শেরপুরের নকলা উপজেলার লাভা গ্রামে একটি ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পুলিশ ৩৫ জনের নাম উল্লেখসহ ৮০ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনার পর থেকেই ওই এলাকায় পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ফলে পুলিশের ভয়ে গ্রামটি এখন পুরুষ শূন্য। শুধু তাই নয়, এখানকার মহিলারাও পুলিশ উপস্থিত হলে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, নকলার লাভার গ্রামের একটি সালিস করতে গেলে ওই ঘটনায় একজন সালিসদার হিসেবে শ্যামল ও মূল অভিযুক্ত রিজনসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে পার্শ্ববর্তী গৌরদার এলাকার এক নারী। এ ঘটনায় শ্যামলকে ১৯ অক্টোবর বিকেলে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে সে অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে পানি ঢেলে সুস্থ করার সময় গ্রামবাসী তাকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় কর্তব্যরত ৪পুলিশ আহত হয়। পরে পুলিশ এ ঘটনা গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে আসামি ছিনতাইয়ের অভিযোগ করে ৮০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে এবং ৪ মহিলাসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রামবাসীর দাবি, তারা এ ঘটনা ঘটান নাই। আসামি শ্যামল অজ্ঞান হয়ে গেলে, তার হাতের হাতকড়া খুলে দেয় পুলিশ। গ্রামবাসী তাকে পানি ঢেলে সুস্থ করলে মানুষের জটলায় সে পালিয়ে যায়। এতে গ্রামবাসীর কোন দোষ নেই। এদিকে এ ঘটনার পর পুলিশি অভিযান অব্যাহত থাকায় গ্রামটি পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে।
শ্যামলের পরিবার ও গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে মঙ্গলবার দুপুরে শেরপুর জেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। শ্যামলের ভাই মো. মোকছেদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার ভাই শ্যামলকে পুলিশ গ্রেপ্তার করার পর নির্যাতন করে। পরে টাকা দেয়ার কথা বললে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। এরপর মাত্র দেড় বছরের শিশু সন্তানসহ শ্যামলের স্ত্রী সুবর্নাকেও গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। যা অমানবিক। বর্তমানে সুবর্ণা শিশু সন্তানসহ জেলা কারাগারে আটক আছেন। এ সময় তারা সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দাবি করেন।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আমিনুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, গ্রামবাসী যে অভিযোগ করেছে তা সত্য নয়। প্রকৃতপক্ষে দায়িত্বরত ৪পুলিশকে আহত করে আসামি শ্যামলকে ছিনতাই করা হয়েছে। পুলিশ দোষীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। নির্দোষ যারা তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নাই, তাদেরকে কোন হয়রানি করা হবে না। তবে দোষীদেরও ছাড় দেয়া হবে না।