বহিঃসমর্পণের সুযোগ রেখে করা প্রস্তাবিত আইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে হংকংয়ের পার্লামেন্ট।
বিতর্কিত এই প্রস্তাবিত আইনের বিরুদ্ধে হংকংয়ের জনগণ কয়েকমাস ধরে বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে।
রয়টার্স জানায়, বুধবার হংকংয়ের পার্লামেন্টে বহিঃসমর্পণ সুযোগ রেখে প্রস্তাবিত আইনটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির একটি পূরণ হলো। বাকি চারটি দাবি হচ্ছে, কয়েক মাস ধরে চলে আসা বিক্ষোভকে ‘দাঙ্গা’ হিসেবে অভিহিত না করা, বিক্ষোভে পুলিশি হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সর্বজনীন ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।
তবে বাকি দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ স্থগিত করবে না বলে পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন।
গত বছর তাইওয়ানে নিজের গর্ভবতী বান্ধবীকে খুন করে হংকংয়ে পালিয়ে আসেন এক ব্যক্তি। কিন্তু বহিঃসমর্পণ চুক্তি না থাকায় তাকে তাইওয়ানের কাছে হস্তান্তর করতে পারছিল না হংকং।
এ কারণে হংকং কর্তৃপক্ষ বহিঃসমর্পণ আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়।
প্রস্তাবিত আইনটি পাস হলে চীন, তাইওয়ান ও ম্যাকাওয়ে কোনো মামলায় অভিযুক্ত কাউকে প্রত্যর্পণ করতে হতো হংকং কর্তৃপক্ষকে।
এর বিরুদ্ধে হংকংয়ের জনগণ ব্যাপক প্রতিক্রিয়া জানায়। সেখান থেকেই বিক্ষোভের সূচনা। এতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে।
বিক্ষোভকারীরা হংকং পার্লামেন্ট, বিমানবন্দর অবরুদ্ধ করে রাখে, সরকারি অফিসে ভাঙচুর ও পুলিশের দিকে পেট্রল বোমা ছুড়ে।
১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্য থেকে হংকংয়ের নিয়ন্ত্রণ নেয় চীন। এরপর এই প্রথম এমন সহিংসতা ও বিক্ষোভ দেখা গেল শহরটিতে।