনুটিও বিশেষভাবে তৈরি করা হয়।
পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ধরনের দীর্ঘ ফ্লাইটে পরিবেশের প্রচুর ক্ষতি করে। প্রথম ফ্লাইটেই ১০০ টন জ্বালানি খরচ হয়েছে। যা ৩১০ টন কার্বন ডাই অক্সাইড ছেড়েছে।
জানা গেছে, ২০২২ সালে শেষ দিকে নিউইয়র্ক থেকে সিডনি পর্যন্ত বিরতিহীন এই সেবা চালু করবে কোয়ানটাস। এই রুটের পর লন্ডন থেকে সিডনি পর্যন্ত বিরতিহীন ফ্লাইট শুরুরও পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির। আর এই রুটে বাড়তি ৮০৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে। সময়ও লাগবে বেশি।