২১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় ভারত-বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন দুই বাংলার রথী-মহারথীরা। কিংবদন্তি তারকারা যেমন ছিলেন তেমনি উপস্থিত ছিলেন এই সময়ের জনপ্রিয় তারকারাও। পুরো অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করে বাংলাদেশের শাহরিয়ার নাজিম জয় ও ওপার বাংলার মীরাক্কেল খ্যাত মীর আফসার আলী। এদিকে ভারত-বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কারের অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়েই উপস্থাপক জয়ের উপস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। জয়ের উপস্থাপনার ধরনে নাখোশ হয়েছেন তারকারাও। অনুষ্ঠানের একদিন পর সেই ক্ষোভ নিয়ে ফেসবুকে জয়ের সমালোচনা করলেন পরিচালক ইফতেখার চৌধুরী।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইফতেখার বলেন, ‘দুই দেশের চলচ্চিত্র জগতের তারকা শিল্পীদের অংশগ্রহণে এমন আয়োজন আমাদের উভয় দেশের জন্যই অনেক বেশি প্রেরণাদায়ী একটি ব্যাপার। দুই দেশের চলচ্চিত্র জগতের প্রায় সকল মহাতারকার উপস্থিতিতে এমন একটি বিরাট আয়োজন সফলভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ।কিন্তু কিছু বিষয়ে অসংগতি ব্যক্তিগতভাবে আমার খুবই চোখে লেগেছে বলেই উল্লেখ না করে পারছি না। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশের অভিনেতা, উপস্থাপক জয় ও ভারতের অভিনেতা উপস্থাপক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মীর। মীর তার অবস্থান থেকে ভারতীয় তারকাদের যথাযথ সম্মান, শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে উপস্থাপন করেছেন, হাইলাইট করেছেন, যা খুবই প্রশংসনীয়। তার স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থাপনা, প্রাসঙ্গিক হাস্যরস, এককথায় হিউমারের সঙ্গে কমনসেন্স এবং হোমওয়ার্কের সঠিক মিশেল অনুষ্ঠানটিকে দারুণ প্রাণবন্ত করে তুলেছিল। একইভাবে আমরা আশা করেছিলাম, জয়ও সমান দক্ষতা আর আন্তরিকতা দিয়ে আমাদের দেশের তারকাদের উপস্থাপন করবেন, হাইলাইট করবেন। কিন্তু দেখলাম, তার সম্ভবত অনুষ্ঠানটির ব্যাপারে বিশেষ কোনো পূর্ব প্রস্তুতিই নেওয়া ছিল না। বিশেষ কোনো হোমওয়ার্ক তিনি করেছিলেন বলে আমার মনে হয় না। তিনি এমনকি আমাদের চলচ্চিত্র জগতের সবাইকে চেনেন বলেও মনে হলো না।’
আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘মঞ্চের সামনের দিকে বসে ছিলেন ববি, যিনি এই সময়ের ব্যস্ততম ও দর্শকনন্দিত অভিনেত্রীদের একজন। উপস্থাপক তাকে মঞ্চে ডাকলেন না, বিশেষ কোনো মেনশনই করলেন না। ব্যাপারটা কার কেমন লেগেছে জানি না, আমার কাছে খুবই দৃষ্টিকটু মনে হয়েছে। ববি এই সময়ের ব্যস্ততম অভিনেত্রী, যার সব ছবিই সুপার হিট। ফেসবুক ইউটিউবের লাইক আর ভিউয়ের জোরে নয়, তার অভিনয় দক্ষতা আর দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতার জোরেই তিনি আজকের অবস্থানে এসেছেন। দুই বাংলার চলচ্চিত্র তারকাদের এত বড় আয়োজনে তিনি আমাদের দিক থেকে অনেক বড় আকর্ষণ হতে পারতেন। অথচ এই জগৎ সম্পর্কে অনভিজ্ঞ ও অজ্ঞ উপস্থাপক সেই সুযোগটাই নিতে পারলেন না। এমন ঘটনা তিনি প্রায়ই করেছেন। প্রায় কোনো তারকাকেই তিনি যথাযথ মূল্যায়ন করেননি বা সঠিকভাবে তাদের ইমেজকে তুলে ধরতে পারেননি।’
জয় আপত্তিকর ভাষায় ভাঁড়ামি করেছেন উল্লেখ করে ইফতেখার বলেন, ‘শাকিব খান কেবল বাংলাদেশেরই যে সবচেয়ে বড় তারকা, সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিনেতা এমন নয়। পশ্চিম বাংলার দর্শকদের কাছেও তিনি সমান জনপ্রিয়। কলকাতার বক্স অফিসেও তার একচেটিয়া রাজত্ব। ব্যক্তিগত কারণে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না, কিন্তু জয় সে কথা উল্লেখ করতে গিয়ে রীতিমতো আপত্তিকর ভাষায় ভাঁড়ামি করলেন। শাকিব উপস্থিত থাকতে পারবেন না- এ কথা জানিয়ে দেয়ার পরও অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে জয় দর্শকদের জানাতে থাকলেন যে, তিনি রাস্তায় আছেন, তার দেরি হচ্ছে। এবং এই দেরি বা লেট-কে তিনি প্রয়াত অর্থে রূপান্তর করে কমেডির অজুহাতে এত বড় ধৃষ্টতা দেখানোর স্পর্ধা তিনি কেন করলেন, তার কৈফিয়ত তাকে দিতে হবে, ক্ষমা চাইতে হবে।’
জয়ের সেন্স অব হিউমার অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘একটি স্যাটায়ার ধর্মী টিভি অনুষ্ঠান আর দুই দেশের চলচ্চিত্র জগতের সবচেয়ে বড় তারকাদের অংশগ্রহণে একটি আন্তর্জাতিক মানের অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান যে এক নয়- এটুকু বোঝার মতো কমনসেন্স উপস্থাপকের থাকা উচিত ছিল। কোথায় সস্তা সুড়সুড়ি মার্কা তামাশা করা যায়, আর কোথায় বুদ্ধিদীপ্ত সিট-কমেডি উপস্থাপন করতে হয়, এটুকু না জানলে বলতেই হচ্ছে, তিনি এই অনুষ্ঠান উপস্থাপনার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি ছিলেন না। আমাদের দেশের তারকাদের যদি আমরাই মূল্যায়ন না করি, হাইলাইট না করি, তাহলে আমাদের দেশে এত এত ব্যয় করে, এত রকম ঝামেলা পেরিয়ে এত বড় একটি আয়োজন আমরা কেন করলাম?’
তিনি আরও বলেন, ‘উপস্থাপক হলেন একটি অনুষ্ঠানের প্রাণ, ফেস অফ দ্য টোটাল অ্যারেঞ্জমেন্ট। আমাদের ক্যাপ্টেন যথেষ্ট প্রস্তুত ছিলেন না। আমার ব্যক্তিগত অভিমত, এ ধরনের বড় আয়োজনে ভবিষ্যতে আরও অনেক অনেক বেশি হোমওয়ার্ক করেই মঞ্চে আসা উচিত। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ভেবে দেখবেন, আশা করি।’
সবশেষে তিনি বলেন, ‘কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করতে নয়, বরং একটি সম্মানজনক ও গৌরবময় আয়োজনের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনায়, এবারের অভিজ্ঞতা থেকে ভবিষ্যতের আয়োজনকে ত্রুটিমুক্ত করার জন্যই কথাগুলো উল্লেখ করলাম। তথাপি, আমার বক্তব্য কাউকে ব্যক্তিগতভাবে কষ্ট দিয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’