হরিয়ানায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাল বিজেপি, মহারাষ্ট্রে কমেছে আসন

নিরঙ্কুশ জয়ে মহারাষ্ট্রে ভূমি দখল ধরে রাখল বিজেপি-শিবসেনা জোট। কিন্তু প্রায় সব জরিপ ভুল প্রমাণ করে দিয়ে সেখানে তাদের বেশ কিছু আসন কমেছে। আর হরিয়ানায় রীতিমতো বড় ধাক্কাই খেয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি।

এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়ান, আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে লোকসভায় জিতে দ্বিতীয় মেয়াদে কেন্দ্রে আসীন হওয়ার পর বিধানসভা নির্বাচনেও নিজেদের পক্ষে গণজোয়ার আশা করেছিল বিজেপি।

কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে বড় হোঁচট খেল বলতে গেলে দলটি। বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানা এই দুই রাজ্যজুড়ে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আর ১৮টি রাজ্যে ছিল কয়েকটি করে আসনের উপনির্বাচন।

বুথফেরত সমীক্ষায় ইঙ্গিত মিলছিল যে, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দুই রাজ্যেই ক্ষমতায় ফিরছে বিজেপি। বিরোধীদের অস্তিত্ব আরও সংকুচিত হতে চলেছে। কিন্তু ভোটের ফলাফল চমকে দিয়েছে।

মহারাষ্ট্রে বিজেপি এবং শিবসেনার জোট ফের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। এই রাজ্যে ২৮৮ আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ১৪৫টি। সেখানে গেরুয়া জোট পেয়েছে ১৬০টি আসন।

কিন্তু রাজ্যটির বিধানসভায় এবার ২০০ আসন পার করে দেওয়ার যে লক্ষ্যমাত্রা এই জোট ঘোষণা করেছিল, তার থেকে অনেক দূরে থেমে যেতে হয়েছে গেরুয়া শিবিরকে।

১৪৫টি আসন পেলে নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা মেলে মহারাষ্ট্রে। বিজেপি ২০১৪ সালে একাই ১৪২টি আসন পেয়েছিল। এবার তারা কোনোক্রমে ১০০ ছাড়িয়েছে।

আর ভোটের আগে থেকেই একক বৃহত্তম দল হওয়ার এবং আদিত্য ঠাকরেকে মুখ্যমন্ত্রী করতে জোর দাবি করে আসা শিবসেনা গতবার পাওয়া ৭৫টি আসনও ধরে রাখতে পারেনি। প্রায় ২০টা আসন কমেছে তাদের।

বিপরীতে কংগ্রেস-এনসিপি জোটের গতবারের তুলনায় আসনসংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ধারে কাছে না থাকলেও এই জোটের আসন বেড়েছে ১৮টি। এবার কংগ্রেস মহারাষ্ট্রের ময়দানে সেভাবে নামেনি বলতে গেলে, কিন্তু গতবারের চেয়ে কয়েকটি আসন বাড়িয়ে নিয়েছে তারা।  ‘মারাঠা স্ট্রংম্যান’ হিসেবে পরিচিত শারদ পাওয়ার বাজিমাত করে দিয়েছেন রীতিমতো। তার দল এনসিপি আসনসংখ্যায় নিশ্বাস ফেলতে শুরু করেছে সরকারের শরিক দল শিবসেনার একেবারে ঘাড়ের ওপরে।

শারদ পাওয়ারের মতো আরেক প্রবীণ রাজনীতিবিদ ভূপেন্দ্র সিংহ হুডা হরিয়ানায় কংগ্রেসকে দারুণ সাফল্য এনে দিয়েছেন। হরিয়ানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এই জাট নেতা রাহুল গান্ধীর তরুণ নেতৃত্ব তুলে আনার যে প্রক্রিয়ায় কিছুটা নিষ্প্রভ হয়ে পড়েছিলেন। কংগ্রেস ছাড়তে পারেন বলেও লোকসভা নির্বাচনের পরে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল।

কিন্তু এবার প্রায় শেষ মুহূর্তে এসে হরিয়ানায় দলের সেনাপতির ভূমিকায় হুডাকে ফিরিয়ে আনেন কংগ্রেসের অন্তর্বর্তীকালীন সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। এবং সেই শেষ লগ্নে মাঠে নেমেই কংগ্রেসের আসনসংখ্যা গত বারের দ্বিগুণে পৌঁছে দিয়েছেন হুডা।

৯০ আসনের হরিয়ানা বিধানসভায় ৪৬টি আসন পেলে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন হয়ে যায়। বিজেপি ২০১৪ সালে ৪৭টি আসনে জিতেছিল। এবার ৭৫ পার করার লক্ষ্য ছিল গেরুয়া নেতৃত্বের। তবে বুথফেরত জরিপ তেমনটি বলেনি। তবে আগেরবারের চেয়ে বেশ খানিকটা বাড়বে বিজেপির আসনসংখ্যা। কিন্তু দেখা গেল উল্টো চিত্র।

হরিয়ানা বিধানসভায় সবচেয়ে বড় দলের তকমা এবারও বিজেপি পেল ঠিকই, কিন্তু নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা হারাল তারা। ফলে বিধানসভা ধরে রাখতে হলে জোট করতে হবে গেরুয়া দলটিকে। সরকার ধরে রাখতে হলে হয় দুষ্যন্ত চৌটালার জেজেপি-র সমর্থন নিতে হবে বিজেপিকে। অথবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যারা জিতেছেন, তাদের প্রায় সকলকে পাশে টানতে হবে।

কংগ্রেসের জন্য অবশ্য সমীকরণটা আরও কঠিন। আসনসংখ্যা আগের বারের দ্বিগুণে নিয়ে যেতে পারলেও ম্যাজিক সংখ্যা থেকে হুডা অনেক দূরে। সরকার গড়তে হলে জেজেপি-কে এবং স্বতন্ত্র অধিকাংশকে একই সঙ্গে পাশে পেতে হবে।

চলতি বছরের এপ্রিল-মে মাসে লোকসভা নির্বাচনে এই মহারাষ্ট্র এবং হরিয়ানাতেই বিরোধীদের কোণঠাসা করে দিয়েছিল বিজেপি তথা এনডিএ। মোদি ঝড়ের ধাক্কায় দুই রাজ্যের বিরোধী শিবির মারাত্মকভাবে পরাস্ত হয়েছিল। কয়েকমাস পর বিধানসভায় তাই টালমাটাল পায়েই দোর্দণ্ডপ্রতাপ বিজেপির মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়েছিল বিরোধীদের। কিন্তু ভোটের ফলে নড়ে গেল বিজেপিরই আত্মবিশ্বাস।