হংকং বিক্ষোভের জন্ম দেয়া সেই ‘খুনি’ কারামুক্ত

যে ব্যক্তির গ্রেপ্তারকে ঘিরে হংকংয়ে আন্দোলনের সূচনা, তাকে মুক্তি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত বছর তাইওয়ানে নিজের গর্ভবতী বান্ধবীকে খুন করে তিনি হংকংয়ে পালিয়ে এসেছিলেন।

বিবিসি জানায়, বুধবার কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন ২০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি।

অভিযুক্ত চ্যান তং কাইকে তাইওয়ানের কাছে হস্তান্তর করতে বহিঃসমর্পণ আইন পরিবর্তনের পরিকল্পনা  করে হংকং।

এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে হংকংবাসী। কয়েক মাস ধরে চলা সরকার বিরোধী এই বিক্ষোভে অচল হয়ে পড়ে হংকং।

গত বছর তাইওয়ানে নিজের গর্ভবতী বান্ধবীকে খুন করে হংকংয়ে পালিয়ে আসার দায়ে অভিযুক্ত হন চ্যান তং কাই। কিন্তু  বহিঃসমর্পণ চুক্তি না থাকায় তাকে তাইওয়ানের কাছে হস্তান্তর করতে পারছিল না হংকং।

এ কারণে হংকং কর্তৃপক্ষ বহিঃসমর্পণ আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়। আইনটির সংশোধনী প্রস্তাবে চ্যানের মামলার কথা উল্লেখ করে তারা।

প্রস্তাবিত আইনটি পাস হলে চীন, তাইওয়ান ও ম্যাকাওয়ে কোনো মামলায় অভিযুক্ত কাউকে প্রত্যর্পণ করতে হবে হংকং কর্তৃপক্ষকে।

এর বিরুদ্ধে হংকংয়ের জনগণ ব্যাপক প্রতিক্রিয়া জানায়। সেখান থেকেই বিক্ষোভের সূচনা। এতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে।

এদিকে তাইওয়ান থেকে হংকংয়ে পালিয়ে আসলেও খুন হওয়া বান্ধবীর ক্রেডিট কার্ড থেকে অর্থ পাচারের দায়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯ মাস ধরে কারাগারে ছিলেন চ্যান।

তবে মুক্তি পাওয়ার পর নিহত বান্ধবীর পরিবারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে তাইওয়ানে ফিরে যাবেন বলে জানিয়েছেন চ্যান। তিনি স্বেচ্ছায় তাইওয়ান যাবেন, এমনটি জানালেও এখন পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে নতুন দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে হংকং ও তাইওয়ান।

হংকংয়ের ভাষ্য, নিজের ইচ্ছায় তাইওয়ান যাবেন এবং আত্মসমর্পণ করবেন চ্যান। কিন্তু তাকে পাহারা দিয়ে নিয়ে আসার জন্য কর্মকর্তাদের পাঠাতে বলেছে তাইওয়ান। তবে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে হংকং।

এদিকে চীনে বন্দী প্রত্যর্পণ আইন থেকে সূত্রপাত হওয়া বিক্ষোভ ক্রমশ গণতন্ত্রের দাবির আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। প্রস্তাবিত বিলটি সরকার স্থগিত রাখার ঘোষণা দিলেও হংকংবাসীরা এখনো বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে।