প্রতি বুধবার গ্রামের এক সিএনজিচালক বিনা খরচে, নিজে সাহায্য করে রোগী হাসপাতালে ভর্তি করেন। প্রয়োজনে শহরের হাসপাতালে নিয়ে যান। লাশ পরিবহন করেন। হতদরিদ্র পরোপকারী চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার দিলীপ কুমার দাশকে নিয়ে লিখেছেন ও ছবি তুলেছেন জাহেদুল হক
বাড়ি তার চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের খানসামা গ্রামে। এখানেই জন্ম দিলীপ কুমার দাশের। অভাবের তাড়নায়, জীবনের তাগিদে যৌবনে চলে এলেন ঢাকায়। উমাচরণ কর্মকারের বিখ্যাত দাঁড়িপাল্লা তৈরির কারখানায় কারিগরের কাজ শুরু করলেন। তত দিনে স্ত্রী শিপ্রা দাশ, তিনটি সন্তানের সুখের সংসার হয়েছে। কোনোমতে টেনে-টুনে চলে। তবে বাড়ির কথা খুব মনে পড়ে। গ্রামের ছেলেটির সেই আলো-বাতাস; সঙ্গী, পরিজনদের মন কাঁদে। ফলে তাদের জন্য কিছু করতে সারাক্ষণ মন চাইত দিলীপের। থাকতে না পেরে চলে এলেন বাড়িতে। ২০১২ সাল থেকে টানা দেড়টি বছর রাজমিস্ত্রির কাজ করে নিজের ও পরিবারের পেটের দায় মিটিয়েছেন। তবে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খেটে কোনোমতে রোজগার করলেও মনের খিদে তো মেটাতে পারছেন না। ফলে সিএনজি বা অটোরিকশাচালকের কাজ শিখলেন কাজের ফাঁকে।
২০১৪ সালের জানুয়ারিতে শুরু হলো সিএনজিচালকের নতুন জীবন। ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করতে লাগলেন। তবে একদিনের হঠাৎ একটিটি ঘটনা চোখ খুলে দিল। পথ দেখাল কীভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াবেন- ‘একজন মুমূর্ষু রোগীকে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করাতে আত্মীয়রা আমার সিএনজিতে তুললেন। তাড়াতাড়ি গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছি। রোগী কষ্টে, ব্যথায় কাঁদছেন। যেতে যেতে পথে আমার মনটিও কেঁদে উঠল। তারা পৌঁছে যা দিলেন হাত পেতে নিলাম। একটি কথাও বলার মতো অবস্থা ছিল না।’ তারপর থেকে সপ্তাহের একটি দিন অন্য কোনো কাজ না করে বিনা খরচে, নিজের পরিশ্রম, ঘামে রোগীদের বিভিন্ন হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। মহৎ মানুষটির জন্ম হলো। এই
কাজের শুরু আজ থেকে পাঁচ বছর আগে, এক ঐতিহাসিক দিনে; সেই দিনটি ছিল ২৬ মার্চ, বুধবার; আমাদের স্বাধীনতা দিবস। ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতাযুদ্ধে বাঙালির জন্য যারা আত্মদান করেছেন, তাদের পুণ্য স্মৃতির প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে বিনা খরচে রোগী পরিবহনের কাজ শুরু করলেন দিলীপ। তখন থেকে তার সিএনজির পেছনে টাঙানো ব্যানার আছে, ‘সুখবর, চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের গুজরা, খানসামা ও উত্তর ইছাখালি গ্রামের দুস্থ ও গরিব রোগীদের বিনা ভাড়ায় প্রতি বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সিএনজিতে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা-নেওয়া করা হয় এবং জরুরি অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও পৌঁছে দেওয়া হয়।’ নিজের খরচে ব্যানার টাঙিয়ে বেরিয়ে পড়লেন, যাতে গ্রামের লোকরা রোগী বহনে সাহায্য করেন। তাতে তার মোবাইল নম্বরও আছে। তার আগেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দেয়ালে, দেয়ালে দিলীপের সাঁটানো কাগজের ছোট বিজ্ঞাপন ঝুলছে। সেখানেও মোবাইল নম্বর দিয়েছেন মানুষের উপকারের জন্য। তবে আত্মীয়, বন্ধু, বউ, ছেলেমেয়েরাও নানাভাবে টিটকারি, খেয়ে কাজ নেই বলে অপমান করলেন তাকে। এখনো এই পরিবারের কর্তার মনে পড়ে, ‘আমার ছেলেমেয়ে, স্ত্রী অভাবের সংসারে এমন কাজ করেছি বলে অনেক বকেছে।’ তখন তাদের পূর্ব আনোয়ারার জন্মভূমি হাইলধর ও পাশের পরৈকোড়া গ্রামের রোগীদের হাসপাতালে পৌঁছানো এবং পয়সা না থাকলে ফেরত আনার কাজ করতেন। পরে তিন গ্রামের রোগীদের ফোন পেলেই আনা-নেওয়া শুরু করলেন। আস্তে আস্তে মানুষ, গরিবের অন্তরে তার জন্য ভালোবাসা ছড়াল। এখন আর কোনো বুধবারই তাকে বসে থাকতে হয় না। যেখান থেকেই ফোন করুন না কেন বেরিয়ে পড়েন দিলীপ। কেন? ‘প্রতি বুধবার অন্তত একজন রোগী আনা-নেওয়া করতে না পারলে খুব খারাপ লাগে। মনটি দাদা মানে না।’ এ মাসের বুধবার ১৬ অক্টোবর তাকে পাওয়া গেল উত্তর ইছাখালি। শ্বাসকষ্টের রোগী মমতাজ বেগমকে নিজের সিএনজিতে বিনা ভাড়ায় হাসপাতালে পৌঁছে দিচ্ছেন। বললেন, ‘দিলীপকে না পেলে হাসপাতালেই পৌঁছাতে পারতাম না। আমাদের গ্রামের রোগীদের খুব বড় ভরসা ছেলেটি।’ এমন আরও অনেক ঘটনা আছে তার স্মৃতির পটে। খানসামা গ্রামের কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ গিয়াসউদ্দিন এক দিন হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হলেন। অসহায় মানুষটিকে হাসপাতালে পৌঁছানোর জন্য তার পরিবারের সদস্যরা দিলীপকে ফোন করলেন। এখন তো অনেকের মোবাইলেই তার নম্বরটি আলাদা করে সেভ করা আছে। অনেক বাড়িতে আছে ডায়েরিতে লেখা। গিয়াস সাহেবকে তিনি মনোযোগ দিয়ে গাড়ি চালিয়ে নিয়ে গেলেন চন্দনাইশ উপজেলার বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। ভাড়া পরিশোধ করতে গেলেন রোগীর আত্মীয়রা। তবে করজোড়ে দিলীপের উত্তর, ‘দাদা, আজ বুধবার। এই দিন আমি ভাড়া নিই না; রোগীদের আনা-নেওয়া করি মানুষের সেবা করব বলে।’ সঙ্গে সঙ্গে তারা অবাক। সারা দেশের সব পরিবহন শ্রমিক যেখানে ভাড়ার জন্য তর্ক করেন, সেখানে পয়সা ছেড়ে দিচ্ছেন অন্যরকমের মানুষটি? শ্রমের মজুরি নেওয়ার জন্য তাকে অনেক জোর করলেন। না পেরে তর্কও বাধালেন। তারপরও টলানো গেল না। হাতজোড় করে মাফ চেয়ে চলে গেলেন তিনি।
তার এই ভালোবাসার স্বীকৃতি দিয়েছেন আরও অনেক মানুষ। পাশের পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও গ্রামের চন্দন শীলের মনে পড়ে, ‘আমার ছেলেটি নিউমোনিয়ায় ভুগছিল। এক রাতে তার শ্বাসকষ্ট খুব বেড়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে দিলীপদাকে ফোন করলাম। তিনি সিএনজি নিয়ে এসে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলেন। তবে চিকিৎসকরা অবস্থা গুরুতর বলে সন্তানকে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের মা ও শিশু স্বাস্থ্য হাসপাতালে রেফার করলেন। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করে তাকে এবং আমাদের সেখানেও নিয়ে গেলেন। ছেলেটি ভর্তি হলো। এখন সে ভালো আছে। তিনি না থাকলে আমার ছেলেটি বাঁচত না। এই ঋণ কোনো দিন ভুলব না।’
