আয়ের ভাগসহ দাবি আরো বাড়ালেন সাকিবরা

নিজেদের দাবি আদায়ে অনড় অবস্থানে রয়েছেন আন্দোলনরত ক্রিকেটাররা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বুধবার বিকেলে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন ক্রিকেটারদের প্রতি। কিন্তু সেই আহ্বানে সাড়া দেয়নি আন্দোলনরত ক্রিকেটাররা।

এদিন সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে নিজেদের মধ্যে বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলন করেন ক্রিকেটাররা। আইনজীবীর মাধ্যমে তুলে ধরেন ১৩টি দাবি। যে ১১ দফা দাবি জানিয়ে সোমবার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন ক্রিকেটাররা, সেই দাবিগুলোর সঙ্গে আরো দুটি দাবি যোগ করেছেন ক্রিকেটাররা।

সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটারদের মুখপাত্র সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান বলেন, নিজেদের দাবি আদায়ে অনড় অবস্থানে রয়েছেন ক্রিকেটাররা। দাবিগুলো চিঠির মাধ্যমে বিসিবিতেও প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান মোস্তাফিজুর রহমান খান।

নতুন যে ‍দুটি দাবি জানিয়েছেন ক্রিকেটাররা সেগুলো হলো- যে আয় পাচ্ছে বোর্ড তার একটি অংশ ক্রিকেটারদের দিতে হবে। এবং পুরুষ ক্রিকেটার ও নারী ক্রিকেটারদের বেতন বৈষম্য কমাতে হবে।

আগের দিন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছিলেন, এই আন্দোলনের পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে। তবে ক্রিকেটারদের মুখপাত্র মোস্তাফিজুর রহমান খান বলেন, কোনো ষড়যন্ত্র বা কোনো মহলের দারা প্রভাবিত হয়ে নয়। নিজেদের স্বার্থেই আন্দোলন করছেন ক্রিকেটাররা।

হঠাৎ ক্রিকেটারদের আইনজীবীর শরণাপন্ন হওয়ার বিষয়টিও পরিষ্কার করেন ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। তিনি বলেন, বোর্ডের বিপক্ষে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নয়। ক্রিকেটাররা চেয়েছেন একজন আইনজীবীর মাধ্যমে দাবিগুলো তুলে ধরলে ভালো। এ কারণেই তার শরণাপন্ন হয়েছেন ক্রিকেটাররা।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ ভাগে কথা বলেন টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তিনি বলেন, ‘যেহেতু বিসিবি ডেকেছে আমরা অবশ্যই যাব।’ তবে কখন যাবেন সেটা সবাই মিলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান তিনি।

যে ১৩ দাবি ক্রিকেটারদের-

১. কোয়াবের কর্মকর্তাদের পদত্যাগ করতে হবে এবং প্রফেশনাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন গঠন করতে হবে।

২. ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের দলবদল আগের নিয়মে ফিরে যেতে হবে।

৩. বিপিএলে দেশি ও বিদেশি ক্রিকেটারদের বেতন বৈষম্য কমাতে হবে।

৪. প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের বেতন কমপক্ষে ১ লক্ষ টাকা হতে হবে।

৫. কেন্দ্রিয় চুক্তিতে ক্রিকেটারদের সংখ্যা কমপক্ষে ৩০ জন করতে হবে।

৬. সাপোর্ট স্টাফদের বেতন বাড়াতে হবে।

৭.  লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ ও টুর্নামেন্ট বাড়াতে হবে।

৮. প্রতি বছর বাড়তি একটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট করতে হবে।

৯. ঘরোয়া ক্যালেন্ডার বা বছর জুড়ে একটি নির্দিষ্ট সূচি থাকতে হবে।

১০. খেলোয়াড়দের পাওয়া সময় মতো পরিশোধ করতে হবে।

১১. বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার জন্য কোনো সীমাবদ্ধতা রাখা যাবে না। দুইটির বেশি লিগে খেলতে দিতে হবে।

১২. যে আয় পাচ্ছে বোর্ড তার একটি অংশ ক্রিকেটারদের দিতে হবে।

১৩. পুরুষ ক্রিকেটার ও নারী ক্রিকেটারদের বেতন বৈষম্য কমাতে হবে। পুরুষ ক্রিকেটারদের সমান সম্মান ও তাদের পাওনা।