‘বামপন্থী, তাই তারা শুধু মেননের নাম বলে’

ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে যাদের নাম প্রকাশিত হয়েছে তাদের মধ্যে পাঁচ নম্বরে রাশেদ খান মেনন রয়েছেন উল্লেখ করে বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেছেন, এক, দুই, তিন, চার বাদ দিয়ে মেননের নাম বারবার বলা হচ্ছে। কারণ মেনন বামপন্থী। এজন্য তারা শুধু মেননের নাম বলে।

তিনি বলেন, বিষয়টা এমন যে, একটা বামপন্থী তো পাওয়া গেল, যে ক্যাসিনোর টাকা খায়। আমরা মেননের আগে আরও যে চারজন আছে তাদের নাম জানতে চাই। তাদেরও বিচার চাই। শুধু চিকন আলীকে ফাঁসি দিলে হবে না।

শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে বাম গণতান্ত্রিক জোট আয়োজিত এক গণসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যার দ্রুত বিচার ও শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা, ভারতের সঙ্গে অসম চুক্তি বাতিল এবং চলমান দুঃশাসন রুখে দাঁড়ানোর দাবিতে এই গণসমাবেশের আয়োজন করা হয়।

আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে পার্থক্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম। তিনি বলেন, ‘বাইরে আওয়ামী লীগ সরকারি আর বিএনপি বিরোধী দল, কিন্তু ভেতরে তারা সব এক। শেয়ার মার্কেট লুটের সময়, ব্যাংক লুটের সময় তারা একই দল। এক সময় ছিল হাওয়া ভবনের লুটপাট, এখন হচ্ছে ক্যাসিনো লুট। গুলশান ক্লাব আর চট্টগ্রাম ক্লাবের ভেতরে তারা এক, বাইরে শুধু সরকারি দল আর বিরোধী দল।’

গণসংহতি আন্দোলন, চট্টগ্রামের সমন্বয়ক হাসান মারুফ রুমির সভাপতিত্বে বাসদ নেতা শফি উদ্দিন কবির আবিদের সঞ্চালনায় গণসমাবেশ বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে একতরফাভাবে ভারতের স্বার্থকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। তিস্তাসহ অভিন্ন নদীসমূহের পানির ন্যায্য হিস্যার বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখে ফেনী নদীর পানি ভারতকে প্রদান করার চুক্তি স্বাক্ষর করায় দেশের মানুষ ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়েছে। যা দেশ ও জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

সমাবেশে বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা মানস নন্দী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য আনছার আলী, সিপিবি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অশোক সাহা, ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল কাদেরী জয়সহ চট্টগ্রাম ও জেলার বাম জোটের নেতারা বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বামজোটের নেতাকর্মীরা নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।