গত পাঁচ বছরে ৮৮ জন ডেলিভারি রোগী বা সন্তান জন্মদানের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে যাওয়া মা; ৪০ জন স্ট্রোকের রোগী এবং ২৮টি মরদেহ হাসপাতালে ভর্তি ও সেসব জায়গা থেকে নিয়ে এসেছেন তিনি। ৫০০-এর বেশি নানা রোগে ভোগা সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হতে সাহায্য করেছেন। আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর গ্রামের খানসামা, গুজরা, ইছাখাল, মালঘর, পীরখাইন, কুনির বিল, ইইলধর ও তেকাটা; পাশের পরৈকোড়া ইউনিয়নের ওষখাইন, মামুরখাইন, পাঠানিকোটা পরৈকোড়া, কৈখাইন, কালীগঞ্জ, ভিংরোল, তালসরা শিলালিয়া গ্রাম; পটিয়া উপজেলার গ্রামগুলো থেকে রোগীদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং প্রয়োজনে নিয়ে আসছেন।
মানবসেবার অনন্য উদ্যোগে গ্রামের সাধারণ এই সিএনজিচালককে সম্মান জানাতে ভুল করেননি পুরো চট্টগ্রামের মানুষ। তাদের উপজেলার চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী প্রদান করেছেন প্রত্যয়নপত্র। আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন। আশপাশের কয়েকটি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন প্রত্যয়নপত্র দিয়ে সম্মান জানিয়েছে। প্রতি বুধবার উপজেলার কালীগঞ্জ গ্রামের গেরারি সিএনজি স্টেশন মালিক তাকে বিনা খরচে ৫০ পয়েন্ট গ্যাস দেন। যত দিন তিনি এই কাজ করবেন, তারা গ্যাস এভাবে উপহার দিয়ে যাবেন। আনোয়ারার বরমচড়া সচেতন নাগরিক ফোরাম এ বছরের ২৬ এপ্রিল চট্টগ্রাম শহরের ওয়াসার মোড়ের অলিভ রেস্তোরাঁতে দিলীপকে সংবর্ধনা দিয়েছেন। প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগের ‘ইন্সপেক্টর ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার’র ইনস্ট্রাক্টর আবদুল মতিন চৌধুরী। অনেক মান্যগণ্যের উপস্থিতিতে তারা শহরের রেস্তোরাঁয় আপ্যায়ন করে ক্রেস্ট দিয়ে তাকে স্বীকৃতি জানিয়েছেন। পরদিন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে শহরের ‘স্বপ্নের যাত্রী’ নামের সামাজিক সংস্থা তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তাকে সংবর্ধনা দিয়েছেন। উপস্থিত ছিলেন খোদ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আজম নাসির উদ্দিন। তিনি তাকে ক্রেস্ট প্রদান করে নিজেও সম্মানিত হয়েছেন।
দিলীপের ব্যথা আছে অনেক। বললেন, ‘গ্রামের অটোরিকশা হিসেবে নিবন্ধন করা বলে শহরে রোগী নিয়ে গেলেই পুলিশে ধরে। অনেক জেরা করে, ভয় দেখায়। একবার চট্টগ্রাম শহরের ঘাটনা এলাকার চামড়ার গুদাম এলাকায় এক অফিসার বলেছিলেন, ‘মানুষের তো অনেক উপকার করেছো, এবার আমাদের উপকার করো। রোগী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নামিয়ে তার নির্দেশে পুলিশের ডিউটি দিতে হয়েছে।’ তারপরও তিনি থামেন না। আনোয়ারা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, গুজরা গ্রামের মানুষ মোহাম্মদ ইসমাঈল বললেন, ‘নিউমোনিয়ার রোগী আমার ছেলেটি বছর-দেড়েক আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছিল। পরে সে রোগে মারা গেছে। অনেক অটোরিকশাচালককে শিশুটির লাশ বাড়িতে নিয়ে দাফনের জন্য কাকুতি-মিনতি করেছি। তারা কেউ অপয়া, গাড়ি নষ্ট হবে বলে নেননি। পরে দিলীপকে না জানিয়ে তার গাড়িতে ছেলেকে নিয়ে উঠেছি। সে এলাকার লোক বলে না করতে পারেনি। বাড়িতে ফিরে লাশ দেখে ওর মাসহ সবাই কান্না শুরু করলেন। তখন দিলীপও কাঁদতে লাগল। বলল, ‘দাদা আগে বলেননি কেন? লাশ বহন করাই তো আমার কাজ।’ সেই থেকে ‘রোগী বন্ধু’ নামে পরিচিত মানুষটির সঙ্গে ভালোবাসা বেড়েছে।” আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু জাহিদ মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন বললেন, ‘বুধবার এলেই আমাদের হাসপাতালে দিলীপদার গাড়িতে অনেক রোগী ভর্তি হতে আসেন। অনেকে বাড়ি ফিরে যান। তাই তাকে সবাই চেনেন ও সহযোগিতা করেন। তার মতো পরোপকারী এই সমাজের পরিবর্তনের নায়ক।’ উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাষ্য, ‘ভাড়া ছাড়াই প্রতি বুধবার প্রত্যন্ত গ্রামে পৌঁছান তিনি। তার মতো মানুষের জন্যই সমাজ এখনো ভালো আছে।’
মন বদলেছে পরিস্থিতি বদলানোয়, স্বামী মানুষের স্বীকৃতি পাওয়ায় স্ত্রী শিপ্রা দাশের, ‘লাশ পরিবহন করেন বলে রাতে ফিরে এলে, দিনেও আমাদের গাড়ি ধুয়ে দিতে হয়। আমাকে তখন হাত লাগাতে হয়। প্রথমে বিরক্ত হতাম। মানুষটির তো জাত-পাতের, হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধের ভেদাভেদ নেই। ঝগড়াও করেছি কয়েকবার। অভাবে নুন-ভাত খাই। এই অবস্থাতেও তাকে কোনো দিন টলানো যায়নি। আস্তে আস্তে পুরো গ্রামের, উপজেলারও মুসলমান, হিন্দু সবাই তাকে সম্মান করা শুরু করলেন। এরপর থেকে গলে যাওয়া শুরু করলাম। এখন গাড়ি ধুয়ে দিতে; রোগীদের বমি, রক্ত, লাশের গন্ধ মুছতে খারাপ লাগে না। এই গাড়িই তো আমাদের স্বর্গ। তিনি আমার ‘পতি দেবতা’। কাজগুলো করতে ভালো লাগে।”
২০১৪ সালের ২৬ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত প্রতি মঙ্গলবার রাত ১২টার পর বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত মোবাইল ফোন নিয়ম করে যত কষ্টই হোক খোলা রাখেন দিলীপ। যখনই ফোন আসে, ছুটে চলে যান। নিজের হাতে, কাঁধে রোগীকে সিএনজিতে তোলেন। তার শরীর ও মন বুঝে গাড়ি চালান। তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে সাহায্য করেন। নিজের হাতে লাশ তোলেন ও নামান। তাতেই তার পরম শান্তি। লাশ বহনের পর অনেক সময়ই শরীর খারাপ হয়ে যায়। সেদিন আর গাড়ি ধুয়ে বাড়ি থেকে বেরোতে পারেন না। তাদের স্বজনের কান্নাও চোখে ভাসে। তবে আরও অনেক শান্তির মধ্যে দিলীপ কুমার দাশের পরম প্রাপ্তি, কাজগুলো করেন বলে গেল পাঁচ বছরে এক দিনও কোনো অসুখ, বিসুখ বাঁধেনি শরীরে। গ্যাস্ট্রিক বা জ্বরে কোনো লক্ষণই পাননি।
নিজের এই কাজ গর্বের সঙ্গে উদ্যাপনও করেন। প্রথম বছর থেকেই ২৬ মার্চ বর্ষপূর্তি করে বাড়িতে বিরিয়ানি রান্না করে সবাইকে নিয়ে খান। পরে আত্মীয় ও আনোয়ারা সদরের জয়কালী বাজার, ভিংরোল, সাত্তার হাট ও মালঘর বাজার স্টেশনের অন্য অটোরিকশাচালক বন্ধুরাও যোগ দিয়েছেন আমন্ত্রণে। এবারও অনেককেই নিজের খরচে খাইয়েছেন। মানা করলেও শোনেন না। এক কাজে থাকেন না। অষ্টম শ্রেণি পাস মানুষটির বড় ছেলে রাজীব দাশ এসএসসি পাস। এখন চট্টগ্রাম শহরের হাজারি লেনের স্বর্ণের দোকানের শিক্ষানবিশ কারিগর। মেজো ছেলে সাগর দাশ প্রাথমিকের শেখাপড়া শেষ করতে পেরেছেন। উপজেলার সিএনজি স্টেশনের শ্রমিক। মেয়ে মিতু রানী দাশের বিয়ে দিয়েছেন। পাঁচ শতকের পৈতৃক জমি ভাগে পেয়েছিলেন তাদের বাবা। সেটুকু ও সেই ভিটেটি ছাড়া নিজে আর কিছু করতে পারেননি। মাসে তার সিএনজি চালিয়ে আয় মাত্র ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা।