টেলিভিশনের গুণী নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘হাওয়া’ নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন সম্প্রতি। পুরোদমেই কাজ চলছে সিনেমাটির। বর্তমানে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ও মধ্য সাগরে সিনেমাটির শুটিং করছেন সুমন। সেখানে চঞ্চল চৌধুরীসহ অন্য কলাকুশলীরা শুটিং করছেন।
উত্তাল সাগরের বুকে জীবন বাজি রেখে ‘হাওয়া’ সিনেমার কাজ করছেন বলে জানালেন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সাগরের মধ্যে শুটিং চলছে। আমরা মধ্য সাগরে জীবন বাজী রেখে কাজ করছি।’
এদিকে এই অভিনেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও সিনেমাটির ব্যাপারে কথা বলেছেন। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পরিচালক, চিত্রগ্রাহক ও নিজের তিনটি ছবির কোলাজ প্রকাশ করে তিনি নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন, সিনেমাটোগ্রাফার কামরুল হাসান খসরু এবং নিজেকে নিয়ে লিখেছেন।
মেজবাউর রহমান সুমনকে নিয়ে চঞ্চল লিখেছেন, ‘দেখতে কৃষ্ণ বর্ণের তামিল নায়ক মনে হলেও, আসলে সে আপাদমস্তক একজন নির্মাতা। বিজ্ঞাপন এবং নাট্যনির্মাতা হিসেবে দেশের সেরাদের একজন। ভালো ছেলে, ভদ্র ছেলে। আমার মতোই চারুকলায় পড়ালেখা করেছে, সে আমার খুব কাছের ছোট ভাই। ‘হাওয়া’ তার প্রথম স্বপ্ন, প্রথম সিনেমা নির্মাণ। দারুণ গল্প। কঠিন নির্মাণের জন্য সে আমাদের চূড়ান্ত কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যে সেন্ট মার্টিন মধ্য সমুদ্রে নিয়ে এসেছে। তার স্বপ্ন সফল হোক। সুমন সকলের দোয়াপ্রার্থী।’
চিত্র গাহক কামরুল হাসান খসরুকে নিয়ে তিনি লিখেন, ‘অমায়িক ছেলে, দুর্দান্ত ছেলে, ভদ্র যুবক। এর আগে ‘মনপুরা’ এবং ‘দেবী’ সিনেমায় ক্যামেরা চালিয়ে ফাটিয়ে দিয়েছেন।ক্যামেরার বডি আর তার বডি আলাদা করা কঠিন, মিলেমিশে একাকার। তার ক্যামেরার প্রত্যেকটা ফ্রেম এক একটা জীবন্ত ছবি। ফণা তুলে আছেন ‘হাওয়া’ সিনেমায় ক্যামেরা হাতে। এতটা প্রাণশক্তি দেখে সৃষ্টিকর্তাও খুশি হবেন।’
সর্বশেষে তিনি নিজেকে নিয়ে লিখেছেন। চঞ্চল বলেন, ‘আপনারে বড় বলে, বড় সেই নয়, লোকে যারে বড় বলে, বড় সেই হয়। আমি নিমিত্ত মাত্র। দর্শকের জন্য ভালো কিছু করার চেষ্টা করি। নতুন গল্প, নতুন চরিত্র পেলে সব ভুলে যাই। যুদ্ধ করি ভালো কাজের জন্য, অস্তিত্ব ধরে রাখার জন্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ছাড়া আরও যারা ‘হাওয়া’ সিনেমার জন্য এই মধ্য সাগরে জীবন বাজী রেখেছেন, তারা হলেন- সুমন আনোয়ার, শরিফুল রাজ, নাসির, বাবলু বোস, রিজভী, সোহেল, মাহমুদ এবং নাজিফা তুষিসহ ইউনিটের প্রায় ২০০জন মানুষ। প্রিয় দর্শক, আমরা হাসিমুখে অনেক কষ্ট করতে পারি শুধু আপনাদের জন্য। দুর্বার গতিতে এই মধ্য সাগরে চলছে ‘হাওয়া’ সিনেমার শুটিং।’
মেজবাউর রহমান সুমন বলেন, ‘হাওয়া হচ্ছে এ কালের রূপকথার গল্প। যার প্রধান উপাদান সমুদ্র, ঢেউ আর একটি ট্রলার। আবহমান কাল ধরে চলে আসা যে রূপকথা আমরা শুনে এসেছি সেই রূপকথা হাওয়া নয়, তবে এই এই সময়ে যে অস্থিরতা তা থেকে বেরিয়ে এসে এক ধরনের ধ্যানমগ্ন নির্মল যাত্রার নাম হাওয়া’।’