মানুষের জীবনে এমন আশ্চর্য ঘটনাও ঘটতে পারে! এক যুগেরও বেশি সময় ধরে খোঁজাখুঁজির পর এক মার্কিন নারী দেখলেন, পাশের বাড়িতেই থাকেন তার বোন।
বিবিসির এক ভিডিও স্টোরিতে এই দুই বোনের মিলনের গল্প উঠে আসে।
হিলারি হ্যারিস এবং ডন জনসন স্রেফ অপরিচিত ছিলেন পরস্পরের কাছে।
হিলারি বলেন, জন্মের পরপরই আমাকে দত্তক নেওয়া হয়। আমি উইসকনসিনের এলমউডে বড় হয়েছি। ২০০৮ সালে আমার স্বামীর সঙ্গে আমার দেখা হয়। ২০১১ সালের অক্টোবরে অ'ক্লেয়ারের এই বাড়িটা আমরা কিনি। তখন আমি গর্ভবতী হয়।
তিনি বলেন,‘একদিন আমি অ্যাডপশন এজেন্সিতে যাই এবং সেখানে নিজের সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য আমি জানতে পারি। আমি কোথায় থেকে এলাম, আমার বাবা-মা কে।’
‘আমি জানলাম, আমার আরও ভাই-বোন আছে। কিন্তু আমি আমার সৎ বোনকে খুঁজে পেলাম না। তার নাম হচ্ছে ডন জনসন।’
হিলারি বলেন, ‘আমরা যখন বাড়িটি দেখি, তখন বুঝতেই পারিনি যে, এটির পার্কিং স্পেস আরেক পরিবারের সঙ্গে আমাদের ভাগাভাগি করে নিতে হবে। ২০১৭ সালে ওই বাড়িতে এলো নতুন এক প্রতিবেশী। আমি সেটি জানতামও না। এমনকি তাদের সঙ্গে পরিচিতও হতে যাইনি।’
এদিকে ডন জনসন বলেন, ‘উইসকনসিনের একটি ছোট শহরে আমি বড় হয়েছি। আমরা যখন অ'ক্লেয়ারে আসি। আমরা ২০টির বেশি বাড়ি দেখেছিলাম।’
হিলারি বলেন, ‘একদিন আমার স্বামী এসে বললেন যে, নতুন প্রতিবেশীর সঙ্গে দেখা হয়েছে। আমি বলি, বেশ তো, তার নাম কি? সে বলল, ডন। তখন আমি চমকে উঠি। কিন্তু শুধু ডন হলেই তো সে আমার বোন হতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘একদিন আমি বাড়িতে ছিলাম। একটি বড় ট্রাক পার্কিংয়ে এসে থামে। সেটাতে বড় একটি ব্যানারে লাল রঙে লেখা ছিল-জনসন। আমার মনে হলো, ও গড, এটা তো ডন জনসন। এটি নিয়ে আমি বেশ উত্তেজিত হয়ে পড়লাম। আমার স্বামীও বিচলিত হয়ে পড়ে। সে বলে, ওদের কাছে গিয়ে তোমার জিজ্ঞাসা করা উচিত। আমি তাদের কাছে যাই। পার্কিংয়ে ডন বসেছিল। তার চুল কোকড়ানো আর আমার চুল স্বাভাবিক ঢেউখেলানো ছিল।’
জনসন বলেন, ‘আমি বুঝছিলাম এক জোড়া চোখ আমাকে আগাগোড়া পর্যবেক্ষণ করছে।’
হিলারি বলেন, ‘আমি তখন ফিরে আসলাম। আমার স্বামী বলল, তার সঙ্গে কথা না বলেই তুমি ফিরে এলে। আমি বললাম, আমি চাইনা কারও জীবন নষ্ট করতে। তখন আমি আবার আমার বাবার মৃত্যুসংবাদটি দেখলাম। সেখানে একটি তথ্য পেলাম। এরপর আমি জনসনকে ফোন দিলাম। তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি ১৯৮৩ সালের মিস লয়্যাল কনফেস্ট কুইন ছিলেন?’
তখন জনসন জানালেন, হ্যা তিনিই সেই মিস মিস লয়্যাল কনফেস্ট কুইন। হিলারি তাকে তার বাবার নাম জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তার বাবা ওয়েইন ক্লোজ, ২০১০ সালে তিনি মারা যান। তখন এই দুই মার্কিন নারীই বুঝতে পারলেন যে, তাদের বাবা একজনই এবং তারা পরস্পরের বোন।
স্বাভাবিকভাবেই আবেগে আপ্লুত হয়ে যান হিলারি। কারণ তিনি কখনো তার বাবাকে দেখেননি। জনসনও হতভম্ব হয়ে পড়েন। কীভাবে সম্ভব হলো এটি!
বাড়ি থেকে বের হয়ে দুইজনেই দেখা করেন। সৎ বোনকে কাছে পেয়ে তাকে জড়িয়ে ধরেন। জনসন তার জন্য বাবার ছবি নিয়ে আসে। সঙ্গে আনে উপহারও।
এভাবেই সিনেমার গল্পের মতো হিলারি খুঁজে পেলেন তার বোনকে।